টার্গেট একটাই ক্ষমতার মসনদ!

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ হওয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ও পুনঃ তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ইতিমধ্যে সব দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মানসিকতা থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রিও শেষ করেছে। হাজার হাজার প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এমন নেতাদের মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, এমপিসহ রাজনীতিবিদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, সাবেক উপমন্ত্রী, সাবেক এমপি ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাবেক আমলা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার, সাবেক গভর্নর, সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক, গায়ক-গায়িকা, নায়ক-নায়িকা, অভিনেতা- অভিনেত্রী, খেলোয়াড়, প্রবাসীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র তুলেছেন। এর মধ্যে বেশির ভাই প্রার্থী হয়েছেন তাদের নিজেদের আগ্রহ থেকে। আর কিছুসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন কিনেছেন তাদের দলের ও জোটের প্রধানের কাছ থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে। বিপুলসংখ্যক প্রার্থী এবার অংশ নিলেও ভোট নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে। জোটের নেতাদের এখনো মেলানো সম্ভব হচ্ছে না। আসন ভাগাভাগি নিয়ে চলছে নানা জটিল সমীকরণ। কোনো দলই কম আসন চাইছে না। ফলে এই হিসাব-নিকাশে কিছুটা সময় লাগছে। সব জোটের প্রধান দলের টার্গেট ক্ষমতার মসনদ। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন হওয়া। সেই হিসেবেই তারা হিসাব করছে ও করবে এবং আসন ভাগাভাগি করবে।
আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, এটা নিশ্চিত। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এমন ঘোষণা দিয়ে মনোনয়নপত্র বিক্রি সম্পন্ন করে প্রার্থী বাছাই করার কাজও সম্পন্ন করছে। ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন দলও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তারা নির্বাচনে গেলেও এখনো সংকট কাটেনি। চলমান সংকটের মধ্যেই তারা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছে। কোনো কোনো সূত্র বলছে, ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কি না, সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ও আসন ভাগাভাগিসহ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে কী হতে যাচ্ছে। খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিলে ও দাবির আরও কিছু বিষয় পূরণ না হলে তারা নির্বাচনে থাকবে কি না শেষ পর্যন্ত তা বলা যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের দাবি নির্বাচন এক মাস পেছানোর। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে এক সপ্তাহ পিছিয়েছে। এতে তারা সন্তুষ্ট নয়। অবশ্য অসন্তুষ্টি নিয়েও বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে এখনো পর্যন্ত রয়েছে। যদিও তারা মনে করছে, সরকারের ইশারাতেই এই নতুন তফসিল। কারণ তারাও এখনো আসন ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে পারেনি।
সূত্র জানায়, সরকারের সঙ্গে বিএনপির ও ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে সাফল্য আছে কিংবা দাবি মানা হয়েছে এমনটা মনে করছে না বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট। তারা মনে করে, সরকার চাইলে তাদের দাবিদাওয়ার অনেক কিছুই মানতে পারত। কিন্তু তা মানেনি। উল্টো বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে চারজন টেকনোক্রেট মন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তারা মন্ত্রিপরিষদে আছেন। চলতি সপ্তাহের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকেও তাদের নাম রয়েছে। সেই হিসেবে বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো দাবিই পূরণ হয়নি। এদিকে এই অবস্থায়ও বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার জন্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। নির্বাচন কমিশন পুনঃ তফসিল ঘোষণা করার পর তারা হাতে অতিরিক্ত সাত দিন সময় পেলেও তা বেশি মনে করছে না।
বিএনপির চেয়ারপারসনের জন্য তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র কেনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও বগুড়া-৬। তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য স্বাক্ষরও ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী তা জমাও দেওয়া হবে। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সরকার মনে করে, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। কারণ, নির্বাচন কমিশনের সামনে দুটি সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন চাইলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আর না চাইলে পারবেন না। কেউ নি¤œ আদালতে কোনো মামলায় অভিযুক্ত হলে ও তার শাস্তি হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না সে ব্যাপারে দুই রকম আদেশ আছে আদালতের। ফলে নির্বাচন কমিশন যেকোনো একটি পথ অনুসরণ করতে পারে। তারা নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে অংশ নিতে না দিলে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে থাকবে কি না তা নিশ্চিত নয়। সে ক্ষেত্রে যেকোনো নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে। তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র বিএনপি মেনে নেবে না।
বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। দুদকের আইনজীবী মনে করেন, খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই। তিনি খালাস না পেলে নির্বাচন করতে পারবেন না। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মনে করছেন, কারও দুই বছর বা এর বেশি সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আদালত সাজা স্থগিত করলে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা থাকবে না। তারা দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের অনেকেই সাজা থাকা অবস্থায় নির্বাচন করেছেন। বিভিন্ন নজির তুলে ধরে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপি আদালতে আবেদন করবে। তারা মনে করছেন, আদালত চাইলে একদিনের মধ্যেই এর সমাধান হতে পারে। তারা দরখাস্ত দিলে আদালত সাজা স্থগিত করতে পারেন।
যদিও সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ বলে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বছরের কারাদ-ে দ-িত হলে ও মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছরকাল পার না হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। খালেদা জিয়ার এক মামলায় ১০ বছর এবং অন্যটিতে ৭ বছর সাজা হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি আপিল করলেও শুনানি করে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন, সেটা বলা যায় না। আবার সময়ও লাগবে। আপিল করার পরও বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। ওই সব ধাপ পার করে আইনি মোকাবিলা করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা সম্ভব হবে না। ফলে এটা নিশ্চিত, তিনি নির্বাচনে যেতে পারছেন না।
সূত্র জানায়, বিএনপি ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনেও থাকবে। কিন্তু পরিস্থিতি বিএনপির ও ঐক্যফ্রন্টের অনুকূলে থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। ফলে নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর গ্রহণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সব প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত সব দলের অংশগ্রহণে হবে কি না তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বিএনপির নেতারা ও ঐক্যফ্রন্ট বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছে। তাকে মুক্তি না দিলে তারা নির্বাচনে যাবে না, সেই ঘোষণাও দেওয়া আছে। সেই হিসাবে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সেদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।
সূত্র জানায়, বিএনপি ও তাদের জোটের যেসব দলের নিবন্ধন রয়েছে, সেসব দল নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। সেই হিসেবে নিবন্ধন টেকাতে তাদেরকে নির্বাচনে থাকতে হবে। কিন্তু তারা নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ও তা গ্রহণ করার পর যদি কোনো কারণে নির্বাচন বয়কট করে, তাহলে বিএনপি ও তাদের শরিক অন্যান্য দলের নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ থাকবে না কমিশনের সামনে। সে ক্ষেত্রে এই যাত্রায় সবার নিবন্ধন টিকে যাবে। যদিও ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি ও জোট চাইছে নির্বাচনে থাকতে। জনগণ নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে ভোট দিতে পারলে তারা ক্ষমতাসীন হতে পারবে বলে তাদের বিশ্বাস। ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে সরকার গঠন করবে সেই চিন্তা ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য ৭০ আসনে ছাড় দিতে পারে। যদিও আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কারণ সবাই বেশি আসন চাইছে। এর সঙ্গে বিএনপির শরিক দলগুলো ছাড়াও কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্য আসন ছাড় দিতে হবে। সব মিলে ৭০ আসন ঐক্যফ্রন্ট ও জোটের অন্য দলগুলোর জন্য ছাড় দিলে কে কত আসন পাবে, সেটা হিসাব-নিকাশ চলছে।
বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আছে। নির্বাচনে অংশ নিতে সব রকমের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে না পারলে তারা নির্বাচনে না-ও থাকতে পারে। এ নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ রয়েছে। তারা চাইছে এবার যাতে কোনোভাবেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো নির্বাচন না হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও ড. কামাল হোসেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, কাদের সিদ্দিকীসহ ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মূল নেতারা।
এদিকে নির্বাচনের পুনঃ তফসিল ঘোষণার কারণে এখন ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার ও প্রতীকের বিষয় জানানোর জন্য। বিএনপির প্রতীকে তাদের জোটের আটটি দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। ঐক্যফ্রন্ট সূর্য প্রতীকে ও বিভিন্ন দল তাদের প্রতীক চেয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং তার শরিক দলগুলো নৌকা প্রতীকে আর জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাওয়ায় আগে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বললেও এখন তারা মহাজোট হিসেবেই নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন হিসাব। কারণ শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে না থাকে, তাহলে জাতীয় পার্টি নৌকা প্রতীকে অংশ নিলে পরে সমস্যা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি জোট নির্বাচনে না থাকলে বিরোধী দলে বসার সুযোগ তৈরি হবে জাতীয় পার্টির। এই সুযোগও এরশাদ রাখছেন। এ কারণে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছে জাপা।
বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি আশাবাদী, দেশের জনগণ বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে ঐক্যফ্রন্টকে ভোট দেবে ও জয়যুক্ত করবে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোট হলে তারা ক্ষমতাসীন হতে পারবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তেমনই আভাস দিয়েছেন। তিনি ১১ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে কারাগার থেকে ফিরে এসে বলেছেন, ‘ম্যাডাম আমাদের জন্য দোয়া করেছেন। ম্যাডাম আশা করছেন, জনগণের যে ঐক্য তৈরি করেছি আমরা, সেই ঐক্যের মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’ নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা কথা বললেও কী আলোচনা হয়েছে এ বিষয়ে কিছুই বলেননি মির্জা ফখরুল।
সূত্র জানায়, সরকার নমনীয় না হলে ও সাত দফা না মানলে আন্দোলনের কর্মসূচিও আসতে পারে। কারণ বিএনপি এর আগে ঘোষণা দিয়েছে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু সেই দাবি তোলা হলেও তা পূরণ হয়নি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ করেছে।
এদিকে বিএনপির ও ঐক্যফ্রন্টের হিসাব-নিকাশ তো আছেই। তাদের লক্ষ্য ক্ষমতার মসনদে বসার। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটেরও হিসাব-নিকাশও থেমে নেই। আওয়ামী লীগ ও মহাজোট নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে। চার হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট নির্বাচনে রয়েছে। কোন আসনে কারা কারা প্রার্থী হচ্ছেন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে শিগগিরই। আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড তা চূড়ান্ত করবে।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, সব দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগ এবার তরুণদের ওপর অনেকটাই ভরসা রেখেছে। তরুণ ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাসীন করবে। এদিকে আওয়ামী লীগ তাদের নেতৃত্বাধীন জোটকে ৭০টি আসন ছাড় দিতে পারে। জোট শরিকরা বেশি বেশি আসন চাইছে। তবে সব দলের দাবি অনুযায়ী আসন দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে আসন নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। এই দর-কষাকষি শেষে আলোচনা করেই শরিকদের নিয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। ক্ষমতাসীন হওয়ার জন্য হিসাব কষেই শরিকদের আসন ছাড় দেবে।
আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটাই-আবারও নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করা। সে জন্য এবার শেখ হাসিনা মনোনয়নপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর হবেন। জয়ী হতে পারবেন এমন প্রার্থীদেরই তিনি মনোনয়ন দেবেন। যেসব মন্ত্রী ও এমপি দলের ইমেজ বাড়াতে পারেননি, সাফল্য দেখাতে পারেননি, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এমন ব্যক্তিরা বাদ পড়ছেন। যেসব এমপি ও তাদের লোকজনের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, নিয়োগবাণিজ্য, সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, তারা মনোনয়ন পাচ্ছেন না, এটা প্রায় নিশ্চিত। এছাড়া মাঠপর্যায়ের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে পারেন। জানা গেছে, এর আগে বারবার নেতা-মন্ত্রী-এমপিদের প্রতি সতর্কবাণী দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তাদের অনেকেই বাদ পড়ছেন। সূত্র জানায়, যখন মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে, তখন যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের মনোনয়ন দেবেন না। তিনি ও বোর্ড এমন প্রার্থী দিতে চাইছেন, যাতে করে জয়ী হয়ে তারা আসনটি দলকে উপহার দিতে পারেন।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, এই নির্বাচনে মনোনয়নের বেলায় যেসব নেতার তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তা রয়েছে ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের মূল হিসাব হচ্ছে এমনভাবে মনোনয়ন দেওয়া, যাতে তারাই ক্ষমতাসীন হতে পারে। শরিকরাও চাইছে তার জোটের নেত্রীর নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন হতে।