জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পানিবিষয়ক চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর

ঠিকানা রিপোর্ট: গত ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধির কাছে পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল (এইচএলপিডব্লিউ) -এর সদস্যবৃন্দের প্রতিনিধিগণ পানি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের উপর তাদের সুপারিশ সম্বলিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের অফিস কক্ষে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় এইচএলপিডব্লিউ এর অন্যান্য সদস্যদের প্রতিনিধিগণের সাথে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্যানেল সদস্য শেখ হাসিনার পক্ষে এইচএলপিডব্লিউ এর এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দের পক্ষে আজ আমরা যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করলাম তা সরকারসমূহ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এসডিজি বাস্তবায়ন এবং সকলের জন্য ‘পানি-নিরাপদ’ পৃথিবী গড়ার ক্ষেত্রে পানি সংক্রান্ত অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণে পথ দেখাবে”।

পানি ও পরিবেশ সবসময়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মর্মে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকলের জন্য নিরাপদ খাবার পানি ও নিরাপদ পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ১৬০ মিলিয়নেরও অধিক মানুষের এই বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি মানুষের জন্যই নিরাপদ খাবার পানির সংস্থান করা হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য সরাসরি নিরাপদ খাবার পানির সংস্থান নিশ্চিত করা”।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ আরও উল্লেখ করেন, মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার বাহন হিসেবে নিরাপদ পানির প্রাপ্তিকে বাংলাদেশ সবসময় একটি অধিকার হিসেবে মূল্য দিয়ে আসছে। প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের নেতৃবৃন্দের প্রতিশ্রুতি, দিক-নির্দেশনা ও কঠোর পরিশ্রমেরও তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনবরত দুর্যোগের মত বিষয়গুলো বিশ্বব্যাপী নিরাপদ পানির সঙ্কটকে বহুগুণে বাড়িয়েছে মর্মে উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব নিশ্চিয়তা দেন, পানি সংক্রান্ত কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে এইচএলপিডব্লিউ নেতৃবৃন্দ প্রণীত এই প্রস্তাবনাসমূহ জাতিসংঘ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহও জাতীয় পর্যায়ে পানি সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই সুপারিশমালা থেকে দিক-নির্দেশনা গ্রহণ করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।