জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন বঙ্গবন্ধু

মতবিনিময় সভায় কবি কামাল চৌধুরী

ঠিকানা রিপোর্ট: এশিয়ার রাজনীতিতে বাঙালিদের অনেক অবদান আছে। অনেকেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু বাঙালির কোন জাতি- রাষ্ট্র ছিলো না। জাতি- রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গত ৭ সেপ্টেম্বর মুজিব বর্ষ উদযাপন পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব কবি কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী (কবি কামাল চৌধুরী) প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।

মুজিব বর্ষ উদযাপন পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের আহবায়ক কবি মিশুক সেলিমের সভাপতিত্বে এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সদস্য সচিব শিবলী সাদিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়েজুন্নেসা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্যাহ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক কবি আবু রায়হান, মুজিব বর্ষ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবু, জাতিসংঘে বাংলাদেশে প্রেসমিনিস্টার নূরে এলাহি মিনা, মঞ্জুরুল আলম। আরো বক্তব্য রাখেন কবি ফকির ইলিয়াস।

কবি কামাল চৌধুরী বলেন, এশিয়ার রাজনীতিতে বাঙালিদের অনেক অবদান আছে। অনেকেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু বাঙালির কোন জাতি- রাষ্ট্র ছিলো না। জাতি- রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আরো বলেন, মানুষকে সম্পৃক্ত এবং যোগাযোগ স্থাপনের উত্তম মাধ্যম হচ্ছে ভাষা এবং সংস্কৃতি। যে কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালনে বই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে আরো গণ্যমান্য বক্তিবর্গকে সম্পৃক্ত করার আহবান জানান তিনি।

সৈয়দ মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, মতবিনিময় সভা যেভাবে হওয়া উচিত এটা সেইভাবে করা হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনেক দলিল প্রবাসের মিডিয়ায় রয়েছে, অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে সেইগুলো সংগ্রহ করে বই আকারে প্রকাশ করা উচিত বা সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দেয়া উচিত।

কবি মিশুক সেলিম সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বই মেলার সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই বই মেলার উদ্বোধন করবেন উপন্যাসিক আনিসুল হক। অর্ডার দেয়া হয়েছে ১০০টি মুজিব কোট। থাকছে গেঞ্জি। তিনি বলেন, বই মেলা উদ্বোধনের আগে র‌্যালি বের করা হবে। বিভিন্ন কমিটি করা হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধু পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রবাসের কবি, সাহিত্যিক এবং লেখকদের নিয়ে টিম গঠন করে এবং গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করা। সেই সাথে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধুর বই সরবরাহ করা।

কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, এই প্রবাসে আমরা অনেক উত্থান পতন দেখিছি। আনেক আন্দোলন- সংগ্রাম করেছি। কিন্তু জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনুষ্ঠানে কেন রাজকারকে দিয়ে কবিতা পড়ানো হয়? তিনি বলেন, আমাদের মধ্যেও অনেক রাজাকার এসে যোগ দিয়েছেন। অনেকের সাথে অনেকের সখ্যতা রয়েছে। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- আওলাদে রাজাকারদের এখানে দেখতে চাই না।

নুরুল আমিন বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন করে বাংলাদেশ সাজছে। সেইভাবেই আমরা প্রবাসে আমাদের কম্যুনিটিকে সাজাতে চাই। বাংলাদেশ এবং কম্যুনিটির উন্নয়ন করতে হলে জাতির পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন ছাড়া সেটা সম্ভব নয়। সেই কারণেই আমরা জাতির পিতাকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, আমরা যাত্রা শুরু করেছি বা ক্ষেত্র তৈরি করছি। এখনো পুরোপুরি কমিটি করা হয়নি। যারা যোগ্য এবং মুজিব আদর্শের সৈনিক তাদের নিয়েই কমিটি করা হবে।

আবু রায়হান বঙ্গবন্ধু বই মেলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে কবি কামাল চৌধুরী এবং ড. সিদ্দিকুর রহমানকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। বরণ করে নেন মুজিব বর্ষ উদযাপন পরিষদের নান্টু মিয়া, সুমন রহমান, মাহফুজুর রহমান, পপি চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।