জীবন সঙ্গিনী

মমতাজ সবুর চৌধুরী

মা-বাবার একমাত্র ছেলে রাশেদ পরিবারের সদস্যদের চোখের মণি! তার বাবা মোখলেসুর রহমান এককালে ডিআইজি ছিলেন, এখন অবসরে আছেন। তার মা মালিহা বেগম নামকরা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। এখন পুরোদমে গৃহিণী। রাশেদ লেখাপড়া শেষ করে একটি বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি করে। রাশেদ এখন বিয়ের উপযুক্ত। তার মা-বাবা চায় একটি সৎ বংশের শিক্ষিত মেয়েকে তার বউ করে আনতে। একমাত্র ছেলের সুখি জীবন কামনায় বাবা-মা আল্লাহর কাছে মা-বাবা রাতদিন ফরিয়াদ জানান । আজকাল মেয়ে অনেক পাওয়া যায়, কিন্তু সব দিক দিয়ে পাওয়া বড় কঠিন। ইদানিং প্রায় মেয়েরই প্রেমঘটিত ব্যাপার-স্যাপার থাকে। ছেলেরাও এর ব্যতিক্রম নয়। রাশেদকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে হবে- তার সাথে কোন মেয়ের সেরকম কোন পরিচয় আছে কিনা?
একদিন রাশেদকে তার মা বিয়ের ব্যাপারে নানারকম কথা বললেন। বিয়ের ব্যাপারে সম্মতি চাইলে রাশেদ সবিনয়ে মাকে বলল আমাকে কিছুদিন সময় দিতে হবে। মাকে আশ্বস্ত করলেও ভেতরে ভেতরে রাশেদ বিয়ে নিযে খুব ভাবনায় পড়ে গেল। সে তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তার মা-বাবার আশা-আকাক্সক্ষা সব তাকে ঘিরে। সে সবসময় চেষ্টা করে তার মা-বাবাকে সুখি করতে। কিন্তু নতুন জীবনসঙ্গীর স্বভাব চরিত্র নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা তার মনে বাসা বাধে। ভাল হলে আলহামদুলিল্লাহ, যদি খারাপ হয় তাহলে সুখের পরিবর্তে নেমে আসবে তার জীবনে অমানিশার অন্ধকার! তাই ভেবেচিন্তেই বিয়ের সিদ্ধান্তটা নিতে নেয়ার কথা রাশেদ মনে মনে ভাবতে থাকল।
তাদের প্রতিবেশী রিয়াজ রাশেদের বন্ধু। তারা একসাথে লেখাপড়া করেছে। বিয়ের ব্যাপারে রিয়াজের সাথে পরামর্শ করার সিদ্ধান্ত নেয় রাশেদ। সে রিয়াজের সাথে আলাপ করার জন্য তাদের বাসায় গেল। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনাকালে রাশেদ গুনগুন করে গেয়ে উঠল- প্রেম একবার এসেছিল নীরবে, আমার এই দুয়ার এই প্রান্তে, সে যে হায় নিরুপায় এসেছিল পারি নিতো জানতে! রাশেদের গান শুনে অবাক হয়ে গেল রিয়াজ। রিয়াজ জিজ্ঞেস করল- রাশেদ, তোর কখন কোন মুহূর্তে প্রেম এসেছিল বলিসনি তো! রাশেদ বলল- এসেছিল বন্ধু এসেছিল! কিন্তু আমার বোকামির জন্য ধরে রাখতে পারিনি। রিয়াজ বলল তাই! কখন কিভাবে এসেছিল? কেন ধরতে রাখতে পারিসনি, বড় ইস্টারেস্টিং ব্যাপার! তুই যে এভাবে ডুবে ডুবে জল খেতে পারিস, বুঝতেই পারিনি! রান্না ঘর থেকে রিয়াজের স্ত্রী বলে উঠল রাশেদ ভাই আমি আসি, তারপর আপনার প্রেমকাহিনী বলেন! রাশেদ বলল, ভাবি গরম গরম চা নিয়ে আসেন, তখন জমবে ভাল। রিয়াজের বউর উপস্থিতিতে রাশেদ তার প্রেমকাহিনী বলা শুরু করল।
জানিস দোস্ত আমি হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলেছি আমার নির্বুদ্ধিতার কারণে। ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে আমি এক মেয়েকে ভালবাসতাম, একেবারে যাকে বলে অন্ধভাবে! রিয়াজ এবং রিয়াজের স্ত্রী রাশেদের কথা শুনে অবাক দৃষ্টিতে রাশেদের দিক তাকিয়ে আছে। রাশেদ বলল, মেয়েটির নাম ছিল নূরে জান্নাত! দেখতে একেবারে একটি সদস্য ফোটা তাজা ফুল। মেয়েটি ছিল পদার্থবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী এবং সচিব আজহারউদ্দিনের মেয়ে। লেখাপড়ায় ছিল তুখোড়। মেয়েটির উঠাবসা চলাফেরার দিকে সর্বদা আমার লক্ষ্য ছিল। ধরতে গেলে মেয়েটিকে আমি চোখে চোখে, এমনকি ছায়ার মত অনুসরণ করতাম। ভাবছিলাম এরই মধ্যে আমি একগুচ্ছ গোলাপ দিয়ে তাকে প্রেম নিবেদন করব। কিন্তু আজ কাল করে করে দেরি করে ফেলেছিলাম! নানা দ্বিধা সন্দেহের মাঝে একদিন দেখলাম মেয়েটি সবাইকে কার্ড বিলি করছে। সে আমার কাছে এসে আমাকেও একটি কার্ড দিল এবং হেসে বলল রাশেদ ভাই আগামী শুক্রবার আমার বিয়ে, আসবেন কিন্তু, না হলে রাগ করব। সে দিন দোস্ত সারা ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণ আমার চোখের সামনে দুলছিল! আমি কিভাবে ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে বাসায় ফিরছিলাম বলতে পারব না!
রিয়াজ ও তার স্ত্রী রাশেদের প্রেমকাহিনী শুনে একসাথে বলে উঠল- আহারে এমন উপযুক্ত পাত্রী হাতের কাছে পেয়েও ছেড়ে দিলেন! আসলে রাশেদ তোর সাথে হয়তো ঐ মেয়ের বিয়ের নির্দেশ পরম করুণাময়ের পক্ষ থেকেই ছিল না। যাহোক, গতস্য শোচনা নাস্তি! রিয়াজের বউ বলে উঠল আপনি বিয়ে করতে আগ্রহী হলে মেয়ের অভাব হবে না! রিয়াজ বলল, দোস্ত তোর চাটা ঠান্ডা হয়ে গেল!
বৈশাখ-জৈষ্ঠের তাপদগ্ধ রোদে চারদিক খাঁ খাঁ করছে। রাস্তাঘাটে লোক চলাচল নেই বললেই চলে। পক্ষীকুলে একেবারে চেঁচামেচি নেই, কেবল কতগুলো কাক এ ডাল থেকে ঐ ডালে উড়ে শান্তি খুঁজছে। খুব জরুরি কাজে রাশেদকে বন্ধু নোভেলের বাসায় যেতে হবে। এই গরমে তার বাসা থেকে বের হতে ইচ্ছা করছে না। কিন্তু তাকে যেতেই হবে। সে নোভেলের বাসায় পিয়ে বারান্দায় একটি হেলান চেয়ারে বসে পড়ল।
নোভেল তাকে বাসার ভেতরে ডাকলেও সে গেল না। সে বলল বাইরে প্রাকৃতিক বাতাস খাব। এই বলে সে আর বাসার ভেতরে গেল না। বাইরে দৃষ্টিপাত করে সে দেখতে পেল চার-পাঁচটা মেয়ে হেসে হেসে একটি চাইনিজ পারলারের দিকে যাচ্ছে। তার মধ্যে একটি মেয়ে অপূর্ব সুন্দরী! সে ভাবল মেয়েটির খোঁজখবর নেয়া যায়। