জানা অজানা শেখ হাসিনা

বিশেষ ক্রোড়পত্রের প্রচ্ছদ

শরীফা খন্দকার

আমি ও আমার স্কুলপড়ুয়া একগুচ্ছ বন্ধুর ষাটের দশকের মধ্যভাগ শুরু হওয়ার আগে যখন হাসিনা শেখ নামের একটি তরুণীর কথা প্রথম শুনি তিনি অধ্যয়নরত ঢাকার ইডেন কলেজে।
আমাদের শহরের মেয়েরা মুষ্টিমেয় হলেও তখন শুধু মেডিকেল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া নয়Ñ স্কুলের পর্ব শেষ করেই কলেজে ভর্তি হতে ঢাকায় পাড়ি দেওয়া শুরু করেছে। পাশের বাড়ি থেকে বেবি রুবি নামে দুবোন একই সাথে এসএসসি পাস করে মেয়েদের স্বনামখ্যাত মহিলা কলেজ ইডেনে পড়তে ঢাকা শহরে চলে গেল। ওরা ছুটিতে বাড়ি এলে যে রাজধানীর বুকের ভাষা আমাদের অজানা- যে অবাক করা শহর আমরা দেখিনি তার বেবি আইসক্রিম বেবি ট্যাক্সি কত কিছুরই গল্প শোনায় বেবি রুবীরা। সেই সাথে আরো শোনায় তাদের ইডেন কলেজের।
যদিও ভর্তি হওয়ার পরপর ওরা প্রথমবার বাড়ি ফিরে বলেছিল ইডেনের উচ্চমাধ্যমিক অংশটির নাম হচ্ছে ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। বিদ্যানিকেতনটি ১৯৪৮ সালে ইডেন কলেজের অধীনে উচ্চমাধ্যমিক কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল।
উল্লেখ্য, পরে স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়ার পর এই কলেজের নামকরণ হয় সে সময় প্রয়াত খ্যাতনামা আওয়ামী লীগ নেত্রীর নাম অনুসারে বদরুন্নেসা কলেজ।
বেবি রুবি ছুটিতে বাড়ি আসে আমরা যারা খুদে শহর রংপুরে বসবাস করি আর উপরের দিকে হলেও স্কুলেরই ছাত্রী তারা ওদের মুখ থেকে পরম আগ্রহে কলেজের নানা গল্প শুনি। শুনি তদানীন্তন সম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত কলেজ ইলেকশনের গল্প।
কলেজেও আবার নেতা নেত্রী নির্বাচিত হয় নাকি সেটাতো আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারে ছিল না। ওরা জানিয়েছিল হাসিনা শেখ- যে তরুণী ‘হচ্ছে শেখ মুজিবের কন্যা’ ইডেন কলেজের ভিপি হিসেবে সে ইলেক্টেড হয়েছে সেবারের নির্বাচনে। এখনো আমি শিওর নামটি এ রকমই ছিল তখন।
আমাদের বাড়িতে তখন খবরের কাগজের সাথে রাখা হতো ললনা বলে একটি অতি জনপ্রিয় মহিলা পত্রিকা। ললনাতেও এ বিষয়ে একটি সংবাদ দেখলাম সাথে দেখলাম একদল মেয়েকে আসে পাশে নিয়ে ক্ষীণাঙ্গিনী অথচ বেশ বড়সড় চশমা পরা ইডেনের ভিপি হাসিনা শেখের ছবি। তখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিশাল ঝোড়ো হাওয়া আবর্তিত হচ্ছে তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে।
স্কুলছাত্রী হলেও বাসায় রাখা অগ্নিঝরা মানিক মিয়ার দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মাধ্যমে মুজিব সম্পর্কে যাবতীয় সংবাদ পড়া হতো আগ্রহ সহকারে। পড়া হতো তার ছয় দফা- বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়া মুজিবের সুবিশাল মিছিল মিটিং তার গ্রেফতার নিয়ে খবর। ইত্তেফাক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হলো। লোকমুখে খবর আসে আওয়ামী লীগ অফিসের সেসময় কাক পক্ষীর পর্যন্ত বসার দুঃসাহস নেই।

