জাপানে ৫০ হাজার জনশক্তি রফতানির প্রক্রিয়া চলছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : জাপানে সাড়ে তিন লাখ জনশক্তি রফতানির সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ সর্বাধিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার কর্মী পাঠাতে পারবে। জাপানি ভাষা শিক্ষাসহ দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে সক্ষমতার অভাবেই বাংলাদেশ এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের সীমাবদ্ধতার কারণে ১২টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নির্বাচন করা হয়েছে জনশক্তিকে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে। নির্মাণ, সেবা, ফ্যাক্টরি, কৃষি, চিকিৎসা, নার্সিং, ইলেকট্রিক্যালসহ ১৪টি খাতে জাপান লোক নেবে। চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, নেপাল, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড থেকে জাপান বছরে প্রায় দুই লাখ দক্ষ জনশক্তি আমদানি করে থাকে। একজন দক্ষ কর্মীর মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। জাপানের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো নিজেদের অর্থে কর্মীদের বিমানে পরিবহন করে থাকে। ভিসা প্রসেসিং, মেডিকেল, বিমান ভাড়াও তারা বহন করে। বেতন থেকে মাসে মাসে তা কেটে নেওয়া হয়। থাকা-খাওয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা জাপানি কোম্পানিই করে। ২০১৭ সালের আগে জাপানে বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোর সুযোগ ছিল না। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশকে জনশক্তি আমদানির তালিকাভুক্ত করে জাপান। কিন্তু বাংলাদেশ সে সুযোগ তেমন একটা ব্যবহার করতে পারেনি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ মাত্র ১৬৩ জন এবং চলতি বছর এ পর্যন্ত ১২০ জনকে জাপানে পাঠাতে পেরেছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বাংলাদেশি কর্মীদের জাপানি ভাষা শিক্ষা ও কাজের প্রশিক্ষণ দিতে যথেষ্ট কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারছে না। এ পর্যন্ত তারা ৯৭০ জনকে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছে। শিক্ষানবিশ কর্মী হিসেবে এরা জাপান যেতে পারবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতার কারণে অধিক সংখ্যায় জনশক্তি রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিয়োজিত করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক এজেন্সি এতে আগ্রহ প্রকাশ করে। জাপানের প্রতিষ্ঠান এসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান প্রশিক্ষণ সুবিধা সরেজমিনে যাচাই করে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়। এই এজেন্সিগুলো কর্মী বাছাই ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছে, বেসরকারি এই কোম্পানিগুলো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএমইটি আগামী তিন বছরে প্রায় ৫০ হাজার জনশক্তি জাপানে রফতানি করতে সক্ষম হবে।