জাতীয় পার্টিতে সংকট তীব্রতর

নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় পার্টিতে নেতৃত্ব নিয়ে সংকট তীব্রতর হয়েছে। রংপুর-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সংকট আসন্ন। তারপর রয়েছে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন এবং মূল দলের চেয়ারম্যান নির্বাচন। দ্বন্দ্ব-বিরোধ মূলত রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরকে কেন্দ্র করে।
জাতীয় পার্টির একাধিক নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রওশন এরশাদ একান্তভাবে চান এরশাদের পুত্র রাহগীর আল মাহি শাদ এরশাদকে রংপুরে এরশাদের আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া। শাদকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করে আনা এবং দলের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত করার ঐকান্তিক আকাক্সক্ষা রওশনের। রংপুর-৩ আসনে মনোনয়ন প্রার্থী এরশাদ পরিবারের আরো ছয়জন। এদের প্রতিযোগিতার সামনে দলীয় লোকজন ক‚লকিনারা পাচ্ছেন না। এরশাদের ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে এবং জীবদ্দশায় তার একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালনকারী মেজর (অব.) খালেদ আখতার এ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। এরশাদের ব্যক্তিগত নানা অপকর্মের প্রধান সহযোগী এই খালেদ পার্টির প্রেসিডিয়ামেরও সদস্য। শতকোটি টাকার মালিক এই অবসরপ্রাপ্ত মেজর এরশাদের জীবদ্দশায় দোর্দণ্ড, প্রতাপশালী, প্রভাবশালী হলেও এখন গুরুত্বহীন। তার শক্তি এখন জি এম কাদের। এরশাদের আসনে ভাগিনা ও ভাইপোও মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং নানাভাবে জোর তৎপর চালাচ্ছেন। রওশন শাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাদকে মনোনয়ন দেওয়া না হলে তাকে দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী করানোর হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে জি এম কাদেরসহ জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ড শাদকে মনোনয়ন না দেওয়ার পক্ষে। পার্টিতে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাকে মনোনয়ন দিয়ে এমপি করার পর সামনে বড় রকমের সাংগঠনিক ঝামেলার আশঙ্কা কেন্দ্রীয় অনেক নেতার। কিন্তু রওশন শাদের ব্যাপারে অনমনীয়। পার্টিতে যারা শাদের বিপক্ষে রওশনের সামনে তারাও মুখ খোলার সাহস পান না। রওশনের কাছে গেলে এই নেতারা রওশনের সন্তুষ্টির জন্য কথা বলেন। পার্টির ফোরামে, একান্তে বলেন ভিন্ন কথা। অপরদিকে পার্টির সংসদীয় কমিটির দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সদস্য রওশনের পক্ষে নন। তারা মনে করেন, দল ও রাজনীতির স্বার্থেই রওশনের স্থলে জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতার পদে আনা জরুরি। গত মেয়াদে সংসদে রওশন এরশাদের ভূমিকায় তারা সন্তুষ্ট নন। সরকারের সমালোচনা ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। কার্যকর বলিষ্ঠ বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টি সম্পর্কে সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে অত্যন্ত বিরূপ ধারণা হয়েছে। তারা মনে করেন, সেই রওশনকেই আবার সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব দেওয়া হলে পার্টি অধিকতর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রওশন ও জি এম কাদের পারিবারিকভাবে সমঝোতায় এসেছিলেন যে, জি এম কাদের পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। বিনিময়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে রওশনকে মেনে নেবেন কাদের। পারিবারিকভাবে সমঝোতা হলেও সাংগঠনিক, রাজনৈতিকভাবে কাদের ভিন্নতর ভূমিকা নেন। প্রেসিডিয়ামে ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা কাদেরবিরোধী ছিলেন, তিনি তাদের প্রায় সবার সঙ্গেই সমঝোতায় আসেন। এই নেতারাও উপলব্ধি করছেন যে, ৮১ বছর বয়স্ক, শারীরিকভাবে অক্ষম রওশনকে দিয়ে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। সংসদে অতীত ভূমিকার প্রেক্ষাপটে তাকে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে অধিষ্ঠান দেওয়া হলে তাতে তাদের ও পার্টির ক্ষতিই ত্বরান্বিত করা হবে। তারা সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রওশনের স্থলে কাদেরকে নির্বাচিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সাদকে রংপুরে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে ভাবি-দেবরের মধ্যে একটা আপসরফার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শাদকে দলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা দলটির জন্য অশনিসংকেত হয়েই থাকবে।