মুজিব কন্যা ছাত্র নেত্রী হাসিনা শেখের খবর তখনকার মতো সেখানেই হয়েছিল সমাপ্ত। কারণ ওই বেবি রুবিরা কবে যেন পরিবার শুদ্ধ পাকাপাকি ভাবে চলে গিয়েছিল ঢাকায়। দোর্দণ্ডপ্রতাপ রাজনীতিবিদ পিতার কন্যা হাসিনা শেখের কোনোরকম খবর দেয়ার জন্য আশপাশে আর কেউ ছিল না রংপুরে।
সেই সময়ের না জানা কথাগুলো বহুবছর পর জানলাম সম্ভবত ১৯৯১ সালে তার স্বামী এম এ ওয়াজেদের সুবিখ্যাত বইটিতে। যেখানে তিনি লিখেছেন- যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো বিয়ের জন্য কেমন মেয়ে তার পছন্দ তখন তরুণ বিজ্ঞানীর উত্তর ছিল ‘মেয়েকে আনস্মার্ট কিংবা কোটিপতির কন্যা হওয়া চলবে না। সেই রকম এক মেয়েকে পাত্র যখন দেখলেন যে মুহূর্তে কলেজ ফেরত পাত্রী এ ঘটনাটির কিছুই অবগত নয়। সে ঘরে ঢুকেই বলেছিল ‘বা বা কিছুক্ষণ আগে কলেজ সংসদের সহসভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করে আমি মুক্ত হলাম! সহসভাপতির হস্তান্তর নয় কেবল এরপরেই তার সংসার জীবনে প্রবেশ।
তবে এক দিন গল্পে শোনা ইডেন ভিপির হাসিনা শেখের ঠিকানা রাজনৈতিক অঙ্গন না হয়ে হয়ে যাবে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ নামে জায়গাটির ফতেপুরে গ্রাম হয়ে যাবে সে অভাবনীয় সংবাদটি কে জানত। আমার নানা-নানীর দেশের বাড়ি পীরগঞ্জ, সেখানের ফতেপুর থেকে হঠাৎ খবর নিয়ে এলেন এক আত্মীয়- আমাদের কাদের মিঞার দোর্দাণ্ড মেধাবী পিএইচডি ছেলে ড. ওয়াজেদ মানে আমাদের সুধা মিয়ার সাথে শেখ মজিবরের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল ঢাকায়।
মুখ হাঁ করে কেউ একজন বললেন
-কিভাবে হলো?
এমন প্রশ্নে সংবাদ বাহক বললেন- শেখ সাহেব যখন জেলখানায় তখন এফ এইচ হলের ভিপি থাকাকালীন সুধা মিঞাকে অত্যন্ত পছন্দ করতেন তিনি। সম্বন্ধটা ঠিক করেছেন আমাদের জাপানি মতিয়ার সাহেব।
উল্লেখ্য, সেসময় ঢাকা চেম্বার্স এন্ড কমার্স প্রেসিডেন্ট ছিলেন পীরগঞ্জের মতিয়ার রহমান যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ দলের একজন প্রভাবশালী সদস্য- দেশ স্বাধীনের পর হয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। জাপানের সাথে তার ব্যবসা থাকার কারণে জাপান ভ্রমণ নিয়ে এলাকায় লোকমুখে তিনি এই নামে পরিচিত ছিলেন। কারণ ওখানে ছিলেন আরো কয়েকজন মতিয়ার রহমান।
পীরগঞ্জের মানুষেরা ধনী মানি জোতদার কাদের মিয়ার বংশ কে চেনেন জানেন দীর্ঘদিন ধরে সেই সাথে তারা শিক্ষিত ঘর। ওয়াজেদ ওরফে সুধাতো ছাত্র হিসেবে ছিল তুখোড়। লন্ডন থেকে পিএইচডি করেছে- পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জিতে সে সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। আত্মীয়ের কাছ থেকে আরো জানা গেল শেখের মেয়েকে বিবাহের সাথে সাথে শ্বশুরবাড়ি আনা সম্ভব হয়নি। কারণ তার পিতা শেখ মজিবর জেলে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়ে সম্প্রদান হয় কিভাবে?