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটা বের হল বিয়ের সাজে! রাশেদের আশার গুড়ে বালি! রাশেদ বাসার ভেতরে গিয়ে বলল এবং হাসাহাসি করল। নোভেলের স্ত্রীর গরম গরম সিঙ্গারা খেতে খেতে দুপুরের ক্লান্তিটা দূর করার চেষ্টা করল। রিয়াজ রাশেদকে বলল, দোস্ত তুই কখন বিয়ে পাগলা হয়েছিস জানতাম নাত? নোভেলের স্ত্রী একটি মহিলা কলেজের প্রভাষক। নোভেলের স্ত্রী তখন বলে উঠল- রাশেদ ভাই আপনি একদিন আমাদের কলেজে চলে আসেন, সেখানে শয়ে শয়ে মেয়ে দেখতে পাবেন। আপনার পছন্দসই মেয়েটার ব্যাপারে আমাকে বলবেন, আমি আপনাকে তার ঠিকানা যোগাড় করে দেব। খালাম্মাকে বলবেন এ ব্যাপারে কোন চিন্তা না করতে। নোভেল রাশেদকে বলল আর চিন্তা করবি না, এ ব্যাপারে তোর ভাবি যখন ভার নিছে আর তোর চিন্তা নেই।
রাশেদ বলল, ভাবি আপনার সিঙ্গারা খুব মজা হয়েছে, আমি দুটি খেয়ে ফেললাম। নোভেলের স্ত্রী বলল- রাশেদ ভাই আরো খান। রাশেদ বলল- না ভাবি, যেভাবে মোটা হয়ে যাচ্ছি, শেষে আমার জন্য বউ যোগাড় করতে অসুবিধা হবে! নোভেলের প্রতি তাকিয়ে বলল, রাশেদ ভাই কি যে বলেন, আপনি যেই সুপুরুষ এবং স্মার্ট, আপনার পেছনে মেয়েদের লাইন পড়ে যাবে! রাশেদের তার শুধু মায়ের কথাই মনে পড়ে। তার মা তার বিয়ের ব্যাপারে সময় চেয়েছিল, এখন আর দেরি করা যাবে না। তার বাবার শরীরটাও ভাল যাচ্ছে না তিনি দুনিয়া থেকে যাওয়ার আগে আমার বউ দেখে যেতে চান। মা-বাবা সবার শখ থাকে ছেলের বউ দেখা, বিশেষ করে আমি যে তাদের সবে ধন নীলমণি একটি ছেলে বলে কথা! এখন আমার মাকে বলব যে মেয়ে তোমাদের পছন্দ, সেই মেয়েকেই তোমরা তোমাদের ছেলের বউ করে আনতে পার। আমার কোন আপত্তি নেই। ছেলের সম্মতি পাওয়ায় রাশেদের বাবা-মা মেয়ের সন্ধান শুরু করল।
ছুটির দিন থাকায় কিছু প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য রাশেদ একটি শপিং মলে ঢুকল। একজন অপরূপা সুন্দরী মেয়েও একই সময়ে মলে ঢুকল। মেয়েটিও বোধ হয় তার পছন্দের কোন জিনিস চাচ্ছিল, হয়ত পাচ্ছিল না। এইভাবে সে কয়েকটি স্টোরে গেল। রাশেদও মেয়েটিকে অনুসরণ করল। মেয়েটি রাশেদের গতিবিধি বুঝতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। এক পর্যায়ে রাশেদকে বলল, এই যে ভাই আপনার কি সমস্যা? আপনি অনেকক্ষণ ধরে আমার পিছু নিয়েছেন দেখছি! আপনার কি স্পর্ধা? আপনি যদি আর এভাবে বাড়াবাড়ি করেন আমি পুলিশ ডাকতে বাধ্য হব! জেনে রাখুন পুলিশ অফিসার আহসান হাবিব আমার ভগ্নিপতি, যতসব বখাটদের দল। এদের জ্বালায় মেয়েদের ঘরের বের হওয়া মুস্কিল হয়ে পড়ছে দেখছি! রাশেদ এসব কথাশুনে ভয়ে জড়সড় হয়ে মেয়েটিকে বলল, আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন। শপিং মলে আপনার যেমন আসার অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। আপনার যেমন প্রয়োজন থাকতে পারে, আমারও তেমন প্রযোজন থাকতে পারে। কি আবোল-তাবোল বকছেন আপনি? প্রত্যুত্তরে মেয়েটি বলল- বেশি কথা বলবেন না, যতসব বখাটের দল! এই