জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬ পাচ্ছেন যারা

দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীদের ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬’ প্রদান করা হবে অচিরেই। গত ২৯ মার্চ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬’-এর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ২০১৬ সালে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিভাগে সেরাদের চূড়ান্ত নামের তালিকা ঘোষিত হয়। এবার সেরা অভিনেত্রী হিসেবে যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ও কুসুম শিকদার। ‘অস্তিত্ব’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিশা ও ‘শঙ্খচিল’-এর জন্য কুসুম শিকদারকে সেরা অভিনেত্রী নির্বাচন করা হয়েছে। আর সেরা কণ্ঠশিল্পী ‘কৃষ্ণপক্ষ’র জন্য নির্বাচিত হয়েছেন শাওন।
এবার ‘আয়নাবাজি’, ‘শঙ্খচিল’, ‘অজ্ঞাতনামা’ এবং ‘কৃষ্ণপক্ষ’ এই চারটি ছবি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬-এর বেশির ভাগ পদক পেতে যাচ্ছে বলে জানা যায়। ২৮টির মধ্যে এবার ২৫টি বিভাগে পুরস্কার দেয়া হবে। শ্রেষ্ঠ গায়িকা, শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনয়শিল্পী এবং শিশুশিল্পী (বিশেষ) এই ৩ বিভাগে কোনো শিল্পী যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হননি বলে জানা গেছে। প্রস্তাবকৃত শিল্পীদের নামের তালিকা অনুযায়ী ফরিদা আক্তার ববিতা ও আকবর হোসেন পাঠান ফারুককে যুগ্মভাবে দেয়া হবে আজীবন সম্মাননা। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে ‘অজ্ঞাতনামা’র জন্য রয়েছে ফরিদুর রেজা সাগরের নাম। অমিতাভ রেজা চৌধুরী তার ‘আয়নাবাজি’র জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে রয়েছেন সেরা পরিচালকের সম্ভাব্য তালিকায়। প্রধান চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে ‘আয়নাবাজি’র জন্য চঞ্চল চৌধুরী ও ‘অস্তিত্ব’র জন্য তিশা প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী বিভাগের সেরা হিসেবে প্রস্তাবিত হয়েছেন। পার্শ্ব চরিত্রের সেরা অভিনেতা হিসেবে যৌথভাবে আলীরাজ ও ফজলুর রহমান বাবুর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে পার্শ্ব চরিত্রের সেরা অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ ‘কৃষ্ণপক্ষ’র জন্য। ‘অজ্ঞাতনামা’র জন্য সেরা খল চরিত্রের অভিনেতা চূড়ান্তভাবে শহীদুজ্জামান সেলিমের নাম রয়েছে। শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে ইমন সাহার নাম, ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’র জন্য। ‘দর্পণ বিসর্জন’-এ ‘অমৃত মেঘের বারি’ গানের জন্য সৈয়দ ওয়াকিল আহাদ রয়েছেন মুখ্য বিবেচনায়। মেয়েটি এখন কোথায় যাবে সিনেমার ‘বিধিরে ও বিধি বিধি’ গানের জন্য গীতিকার হিসেবে গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও একই ছবির একই গানের জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে ইমন সাহার নাম এসেছে প্রস্তাবনায়। ‘অজ্ঞাতনামা’র জন্য সেরা কাহিনীকার তৌকীর আহমেদ এবং ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’-এর জন্য রুবাইয়াত হোসেন পেয়েছেন সেরা চিত্রনাট্যকারের মনোনয়ন। যুগ্মভাবে অনম বিশ্বাস ও আদনান আদীব খান শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা বিভাগে সেরা হতে পারেন। শ্রেষ্ঠ সম্পাদক ইকবাল আহসানুল কবির (আয়নাবাজি), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ (শঙ্খচিল), সেরা চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান (আয়নাবাজি), রিপন নাথ সেরা শব্দগ্রাহক (আয়নাবাজি), শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা বিভাগে সাত্তার (নিয়তি) এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান বিভাগে মানিক (আন্ডার কনস্ট্রাকশন) আছেন বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনায়। জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সেটি প্রকাশ করা হবে গেজেট আকারে। এরপর বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।