জিরো ইনকামে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিংয়ে আবেদনের সুযোগ

ঠিকানা রিপোর্ট : নিউইয়র্ক সিটিতে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিংয়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো এলাকায় ইনকাম জিরো থেকে শুরু করা হয়। এটি শুরু করলে ভাড়াও হয় জিরো। ফলে জিরো ইনকাম যাদের, তাদেরকে কোনো বাসা ভাড়া দিতে হবে না। এ ধরনের একাধিক প্রকল্প এখন চলমান এবং এ জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। একদিকে জিরো ইনকামে যেমন বাসার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তেমনি যাদের ইনকাম আড়াই লাখ ডলারের বেশি, তারাও আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে যাদের ইনকাম যত বেশি, তাদের ভাড়াও তত বেশি। যাদের ইনকাম কম, তাদের ভাড়াও কম। অ্যাফোর্ডেবল হাউজিংয়ের নিয়ম হচ্ছে, ইনকাম অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করবে সিটি ও ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। আর আয়ের পরিমাণ নির্ধারিত হয় এলাকা, প্রকল্পের খরচ, অন্যান্য সব দিক বিবেচনা করেই। বিভিন্ন প্রকল্পের আবেদন যখন আহ্বান করা হয়, তখন উল্লেখ করা হয় আবেদন করার জন্য কত থেকে কত পর্যন্ত ইনকাম থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা এ কারণে আবেদন করার আগে সব ক্রাইটেরিয়া দেখেশুনে আবেদন করার পরামর্শ দেন।
কমিউনিটি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও কমিউনিটির নেতা মোহাম্মদ এন মজুমদার এ বিষয়ে বলেন, অ্যাফোর্ডেবল হাউজিংয়ে আবেদন করার জন্য প্রথমে নিউইয়র্ক হাউজিং কানেক্টে অ্যাকাউন্ট করতে হবে। এরপর সেখানে পরিবারের সবার তথ্যসহ নিজের সব তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। পরে ওপেন লটারি যেগুলো রয়েছে, সেখানে আবেদন করতে হবে। আবেদনের আগে সেখানে যেসব লটারি রয়েছে, সেগুলোতে নিজের ক্রাইটেরিয়া পূরণ হয় কি না, সেটি দেখতে হবে। ক্রাইটেরিয়া পূরণ হলেই কেবল আবেদন করতে হবে। ক্রাইটেরিয়া না মিললে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। যারা যোগ্য তারা আবেদন করলে লটারিতে নাম উঠতে পারে। তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিয়ে সাক্ষাৎকারে যেতে হবে। সেখানে যা যা নথি চাইবে, সে অনুযায়ী তথ্য ও নথি দিতে হবে। সব যোগ্যতা পূরণ করার পর বাসা পাওয়া যাবে। তবে লটারি পেলেই যে বাসা পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। লটারি জেতার পর সব নথিপত্র দেখে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। নথিপত্র ঠিকঠাক থাকলে এবং ইন্টারভিউয়ে উত্তীর্ণ হলেই মিলবে কাক্সিক্ষত বাসা।
নিউইয়র্কে দিন দিন বাসা ভাড়া বাড়ছেই। এই বাড়তি ভাড়ার সঙ্গে অনেকেই সমন্বয় করতে পারছেন না। এ কারণে অনেকেই নিউইয়র্ক সিটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন সিটির বাইরে কিংবা অন্যান্য স্টেটে। সিটি ছেড়ে যাওয়ার পর অ্যাডজাস্ট করতে তাদের কষ্ট হচ্ছে। এর পরও তারা খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করছেন।
সূত্র জানায়, যারা ফুলটাইম স্টুডেন্ট, তারা লটারিতে জয়ী হলেও কেবল ফুলটাইম স্টুডেন্ট হওয়ার কারণে বাসা পান না। ফুলটাইম স্টুডেন্ট ফুলটাইম চাকরি করলেও তাদের বাসা দেওয়া হয় না। বছরের পর বছর লটারিতে ওয়েট লিস্টে নাম ওঠার পরও এবং খালি হলে পাবেন এমন আশায় থাকলেও বছরের পর বছল অপেক্ষা করেও ফ্ল্যাট পাচ্ছেন না, এমন নজিরও রয়েছে।
একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, অ্যাফোর্ডেবল হাউজিংগুলো আরো ব্যাপক পরিসরে তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ যারা স্বল্প আয়ের মানুষ কিংবা যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন বা যাদের ইনকাম ৩০ হাজারের নিচে, তাদের এ ধরনের প্রকল্পে আবেদন করার তেমন সুযোগ নেই। যাও সীমিত পরিসরে সুযোগ দেওয়া হয়, সেখানেও তারা আবেদন করে বাসা পাচ্ছেন না। ফলে সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। জিরো ইনকামে আবেদন করার সুযোগ আছে, এটা ঠিক কিন্তু তা খুব সীমিত। যাদের বেশি ইনকাম, তারা অ্যাফোর্ডেবল হাউজিংয়ের চেয়ে বাইরে কম খরচে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন।