জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচন : নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ঠিকানা রিপোর্ট : প্রবাসের আমব্রেলা সংগঠন হিসাবে খ্যাত জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। সংগঠনের ২ বছর মেয়াদি (গেল ২টার্ম ৩ বছর ছিল) কার্যক্রমের নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৮ জুলাই সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে সদস্য নিবন্ধন করা হয়। জালালাবাদ সংগঠনের সদস্য তিন হাজার ২৮৩ জন, যা ২০১৬ সালের চেয়ে এক হাজারেরও বেশি। এবারের নির্বাচন বিগত সময়ের মতো একতরফা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যদি কাকতালীয়ভাবে কিছু না ঘটে। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হিসাবে (রোববার সকাল ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) জালালাবাদ সমিতির গেল দু’বারের সাবেক সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী। আর কারো নাম তখনও আলোচনায় আসেনি বা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সদস্য পদ নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও দেখা যায়নি। যেসব সদস্য পদ রেজিস্ট্রি হয়, বেশির ভাগই ময়নুল হক চৌধুরী হেলালের ভোট। প্রথমে অনেকে মনে করেছিলেন, ট্রাস্টি বোর্ডেও সাবেক একজন সদস্য হয়তো বর্তমান সভাপতির অনুক‚লে সদস্য পদ নিবন্ধন করছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ সদস্য পদ ময়নুল হক চৌধুরীর জন্য জমা দেয়া হয়। এছাড়া বর্তমান সভাপতি বদরুল হোসেন খানের সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে তখনও নিশ্চিত নন। তার শুভাকাক্সক্ষী, শুভানুধ্যায়ীর সাথে তখন বৈঠক হয়নি। তাদের মতামতের উপর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নির্ভর করবে। অনেকে আবার বদরুল ও বর্তমান কোষাধ্যক্ষ আতাউল গণি আসাদকে প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি করে প্যানেল গঠনের কথা বলাবলি করছেন। আতাউল গণি আসাদ অবশ্য এ সম্ভাব্যতাকে তাসের ঘরের মত উড়িয়ে দেন। বর্তমান সেক্রেটারি জেড চৌধুরী জুয়েল এবারের নির্বাচনে না আসার ব্যাপাওে দৃঢ় রয়েছেন। বরং নতুন নেতৃত্বে এসোসিয়েশন এগিয়ে যাক, এটাই তার প্রত্যাশা। নির্বাচনে সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল প্রার্থিতার ব্যাপারে জালালাবাদকে আরো গতিশীল গণমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জালালাবাদ ভবনের ব্যাপারে তিনি বলেন, সুযোগ-সুবিধা মত স্থান পাওয়া গেলে সে সুযোগকে কাজে লাগাবেন। অযথা অর্থ অপচয় থেকে বিরত থাকবেন।
জালালাবাদের মূল সমস্যা- ভবন সমস্যা। নিজস্ব ভবন নেই। নিজস্ব ভবনের দাবি জালালাবাদবাসীর। দাবি উঠেছিল ফিলাডেলফিয়ার বাড়ি বিক্রি করে এখানে নিজস্ব বাড়ি ক্রয় করা। সে বাড়ি বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া গেছে, তা নিউ ইয়র্কে বাড়ি কেনার জন্য অপ্রতুল। এছাড়া ফান্ড রেইজিংয়ের প্রতিশ্রুত অর্থ পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, বিভিন্ন সময় জালালাবাদের শিল্পপতি, ধনাঢ্য ব্যক্তিদের এনে সম্মান দেয়া হয় ভবনের জন্য অর্থলগ্নি করার জন্য। সেসব ব্যক্তির কাছে নাকি পেছন থেকে সংগঠন ও পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধরা হয়। তখন তারা তাই তখন তা পিছু হটেন।
এছাড়া সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ের মাসিক ভাড়া, গ্যাস-ইলেকট্রিক বিল মাস শেষে গুণতে হয়। এসব অর্থের উৎস তৈরি করতে হবে। কত সময় আর পকেট মানি দিয়ে চলবে। সাধারণ সভায় ফিলাডেলফিয়ার বাড়ি থেকে মাসিক যে ভাড়া পাওয়া যেতো, তা দিয়ে সংগঠনের কাজ অনায়াসে চলতো এবং মাসে আয় হতো। সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে তড়িঘড়ি করে সে বাড়ি বিক্রি করে চলমান আয় বন্ধ হয়ে যায়। এ বাড়ি বিক্রির ব্যাপারে কমিটির মধ্যে অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। তাদের যুক্তি ছিল- একটা বাড়ি দেখে ক্রয়ের চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাড়ি বিক্রি করা। এর মধ্যখানে বাড়ি থেকে ভাড়া বাবদ আদায়কৃত অর্থ সমিতির ব্যাংকে জমা হবে। এ যুক্তি আর ধোপে টেকেনি, বরং বাড়ি বিক্রি হয়ে যায়।
নতুন কমিটির সামনে সংগঠনের নিজস্ব ভবন, মাসিক ভাড়া থেকে কীভাবে অর্থ সাশ্রয় করা যায়, জালালাবাদের স্থবিরতা থেকে গতিশীল করা বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে। রাস্তার শেষ কোথায়, সেটাই এখন দেখার ব্যাপার।