জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকদের সরকারের বাইরে রাখার নেপথ্যে

নিজস্ব প্রতিনিধি : গত মেয়াদে দুই খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমদ ও রাশেদ খান মেননকে মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পর তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তাদের শপথ নেওয়ার খবর জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আগে কথা না বলে আমলার মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা তারা অমর্যাদাকর মনে করে শপথ নেওয়া হতে বিরত থাকেন। পরে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী তাদের ডেকে পরামর্শ করার পর তারা মন্ত্রিসভায় এসেছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্পর্শকাতর এ বিষয়টি গুরুত্ববাহী। এবার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং মন্ত্রিসভায় সম্পৃক্ত না হওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগের প্রবীণ অভিজ্ঞদের মন্ত্রিসভায় আপাতত না নেওয়ার বিষয়েও কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কয়েকজনকে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যথেষ্ট যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও শেখ সেলিম, লিটন চৌধুরী, শেখ তাপস, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফকে সরকারে না নেওয়ার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন বলে জানান। কোনো নিকটাত্মীয়কে মন্ত্রিসভায় না নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকতে চান।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ১৪ দলের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের ডেকে মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব না রাখা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদ (ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জেপি (মঞ্জু) প্রধান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাসদ (আম্বিয়া) ন্যাপ, সাম্যবাদী দলের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী এবং আগামী দিনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভাবনীয় নেতিবাচক ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে-বিদেশে তাদের রাজনৈতিক কৌশল কী হতে পারে এবং সরকার, সরকারি দল ও সমমনারা কোন পথে তাদের মোকাবিলা করবে, এ নিয়ে আলোচনা করা হয়। ঐক্যফ্রন্ট সদস্যরা সংসদে নাও আসতে পারে, এলেও এত দুর্বল প্রতিনিধিত্বে সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগের বিশাল সংখ্যাধিক্যের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নগণ্য সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি সংসদকে রীতিমতো একদলীয় প্রতীয়মান করবে, যা সরকার এবং দেশ-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সরকারের সমালোচনার জন্য কার্যকর বিরোধী দলের উপস্থিতির গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট সবাই বিবেচনায় আনেন। মূলত যে কারণে ১৪ দলের শরিকদের সরকারে না এসে সংসদে পৃথক দলীয় অবস্থানে থেকে সরকারবিরোধী, সরকারের সমালোচনা সংসদ ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অনেক বেশি উপযোগী ও কার্যকর হবে বলে মত প্রকাশ করা যায়। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের সদিচ্ছা থাকলেও বিদ্যমান ও আগামী দিনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচেনায় সরকারে না এসে সংসদে দলগতভাবে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে একমত হন। একই কারণে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে বলা হয়। জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরাসহ এমপিদের সবাই সরকারের অংশীদার হওয়ার পক্ষে ছিলেন। পার্টির ভাবমূর্তি উদ্ধার করার পাশাপাশি সরকারকে সহায়তা করার এবং বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে জাতীয় পার্টি সরকারে যোগদানের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।