টিকিট ও মিডিয়া কার্ড নিয়ে বাফুফের তুঘলকি কাণ্ড

স্পোর্টস ডেস্ক : দরজায় কড়া নাড়ছে রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল। মেসি, রোনালদো, নেইমারদের উন্মাদনায় সারা বিশ্বে ঝড় উঠেছে। সেই ঝড়ের ধাক্কা লাগছে বাংলাদেশেও। ঘরোয়া ফুটবলের জনপ্রিয়তা তলানিতে থাকলেও বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মাতোয়ারা দর্শকরা।
রাশিয়া বিশ্বকাপের খেলা স্বচক্ষে দেখতে টিকিটের জন্য লাইন পড়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে)। বিশ্বকাপের অন্যান্য আসরের মতো এবারও বাংলাদেশ দুশ থেকে আড়াইশ দর্শক টিকিট পাবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। মার্চ কিংবা এপ্রিলে এ টিকিট পাওয়া যাবে বলে সূত্র জানায়। টিকিট বরাদ্দ নিয়ে প্রত্যেকবারই অনিয়ম ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয় বাফুফে।
যে যখন বাফুফের মিউজিক্যাল চেয়ারে থাকেন তিনিই টিকিট বরাদ্দ দেন নিজের মতো করে। কখনই খেলা পাগল দর্শকরা বিশ্বকাপের টিকিট কিনতে পারেন না। বাফুফের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যর কারণে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী আমলারা টিকিট বাগিয়ে নেন। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার থেকে ফাইনাল পর্যন্ত ম্যাচ টিকিটগুলো মুখচেনাদের বরাদ্দ দিয়েছিল বাফুফের ওই চক্রটি। ওই তালিকায় ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের পরিবার।
সেই সঙ্গে একটি সামাজিক ক্লাবের সদস্যরা টিকিট বাগিয়ে নিয়েছিলেন। বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের টিকিটের দাম বাফুফের তহবিলে জমা দিতে হয়। কিন্তু ব্রাজিল বিশ্বকাপের সময়ও বাফুফের এক কর্মকর্তা টিকিট দেয়ার নাম করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অগ্রিম প্রায় এক লাখ ডলার নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। এবারও একই কায়দায় ডলার হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে সরকারের শীর্ষমহলের নাম করে ফিফা ও ইউরোর ফাইনালের টিকিট এনেছিল বাফুফে। অভিযোগ রয়েছে, ওই টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছিল।
এ দিকে বিশ্বকাপ ফুটবলের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নিয়ে বাফুফে কর্মকর্তাদের ছলচাতুরী চলছেই। ২০১৪ সালে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন অতি উৎসাহী হয়ে একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিককে কার্ড বরাদ্দ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই পত্রিকাটি কার্ড নিতে রাজি না হওয়ায় সালাউদ্দিন তার আস্থাভাজন এক ক্রীড়া সাংবাদিককে কার্ডটি দেন। এবার ঘটেছে আরও তুঘলকি কা-।
বাফুফে কর্মকর্তাদের কিছু আশীর্বাদপুষ্ট ও আজ্ঞাবহদের কার্ড বরাদ্দ করায় ক্ষোভের সৃষ্টি ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে। ফিফা বাংলাদেশকে ১৫টি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বরাদ্দ দেয়। তিন ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার মধ্যে দুটি সংস্থাকে কার্ড বরাদ্দ দিলেও বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতিকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়েছে বাফুফে। ক্রীড়ালেখক সমিতি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে শামীম চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছিল।
কিন্তু বাফুফে শামীম চৌধুরীকে কার্ড দেয়নি। এর কারণ জানতে চেয়ে সমিতি চিঠি দিলেও তা আমলে নেয়নি বাফুফে। এবারও শীর্ষ দৈনিক পত্রিকগুলোকে বাদ দিয়ে ভুঁইফোঁড়দের কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সালাউদ্দিন-কিরণদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিকেরা। প্রচার সংখ্যার তলানিতে থাকা পত্রিকাগুলোও পেয়েছে বাফুফের আনুকূল্য। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা।
ক্রীড়ালেখক সমিতির প্রতিনিধি ও সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক শামীম চৌধুরী বলেন,বাফুফে সাংবাদিকদের অধিকার ক্ষুণœ করেছে। পরপর তিন আসরে মতো দেশের শীর্ষ একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাকে বিশ্বকাপ ফুটবলের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেয়া হলো না। এটা সালাউদ্দিনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সমিতির প্রতিনিধি হওয়ার পরও বাফুফে আমার কার্ড আটকে দিয়েছে।
নিয়ম-নীতিমালা না মেনে কার্ড বরাদ্দের খবরে আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। আমরা কারো লেজুড়বৃত্তি করার জন্য সাংবাদিকতা করি না। বাফুফের এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানাচ্ছি। তার কথা,কার্ড পাওয়াদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা ফুটবল মাঠে খেলা দেখা তো দূরের কথা ফুটবল ভবনের ঠিকানাও জানেন না। যদিও তাদের কার্ডপ্রাপ্তির ব্যাপারে প্রধান যোগ্যতা ছিল সালাউদ্দিনের আস্থাভাজন হওয়াটাই।