জাপায় তোলপাড় : হবু গৃহপালিতের তালিকায় রব-মান্না-নুর

বিশেষ প্রতিনিধি : আগামীতে বোঝাপড়ার বিরোধী দলে জাতীয় পার্টিও থাকছে না- এমন আভাস পেয়েছে সরকার। বিশ্বাস-অবিশ্বাসে না গিয়ে পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সেখানে ভাবা হচ্ছে আসম রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, নুরুল হক নুর, জুনায়েদ সাকির মতো নেতাদের দিয়ে সম্মিলিত বিরোধী দলের। এরশাদের দল বা নেতাদের চেয়ে বাজারে তাদের ভ্যালু বেশি। তাদেরকে দিয়ে বিরোধী দল সাজালে তা জাপার মতো সমালোচিত হবে না। কেবল দেশে নয়, বিদেশেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা মিলবে।
হালে সরকারবিরোধী তারকা নেতা হিসেবে মাঠ চষছেন তারা। নেপথ্যে মিলছে সরকারি সহায়তা। এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী নেতা হিসেবে আসম রবের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আবার বিরোধী দল থেকে জিতে ৯৬-তে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীও হয়েছিলেন তিনি। মান্নাও কিছুদিন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। নুর তো ছাত্রলীগেরই প্রডাক্ট। বিএনপির কাছেও সরকারের এ চাতুরীর তথ্য রয়েছে। তাই সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে দলটি। চূড়ান্ত অগ্রাহ্য করছে না রব-মান্না-নুরদের। আবার হার্ডকোরেও নিচ্ছে না। তাদের প্রতি বেশ সতর্ক বিএনপির সিনিয়র-জুনিয়র সব মহলের নেতারা। মেলবৈঠক, ওঠাবসা করলেও রাখা হচ্ছে চোখে চোখে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাড়তি আরো কিছু ঘটনার হিসাব কষছে বিএনপি। নিজস্ব লাভালাভ ও সরকারের কাছে পাত্তা কমে যাওয়ায় কিছু হিসাব মেলাচ্ছে জাতীয় পার্টিও।
সরকারের এ ধরনের মতিগতিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতারা। এ গ্রুপের নেতা জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গৃহপালিত বিরোধী দল থেকে একটি স্বাতন্ত্র্য ও সত্যিকারের বিরোধী দল হওয়ার তত্ত্ব নিয়ে ব্যস্ত। কেবল দলের ভেতরে নয়, প্রকাশ্যেও। সংসদে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নীতি, কর্মসূচি, কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন। সংসদের বাইরে দলীয় ফোরামে বলছেন ক্ষুব্ধ ভাষায়। যিনি নিজেও বিরোধী দলে থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিত্ব করেছেন জিএম কাদের, মশিউর রহমান রাঙ্গা, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদদের সঙ্গে।
সম্প্রতি বিপরীত এবং ক্ষুব্ধ ভাষা চুন্নুর। জাতীয় পার্টির সঙ্গে একবার প্রেম করে আওয়ামী লীগ তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। চতুর্থ প্রসব যেন না হয়, জাপা এ ব্যাপারে সতর্ক-এ বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুজিবুল হক চুন্নুর সাম্প্রতিক আরো কিছু বক্তব্য বেশ ইঙ্গিতবহ। আমলারা, ইউএনওরা আনসার নিয়ে ঘোরে, আর এমপিরা বেআক্কেলের মতো ঘোরে-ধরনের মন্তব্যটি আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি দুই দলের ভেতরেই তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার আর কোনো প্রেম নেই’ মন্তব্যকে রাজনৈতিক ভাবতে পারছেন না অনেকে। তাদের প্রয়াত নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের সঙ্গে প্রেমভঙ্গের এমন ঘোষণা বেশ কবার দিলেও একপর্যায়ে তা হাস্যকর এবং চাতুরী বলে প্রমাণিত হয়। কিন্তু হাল প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাই চুন্নুর বক্তব্যগুলো নতুন খোরাক আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলের কাছেই।
চুন্নুর এ ধরনের ভূমিকার মধ্যে রাজনৈতিক চাতুরীর আলামত রয়েছে। এটি বিরোধীমতে বিএনপিকে একচেটিয়া মাঠ না দেওয়ার কৌশল কি না, এ প্রশ্ন ঘুরছে। এটি আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির পাতানো খেলা হতে পারে বলে সন্দেহ বিএনপির। জাতীয় পার্টির একটি অংশ সরকারের অনুগত থেকে চলতে সংকল্পবদ্ধ। সরকারের বাইরে গেলে রাস্তায়ও বের হওয়া যাবে না বলে নিশ্চিত তারা। আরেকটি অংশ চায় অফ চান্সে শক্তিশালী বিরোধী দল হতে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাদের আছেন দুদিকেই। তিনি চান চেয়ারম্যান পদের নিশ্চয়তা। আসম রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাদের নিয়ে সরকার কোনো ছক সাজিয়ে ফেললে জাতীয় পার্টির সামনে দুর্দিন নামবে বলে নিশ্চিত তিনি।