বলে হন হন করে রিকশাতে উঠে গেল। রাশেদও মন খারাপ করে রিকশা নিয়ে শপিং মল থেকে চলে গেল। রাশেদ শুধু ঐ মেয়েটির কথায় ভাবছিল, এদিকে রিকশাওয়ালা বলে উঠল ভাইজান আপনি কৈ যাবেন বললেন নাতো? রাশেদ বলল, সাতাশ নম্বর ধানম-ি। রিকশাওয়ালাকে কিছু টাকা বেশি দিয়ে নেমে পড়ল। সে তাদের বাসার সিঁড়ি বেয়ে দু’তলায় উঠতে গিয়ে শুনতে পেল এক অপরিচিত মহিলার কণ্ঠস্বর। মেয়েটি এবং তার মা তাদের ড্রয়িংরুমে একজন আর একজনের সাথে কথা বলছিল। সে ড্রয়িং রুমের পর্দার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখল এই মেয়েটিকে। তখন সে দেখল মেয়েটি আর কেউ নন, সেই মেয়েটি যে শপিংমলে তাকে বখাটে বলে গাল দিয়েছিল কিছুক্ষণ আগে এবং তাকে পুলিশের ভয় দেখিয়েছিল। সে ভাবল, এ মেয়ে আমাদের বাসায় কেন আসল! রাশেদ ওঁৎ পেতে তার মা এবং ঐ মেয়ের কথোপকথন শুনল। মেয়েটি বলল, আজকে আমার বান্ধবীর জন্মদিন ছিল। তার জন্য একটি উপহার কেনার জন্য শপিংমলে এসেছিলাম। এক বখাটে ছেলে আমার এমন পিছু নিল, তাকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে চলে আসলাম। আর কিছু কিনতে পারলাম না। রাশেদের মা মেয়েটির মুখে এমন কথা শুনে বলল, কি বলব মা, আজকাল আমাদের যুব সমাজের এত অধঃপতন কল্পনা করা যায় না। আসলে এদের দু একজনকে পুলিশে ধরিয়ে দিলে এদের উচিত সাজা হত। রাস্তাঘাটে এদের উৎপাতের জন্য মেয়েরা ঘরের বের হতে পারে না। শুনছি সরকার এদের জন্য কড়া আইন করেছে, তারপরও এদের উৎপাত যাচ্ছে না!
এখন বল কবে তোমরা রাজশাহী থেকে এলে। মাঝখানে অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। মেয়েটি বলল প্রায় ৩ মাস। তবে আপনাদের ফোন নম্বর আম্মু হারিয়ে ফেলায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আব্বু ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় আমরা প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারে উঠেছি। আচ্ছা খালাম্মা রাশেদ ভাইয়া কি করেন। রাশেদের মা বলল সে এখন কোম্পানিতে চাকরি করে। তিনি এখন বাসায় আছেন? বাসায় থাকলে একটু দেখা করা যায়। বাসার কিছু দরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য একটু আগে সে শপিং মলে গিয়েছিল সম্ভবত এখনও আসেনি। তার জন্য খালাম্মা বউ আনেন নি? না মা এখন থেকে বউ দেখছি। তোমার জানাশোনা কোন মেয়ে আছে নাকি? থাকলে আমাকে বল? মেয়েটি একটু সুন্দর হতে হবে, সৎ বংশ এবং উচ্চশিক্ষিত হতে হবে- এর বাইরে আমাদের আর কোন চাওয়া-পাওয়া নেই।
মেয়েটি বলল, আমার এক বান্ধবী আছে, সে আমার সাথে একই বিষয়ে মাস্টার্স করেছে। সে খুব সুন্দরী, তার বাবা একজন ইনকাম টেক্স অফিসার। সাতাশ নম্বর ধানমন্ডিতে থাকে। আজ তার জন্মদিন ছিল। বখাটে ছেলের পাল্লায় পড়ে তার জন্য কিছুই কিনতে পারলাম না!