দেশ জোড়া সবাই জানেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জেল বন্দী করে মুজিবকে পাকিস্তানিরা চড়াতে চাইছে ফাঁসির দড়িতে।
গণ-আন্দোলের মাধ্যমে মুজিবের মুক্তি আনল দেশবাসী।
এরপরই নানা হইচইয়ের মধ্য দিয়ে বধূবরণের জন্য কাদের মিঞার ঘরবাড়ি নতুন করে সাজানো গোছানো শুরু হলো।
সেটাতো ডিজিটাল এজ ছিল না তার পরেও গ্রামের মানুষের মুখে মুখে শেখের মেয়ের শ্বশুরবাড়ি আগমনের খবর এখনকার ভাষায় ভাইরাল হয় সারা গ্রামে- সেখান থেকে ভেসে আসে রংপুরের পীরগঞ্জ নিবাসী বাড়িতে বাড়িতে। সুধা মিয়াদের আত্মীয়বর্গ- যারা সে বাড়ির হাঁড়ির খবর রাখেন তারা সে সময়ের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বিশেষত মেয়েরা কেউ কেউ দম রাখতে পারেন না। সে রকম এক মেয়ের কাছে খবর পাওয়া গেল শেখ মজিবরের মেয়ে- তাদের সুধার ভাইয়ের নতুন বৌ শ্বশুরবাড়িতে প্রথম এসেই কোমরে আঁচল বেঁধে ঢুকে পড়েছে পাকশালে।
একসময়ের সম্পন্ন ওই জোতদার পরিবারের অন্য বৌঝিদের মধ্যে কখনো উনুনের আগুনের পাশে যাওয়ার রীতি নেই তখনো। এক দুই করে এ রকম আরো কারো কারো কাছে আশ্চর্যভাবে আরো জানা গেল শুধু তাই নয়, বৌঝিরা রন্ধনশালায় না ঢোকাকে অগ্রাহ্য করে শেখের মেয়ে নাকি খড়ির চুলায় রান্না শুধু নয়, বাড়ি শুদ্ধ লোককে পর্যন্ত খাওয়াচ্ছে তার সেই অপূর্ব রান্না। আরো অবাক কাণ্ড যেদিন সকালে বাসে করে সুধার স্ত্রী বাপের বাড়ি ঢাকায় রওনা দেয় সেদিনও কি বাদ থাকে? খুব ভোর ভোর উঠে রান্না শেষ করে তবেই তার রেডি হওয়া এবং বাসে করে বিদায় নেওয়া। মনে রাখা ভালো শেখ মুজিব তখন জনগণের অবসংবাদিত নেতা।
অবশ্য ব্যাপারটা ফতেপুর গ্রামের সাধারণ মানুষদের জানবার কথা নয়। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যাদের আসা যাওয়া ছিল সর্বশ্রেণীর মানুষের মুখে মুখে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির খাবার টেবিলের অসংখ্য বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার কত যে কথা আছে। সেবাড়ির মাত্র ২৫-৩০ ফুট বসার ঘরের লাগোয়া খাবার ঘরের রয়েছে অসংখ্য ইতিহাস।
হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস জোছনা ও জননির গল্প উপন্যাসে মজার এক কাহিনী আছে। সময়টা ছিল একাত্তর সালের উত্তাল মার্চ মাস। পাকিস্তানিরা ওই বাড়িতে গুপ্তচর হিসেবে পাঠিয়েছে ডি আইবির একজন বাঙালি পুলিশকে। মুজিব অনেক সকালে তাকে দেখতে পেয়ে যখন জিজ্ঞেস করলেন তার পরিচয় দেয়ার পর সে বলল- কিন্তু স্যার আমি আপনার হুকুমে কাজ যা বলবেন তাই করব।
খুব গম্ভীর হয়ে মার্চের মহানায়ক বললেন, আমি যদি এ বাড়ির তিন তলা থেকে লাফ দিতে বলি?
