“জীবন না” ভিআইপির দাম বেশি?

ফেরিতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু ঘটনা তদন্তে ৩ কমিটি

গ্রামবাংলা ডেস্ক : প্রাণপ্রিয় ভাই তিতাস ঘোষকে বাঁচাতে আইসিইউ সুবিধার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন তন্বীষা ঘোষ। সঙ্গে মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ সময় একটি সেকেন্ডও যে মহামূল্যবান। এরকম কঠিন মুহূর্তে তিতাসকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে এসেই আটকে যায়। ফেরি থাকলেও সেটি ছাড়ছিল না, অপেক্ষা করছিল যুগ্ম সচিব পদের এক ভিআইপির জন্য। তিতাসের স্বজনরা ফেরিঘাটের সংশ্লিষ্টদের হাত-পা ধরে দ্রুত ফেরি ছাড়তে অনুরোধ করলেও তাদের মন গলেনি।

অবশেষে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সেই যুগ্ম সচিব ও এটুআই প্রকল্পের কর্মকর্তা আবদুস সবুর ম-ল উপস্থিত হন। ফেরিও যাত্রা শুরু করে। ততক্ষণে তিতাসের প্রাণভোমরা যায় যায় অবস্থা। ফেরিটি যখন মাঝনদীতে, তখন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তিতাস।

তিতাসের এই করুণ মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিন্বীষা বলেন, আমার ভাইয়ের জীবন কেড়ে নিল ওই ভিআইপি ব্যক্তি। এ দেশে জীবনের দাম বেশি না, ভিআইপিদের দাম বেশি? সরকারের উচিত এই ভিআইপিকে আইনের আওতায় আনা। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।

তিতাসের এই হƒদয়বিদারক মৃত্যুতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। দায়ীদের বিচারের জোর দাবি উঠেছে। এ ঘটনায় ঘাট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি আছে কি-না, তা তদন্তের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং মাদারীপুরের জেলা প্রশাসন পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বলেছেন, এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।