জেগে উঠুক বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্ট : ২০১৭ সালে দেশের ফুটবলে বড় প্রাপ্তি ছিল অনূর্ধ্ব সাফ ১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়। ভারতকে হারিয়ে কিশোরীদের ট্রফি জেতাটা ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপেও মেয়েরা চূড়ান্ত পর্বে খেলে। সত্যি বলতে কি ফুটবলে বছরটা ছিল মেয়েদেরই। চ্যাম্পিয়ন না হলেও কিশোরদের পারফরম্যান্সও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে দুর্ভাগ্যক্রমে শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। নেপালের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে থাকলেও হেড টু হেডের সমীকরণের ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশকে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
লিগ পর্বে বাংলাদেশের কিশোরদের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ দেশবাসী। ভারতের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। অথচ এই ম্যাচে ম্যাজিক প্রদর্শন করে ৪-৩ গোলে জয়ী হয় অনূর্ধ্ব-১৮ দল। যা বাংলাদেশের ফুটবলে বিরল ঘটনাই বলা যায়। মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষেও সহজ জয় পেয়েছিল। শুধু দুর্ভাগ্যক্রমে নেপালের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায়। এ হারই বাংলাদেশকে শিরোপা জিততে দেয়নি। অনবদ্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে জাফর ইকবাল দক্ষিণ এশিয়া ফুটবলে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। অনেক দিন পর তারকার সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ। এএফসি কাপ বাছাই পর্বে অনূর্ধ্ব-১৯ দলও ভালো খেলেছে। কাতারের মাটিতে কাতারের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়েছে যুবারা।
২০১৭ সালে পুরুষ জাতীয় দলকে মাঠেই দেখা যায়নি। ২০১৬ সালে থিম্পুতে এশিয়ান প্রাক-বাছাই পর্বে ভুটানের কাছে হারার পর জাতীয় দল
আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে। অতীতে যাই ঘটুক না কেন নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। সেপ্টেম্বরে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়ার কথা। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দল এই আসরে ব্যর্থতায় বন্দী হয়ে আছে। শিরোপা নয় সেমিতে খেলাটাই যেন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গেল তিন আসরে গ্রুপ পর্ব খেলেই বিদায় নিয়েছে। এবার ঘরের মাঠে সাফ ফুটবল। দক্ষিণ এশিয়ায় যাকে বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ক্রীড়ামোদীদের প্রত্যাশা ব্যর্থতা ঝেড়ে এবার ঘরের মাঠে সাফে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ জাতীয় দল। হাতে এখনো ৯ মাস রয়েছে। ফুটবলার সংকট নিয়ে চিন্তায় ছিল বাফুফে। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে বেশ কজন প্রতিভাবান ফুটবলারের সন্ধান মিলেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণদের নিয়ে প্রস্তুতিটা দ্রুত শুরু করলে ১৫ বছর পর সাফে হারানো শিরোপাটা উদ্ধার করা সম্ভব। ২০১৮ মহিলা জাতীয় দলও মূল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবে। ২০১৬ সালে তীরে এসে তরী ডুবিয়ে ছিল সাবিনা, কৃষ্ণারা। ফাইনালে দুর্ভাগ্যক্রমে ভারতের কাছে হেরে যায়। মেয়েদের যে পারফরম্যান্স তাতে প্রস্তুতিটা জোরাল হলে ট্রফি জেতা সম্ভব। ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। বাংলাদেশ এখন একটা পর্যায়ে চলে গেছে। নতুন বছরের শুরুতে যুব বিশ্বকাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে উড়ে গেছে যুবারা। আগেরবার ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও ক্রীড়ামোদীদের প্রত্যাশা স্বপ্নের ট্রফি হাতে নিয়ে এবার দেশে ফিরবে যুবারা। জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ঢাকায় ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচের ছড়াছড়ি। সাকিব আল হাসান টি-২০-এর পাশাপাশি টেস্টেও দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফিই। আশা করা যায় নতুন বছরে ক্রিকেটে আরও বড় ধরনের প্রাপ্তি যোগ হবে।
গেল বছর হকিতে বড় ঘটনা ছিল ৩২ বছর পর ঢাকায় এশিয়া কাপ আয়োজন। নিজ ভেনু ফ্লাডলাইট নতুনত্বে কমতি ছিল না আয়োজনে। সামর্থ্য অনুযায়ী ছয়ে থেকে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছেন জিমিরা। তবে ঘরোয়া আসরে ছিল শূন্যতা। সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক চেষ্টার কমতি রাখেননি। তবুও মাঠে নামানো যায়নি প্রিমিয়ার লিগ। যাই হোক নতুন বছরে সব বাধা দূর করে হকিতে প্রাণ ফিরে আসবেÑ সেটাই সবার প্রত্যাশা।
আসা যাক অন্য ইভেন্টে। নতুন বছরে ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান গেমস, দক্ষিণ কোরিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিক ও অস্ট্রেলিয়ান কমনওয়েলথ গেমস অনুষ্ঠিত হবে। বড় তিন গেমসে বাংলাদেশ কোনো কোনো ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে তা ঠিক হয়নি। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজার বক্তব্য হচ্ছে যোগ্যতা যাচাই করে প্রতিযোগীদের পাঠানো হবে। তবে শুটিং, সাঁতার, ভারোত্তোলন, আরচ্যারি, অ্যাথলেটিকসে ভালো করার সম্ভাবনা আছে। ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে শুটিংয়ে সোনা জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের সাফল্যের জন্য বিওএ তিনটি গেমসকেই আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন বছর ক্রীড়াঙ্গনের অনেক চ্যালেঞ্জের। আশা করা যায় নতুন বছরে খেলাধুলায় নতুনভাবে জেগে উঠবে বাংলাদেশ।