রাশেদের মা খুব আগ্রহ দেখাল এবং বলল, তাদের বাসার ঠিকানা এবং ফোন নম্বরটা আমাকে দাও। আজ তা হলে উঠি খালাম্মা। আম্মু আবার দেরি হলে চিন্তা করবে। এই বলে মেয়েটি চলে যাচ্ছিল। রাশেদের মা বলল তুমিও কিছুই খেলে না। মেয়েটি বলল, খেয়েছি খালাম্মা আপনার ডালপুরী খুব মজা হয়েছে খালাম্মা। খালাম্মা খালু এবং রাশেদ ভাইকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসেন। তোমার আব্বু, আম্মু, ভাইবোনকে নিয়ে এসো, আমাকে আগে ফোন দিও। আসসালামু আলাইকুম খালাম্মা।
এদিকে রাশেদ তার মা এবং মেয়েটের কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। এই মেয়ে তাদের পরিচিত, অথচ শপিংমলে সে তাকে একটুও চিনল না, মেয়েটিও তাকে চিনল না! অথচ তার মায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর মেয়ে। রাশেদ তার মায়ের কাছ থেকে ঐ মেয়ে সম্পর্কে সব জেনে নিল। কিন্তু শপিংমলের কান্ডকারখানার ব্যাপারে কিছুই জানাল না। আস্তে করে সবকিছু জেনে তার রুমের দরজাটা বন্ধ করে দিল এবং বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা করতে লাগল। সে মনে মনে ভাবল, সে যে রকম আশা করেছিল, সে রকম তাকে দিয়ে সম্ভব হবে না। আজকে শপিংমলে সে একটা মেয়ের ঠিকানা জোগাড় করতে গিয়ে তার যেই বেইজ্জতি হল। যে অপদস্থ হল তাকে দিয়ে আর মেয়ের ঠিকানা যোগাড় করা সম্ভব হবে না। বরং তার মাকে বলবে তাদের পছন্দের মেয়েকে সে বিয়ে করবে।
আজ মোখলেসুর রহমানের বাড়ি মাইলের পর মাইল নিয়ন বাতির আলোতে ঝিলমিল করছে। তার একমাত্র নয়নের মণি রাশেদের বিয়ে। বিয়ে বাড়িতে অতিথি গম গম করছে। বিয়ের কার্ডে লিখে দেয়া হয়েছে উপহারের পরিবর্তে দোয়া কাম্য! ঐদিকে ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপালের কোয়ার্টার সাজানো হয়েছে। বরের স্টেজ সাজানো হয়েছে কাঁচা গোলাপ এবং গন্ধরাজের মিশ্রণে। রাশেদের বউ দেখে সবাই বলে উঠে এত পরিস্থানের পরী! যেমন ছেলে তেমন কনে- একেবারে সোনায় সোহাগা!
বিয়ে বাড়িতে গান বাজছে- এ রাত তোমার আমার, ঐ চাঁদ তোমার আমার, শুধুই দুজনে। রাশেদের স্ত্রী রাশেদের সামনে ঘোমটা পড়ে বসে আছে। রাশেদ বলল, এখন আর ঘোমটার প্রয়োজন নেই। ঘোমটা খোল, আমি কে চিনতে পার কিনা না দেখ! আমি তোমার সেই বখাটে, যাকে তুমি পুলিশের ভয় দেখিয়েছিলে! আচ্ছা বিয়ের আসরে তোমার ভগ্নিপতি পুলিশ অফিসার আহসান হাবিবকে দেখলাম না যে?
সায়মা হেসে হেসে বলল, ঐ নামের আমার কোন ভগ্নিপতি নেই। তোমাকে মিছামিছি ভয় দেখিয়েছিলাম! সেদিন তুমিও যা বাড়াবাড়ি করছিলে না! এই বলে দুজন একজন আর একজনকে জড়িয়ে ধরে সুখ সাগরে ভাসছিল! সেই সুখের তুলনা পৃথিবীতে নেই!
-হিউস্টন।