ডিআইবি বললো- দেব স্যার।
মুজিব তাকে লাফ দেয়ার জন্য সঙ্গে নিয়ে ওপরে যেতে যেতে দোতলার ঘরে ঢুকে খাবার টেবিলে বসতে বসতে বললেন, কামালের মা এ আমার একটা ভাই- আমাদের দুজনকে নাশতা দাও।
শেখ বাড়িতে পুলিশের খাওয়ানোর ঐতিহ্য নিয়ে আমার শোনা এক গল্প এ প্রসঙ্গে বর্ণনা না করে পারছিনা আমার তদানীন্তন অফিসে বসে পুলিশের এক বড় কর্তা কথায় কথায় জানিয়েছিলেন তার অভিজ্ঞতার কথা। এরশাদ আমলে সে সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রধান দুজনেই ছিলেন গৃহবন্দী। তাদের নিরাপত্তায় দুটি পৃথক দল নিয়োজিত ছিল ৩২ নম্বরে এবং ক্যান্টনমেন্টে। পুলিশ দলের মধ্যে যাদের ধানমন্ডিতে ডিউটির তাদের উৎসাহের কমতি ছিল না।
অন্যতম কারণ হলো সেটা ছিল রমজান মাস এবং ইফতারির পবিত্র সময় আসার আগে শেখ হাসিনা নিচে নেমে তদারক করতেন পুলিশ দলের ইফতারির ব্যবস্থাকে। তারপর তিনি নিজে যেতেন আপন ইফতারিতে। তার বক্তব্য অনুসারে বিপরীত প্রান্তে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাসে ইফতারিকালীন সময়ে লাট বেলাটের বাড়িতে ইফতারিকালীন সময়ে চাকর নফরদের হাতে পুলিশ দলের হেনস্তার কথা আজ এখানে লিখতে চাই না। কর্মকর্তা শেখ হাসিনা আরো বলেছিলেন নিজ বাড়িতে শুধু নয়, গৃহবন্দী হওয়ার আগে যখন জেলায় জেলায় সভা করতে যেতেন তখন পৌঁছেই ক্লান্ত পুলিশ দলকে দেখিয়ে আয়োজকদের বলতেন আগে এদের খাবার ব্যবস্থা করুন।
দেশে বিদেশের অগুনিত মানুষের নবাভাই একবার আমন্ত্রিত হয়ে আমাদের নিউইয়র্ক বাড়িতে এসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সম্পর্কে বলেছিলেন তার স্মৃতিকথা। সর্বজন প্রিয় এই রাশেদুল হক নবা ভাই যখন ঢাকায় পর্যটন কর্পোরেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তখন থেকেই তাঁর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। জে এফ কে অথবা আমেরিকার নানা বিমানবন্দর থেকে দেশ-বিদেশে পরিভ্রমণরত নবা ভাইয়ের ফোন আজও আসে আমাদের ল্যান্ড ফোনটিতে। সেই নবা ভাই খাওয়া শেষে বলেছিলেন ওই ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর রোডে বাল্য কৈশোরে তার আহার বিহারের গল্প।
বঙ্গবন্ধুর লাগোয়া বাড়িটি ছিল আমার মামার। বাল্যকালে মামাবাড়িতে নবাব বাদশা আমরা দুইভাই যখন যেতাম তখন সে খেলতে খেলতে বেশির ভাগ সময়ে পাশের বঙ্গবন্ধুর বাড়ির অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে খেলা হতো। ও বাড়ির দুয়ারতো যেন সর্বক্ষণ এক রকম হাট করে খোলা থাকত সবার জন্য। দুপুরে খাবার সময় হলে বঙ্গবন্ধু নিজে এসে হাত ধরে নিয়ে যেতে যেতে ঠাট্টা করে বলতেন- আয় আয় তোর মামাতো একজন কিপ্টে মানুষ তার বাড়িতে আজ ভালো রান্না নিশ্চয়ই হয়নি।
এখানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া ভালো এই বাদশা হলেন পরবর্তীকালে দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর প্রথম প্রেস সেক্রেটারি। আর মামা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
