ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা-সিলেট রেলপথে ঘটছে দুর্ঘটনা

সিলেট : সিলেট-ঢাকা রেলপথে দুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না। সিলেট আখাউড়া রেল সেকশনে ট্রেন দুর্ঘটনা এখন নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে এই রেলপথে প্রায় ১২টি ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় সিলেট থেকে যাত্রীবাহী উপবন এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফেঞ্চুগঞ্জ ও মাইজগাঁও স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছার পর ট্রেনটির একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।

রাত ১টা ২০ মিনিটে লাইনচ্যুত বগিটি ফেঞ্চুগঞ্জে রেখেই ট্রেনটি ঢাকার পথে ছেড়ে যায়। গত ২৩ জুন সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া উপবন এক্সপ্রেসটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। রাত সাড়ে ১১টায় কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকায় ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। উপবন এক্সপ্রেস বরমচাল স্টেশন অতিক্রম করে কুলাউড়া আসার পথে রেলপথের একটি কালভার্ট ভেঙে পেছনের ছয়টি বগি খালে পড়ে যায়। এতে চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। এই ঘটনার পরদিন দুর্ঘটনার কারণ জানতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনে গত কয়েক বছরে বেড়ে গেছে রেল দুর্ঘটনা। কিছুদিন পরপরই এই রুটে দুর্ঘটনায় পড়ছে ট্রেন। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এই রুটে ট্রেন চলাচল। রেলওয়ের তথ্যমতে, আখাউড়া-সিলেট রেলপথে পারাবত, জয়ন্তিকা, পাহাড়িকা, উদয়ন, উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস নামের ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন প্রতিদিন গড়ে ১২ বার চলাচল করে। এসব যাত্রায় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ হাজার যাত্রী সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশন দিয়ে সিলেট-ঢাকা এবং সিলেট-চট্টগ্রাম পথে ভ্রমণ করেন।

এর মধ্যে রয়েছেÑ শমসেরনগর-টিলাগাঁও সেকশনের ২০০ নম্বর সেতু, মোগলাবাজার-মাইজগাঁও সেকশনের ৪৩, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর সেতু, কুলাউড়া-বরমচাল সেকশনের ৫ ও ৭ নম্বর সেতু, সাতগাঁও-শ্রীমঙ্গল সেকশনের ১৪১ নম্বর সেতু, শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সেকশনের ১৫৭ নম্বর সেতু, মাইজগাঁও-ভাটেরাবাজার সেকশনের ২৯ নং সেতু এবং মনতোলা-ইটাখোলা সেকশনের ৫৬ নম্বর সেতু। সেতু সংস্কারের কোন প্রকল্প না থাকায় এগুলো সংস্কার হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।