টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হতে পারেন ভিআইপিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেকটা গুমট পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অবস্থার পরিবর্তন হোক বা না হোক, চলতি বছরেই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘটতে পারে যেকোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা। ঘটতে পারে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও।

এর মধ্যে টার্গেট করা হতে পারে ভিআইপিদের। কারা কারা টার্গেট হতে পারেন, এমন কোনো তালিকা টার্গেট কিলিংয়ের শিকার প্রকাশ না হলেও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বাংলাদেশের জন্য সেখানকার রাজনীতিবিদদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। তাদের দেশের গোয়েন্দারা এ ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছে।

সেই সঙ্গে এটাও অবহিত করেছে, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ও পরিবর্তন হতে পারে বলেও আশঙ্কার আভাস দিয়েছেন তারা। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিহত করতে ওই দুই দেশের পক্ষ থেকে সরকারকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে সহস্রাধিক ভিআইপি, গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও ব্যক্তির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে এই আশঙ্কা তত বাড়ছে। শেখ হাসিনাকে জঙ্গিরা টার্গেট করেছে এর আগে বেশ কয়েকবার। তাকে হত্যা করার লক্ষ্যে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাও চালানো হয়েছে। এছাড়া তাকে আরও বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করেছে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাকেও টার্গেট করা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তারও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তিনি ছাড়াও সরকার ও বিরোধী দলের মন্ত্রী, এমপিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করতে পারে। তুলে নিয়ে যেতে পারে, এমনকি তাদের হত্যাও করা হতে পারে। এর আগে বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন ভিআইপি টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন। কয়েকজন নেতাকে তুলে নিয়ে নিখোঁজও করে দেওয়া হয়েছে। আজও তাদের পরিবার তাদের হদিস পায়নি। ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে পরিস্থিতির কোনো অবনতি হতে না পারে, সেই জন্য সরকারদলীয়সহ সব এমপিকে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী দেওয়া হবে বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় দেড় শ জন এমপিকে এ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী চেয়ে আবেদন করেছেন আরো ৪০ জন। এমপিদেরসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপিরসহ সব সাবেক এমপি ও বিশিষ্ট নেতাদের নিরাপত্তার জন্য পিস্তল দেওয়া হবে। বিচারপতির জন্য নিরাপত্তা প্রহরী দেওয়া হয়েছে। সাবেক বিচারপতিদের জন্যও এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। টার্গেট করে এই হামলা চালানো হতে পারে। এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে মার্র্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। উভয়েরই আশঙ্কা পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারকে এ ব্যাপারে বিশেষ করে সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসী, জঙ্গি দমনে সরকার লাগাতার কঠোর কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। জঙ্গিরা গত এক বছর যাবৎই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জামায়াতসহ ধর্মীয় কয়েকটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সাংগঠনিকভাবে জামায়াতের সঙ্গে না থাকলেও এরা আদর্শিকভাবে জামায়াতের এবং নিকট অতীতে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। অবশ্য জামায়াত বরাবরই জঙ্গি, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে। পাকিস্তানভিত্তিক কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে স্থানীয় ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সম্পর্ক ও যোগাযোগের কথা যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত থেকে জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসী, জঙ্গিগোষ্ঠী যাতে কোনো হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য তারা বিশেষভাবে সতর্ক থেকেই কর্মপন্থা স্থির করছেন। বর্তমান এমপি, বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় সম্ভাব্য জনপ্রিয় প্রার্থীদের তালিকা করে তাদের ওপর নজরদারি রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হিটলিস্টের তালিকায় তারা থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারদলীয় ১৪ দলের শরিক এমপিদের চলাচল, তাদের তৎপরতার ওপর বিশেষ খেয়াল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারদলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি এবং বিএনপির সাবেক মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের চলাফেরা জনসংযোগমূলক কার্যক্রমের ওপর দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও তাদের টার্গেট হতে পারেন আশঙ্কায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।

তাদের নিরাপত্তা বিধান করাই এর উদ্দেশ্য। বর্তমান ও বিরোধীদলীয় সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের টার্গেট করে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে মর্মে আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হতে পারে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, আমলা, বরেণ্য শিক্ষাবিদ, আইনজীবীসহ সমাজে বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও টার্গেট হতে পারেন। এদের নিরাপত্তা বিধানে সহ¯্রাধিক লোকের তালিকা করা হচ্ছে। এদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বিধান করার মতো পর্যাপ্ত জনবল পুলিশের নেই। সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশকে আগে থেকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হবে।

এছাড়া রেলওয়ে স্টেশন, আন্তর্জাতিক বাসস্টেশন, লঞ্চ, বাস টার্মিনাল, সব বিমানবন্দর এলাকা বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সব স্থান সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। কেপিআইসমূহে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।