রংপুরের সেইসব দিনে সুধা মিয়ার স্ত্রীর রান্না করা পঞ্চ ব্যাঞ্জনের প্রশংসা শুনেছি পঞ্চমুখে ওই পরিবার ও তার ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অমলে জেলে নিজের বাড়িতে সে বিষয়ে জানার আগ্রহ দমাতে পারলাম না। অবস্থানের বিষয়ে জানার সুযোগ হলো এই নিউইয়র্কে।
লোকে বলে রান্না করা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কেবলমাত্র অবসেশন ছিল শুধু তাই নয়, বাক্যের ভাষায় নাকি ছিলেন রন্ধনে দ্রৌপদী। লোকজন খাওয়ানোয় বঙ্গবন্ধু দম্পতির আনন্দ। সে বাড়িতে নিত্যদিন কত যে মানুষ পাত পেড়েছে তার হিসেবে নেই। দেশ স্বাধীনের পর ওরিয়ানা ফ্যালাসি নামে সে সময়কার মহিলা সাংবাদিক ৩২ নম্বরে গৃহীত নিজ সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রসঙ্গে ক্রিটিক্যালি বয়ান করেছেন মুজিবের স্ত্রী তার কাছে ইন্টারভিউ দিতে এসেছিলেন রন্ধনশালা থেকে বেরিয়ে আঁচলে রান্নার হলুদের দাগ মুছতে মুছতে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একবার নিউইয়র্কের অভিজাত হোটেলে শেখ হাসিনার রান্না করার খবর ছাপা হয়েছিল বাংলা সাপ্তাহিকীগুলোতে। সে রান্না খেয়েছিল সব সফরসঙ্গী এবং প্রবাসের হেনো-তেনারা পর্যন্ত। কিছু কিছু বাংলা পত্রিকায় এ নিয়ে দেখা গেছে নানা কটূক্তি।
মুখে মুখে কোনো কোনো আঁতেল বলেছেন তিনি এরই যোগ্য। এদের পূর্বসূরি নিজদলের উঁচু নাকের কোনো কোনো নেতা তাদের লাল্লুপানজু পর্যন্ত ইংরেজিতে বলতেন ‘সি হ্যাজ টু গো ব্যাক হার কিচেন’।
সে যাই হোক আমার এই লেখাটি যখন শুরু করেছি সে সময়ই পত্রিকায় নজর কাড়ল একটি সংবাদ।
বিশ্বের নারী সরকার প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনায় ভারতের ইন্দিরা গান্ধী, ব্রিটেনের মার্গারেট থ্যাচার ও শ্রীলঙ্কার চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার মতো জনপ্রিয় নেতাদের রেকর্ড ভেঙেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংস্থা উইকিলিকসের সাম্প্রতিক এক জরিপের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া।
কিন্তু কেমন রাঁধেন দুনিয়ার এই সেরা নারী নেত্রী? শেখ বাড়িতে যিনি মানুষ হয়েছেন বেগম মুজিবের বোনের ছেলে সেই শেখ শহীদের কাছ থেকে বছর দুই আগে জানতে চেয়েছিলাম।
আমার কর্তা শেখ শহীদের স্নেহধন্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছে সেই ছাত্রকাল থেকে অদ্যাবধি তার কমতি ঘটেনি। তার সম্পর্কে বিশেষণে সবিশেষ কিছু বলার প্রয়োজন কিছু নেই, আমাদের বাসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রান্না সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন হাসিনা আপার রান্নাতো অসাধারণ। একবার খেলে কেউ ভুলতে পারে না। কিন্তু আমার খালা বেগম মুজিবের রান্নার হাত ছিল অনন্যসাধারণ বলা যায় প্রবাদসম তার কোনো তুলনা হয় না।
লেখক : নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখিকা।