জাপান তিন লক্ষাধিক জনশক্তি নেবে

নিজস্ব প্রতিনিধি : জাপান বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক জনশক্তি নেবে। চলতি অর্থবছর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তারা বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ জনশক্তি আমদানি করবে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকালে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। শিল্পশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক নেবে জাপান। আধা দক্ষ ও দক্ষ শিল্পশ্রমিক ছাড়াও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির জন্য বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নেবে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে দেড় লাখ দক্ষ, আধা দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে তারা। শিল্পকারখানার জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার এবং এক লাখ কৃষি শ্রমিক নেবে। এসব ক্ষেত্রেও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদেশে পাঠানোর আগে কমপক্ষে দেড় মাস বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তারা। বেতন ও সুযোগ-সুবিধা আলোচনার মাধ্যমে স্থির করা হবে। উচ্চ পর্যায়ের এক জাপানি প্রতিনিধিদল আগামী মাসের মধ্যে ঢাকায় আসবে। এ বিষয়গুলো তখনই নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, জাপানে জীবনমাত্র যেমনি উন্নত, মজুরিও বেশি। কর্মক্ষমতা ও কর্মদক্ষতাকে তারা প্রাধান্য দিয়ে থাকে।
জানা যায়, জাপান বাংলাদেশ থেকে আগামী তিন বছরে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চলতি বছরেই লক্ষাধিক জনশক্তির জাপানে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব জনশক্তি পাঠানো হবে, তাদের কাছ থেকে রিক্রুটিং এজেন্ট যাতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ নিতে না পারে, তার নিশ্চয়তা চেয়েছে জাপান। জনশক্তির বিমান ভাড়া, ভিসার ব্যবস্থা জাপানের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিসমূহই করবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তারাই দেবে। পরবর্তী সময়ে তাদের বেতন থেকে মাসিক ভিত্তিতে কেটে নেওয়া হবে।
বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্ট যথাযথভাবে বাছাই করবে জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হতে চায় না। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে কি না সরেজমিনে যাচাই করবে তারা। জাপান বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির স্থলে সরাসরি সরকারিভাবে (জি-টু-জি) ভিত্তিতে লোক নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক জনশক্তি সরবরাহ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে এমনই সংশয় থেকে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে জনশক্তি রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শতাধিক বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে দেনদরবারও শুরু করেছে।
সরকারিভাবে সীমিত পরিমাণ লভ্যাংশ ধরে দেওয়া হবে রিক্রুটিং এজেন্সিকে। কিন্তু তারা তা রক্ষা না করার সম্ভাবনাই প্রবল। ইতিপূর্বে মালয়েশিয়ায় এই পদ্ধতিতে জনশক্তি রফতানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো রিক্রুটিং এজেন্সিই সরকার-নির্ধারিত রেট মেনে চলেনি। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। জাপানে লোক পাঠানোর নামে এখনই এজেন্সিগুলোর দালালরা মাঠে নেমে পড়েছে।