ট্রাম্পকে ‘ঘৃণ্য ইঁদুরের’ সঙ্গে তুলনা করল বাল্টিমোর সান

ঠিকানা রিপোর্ট: কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ সদস্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁকে ‘ঘৃণ্য ইঁদুরের’ সঙ্গে তুলনা করে বাল্টিমোর সান পত্রিকা প্রথম পাতায় সম্পাদকীয় ছেপেছে। কারণ, কংগ্রেস সদস্যকে আক্রমণ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য মেরিল্যান্ডের প্রধান শহর বাল্টিমোরকেই আঘাত করে বসেছেন ট্রাম্প।
গত ২৭ জুলাই শনিবার একাধিক টুইটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের ওভার সাইট কমিটির প্রধান, প্রবীণ নাগরিক অধিকার নেতা ও ডেমক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলাইজা ইউজিন কামিংসকে (৬৮) বাল্টিমোরের দুর্দশার জন্য দায়ী করে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। কামিংস এই শহর থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য। কয়েক দিন আগে মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের খাঁচার ভেতরে অমানবিক অবস্থায় আটকে রাখা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তিনি।
ওই সমালোচনার জবাবে কামিংসকে একজন ‘নিষ্ঠুর মাস্তান’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মেক্সিকো সীমান্তের অবস্থা সমালোচনা করে তিনি (কামিংস) কর্মরত প্রহরীদের অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন। অথচ তাঁর নিজের শহর বাল্টিমোরের অবস্থা সে তুলনায় অনেক খারাপ। ট্রাম্প দাবি করেন, বাল্টিমোর কার্যত ইঁদুর ও ধেড়ে ইঁদুরে বোঝাই এক নোংরা শহর।
একটানা ১৩ বার বাল্টিমোর থেকে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত কামিংস আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতা। তাঁর ওপর এই ব্যক্তিগত আক্রমণের ফলে ট্রাম্প নিজে পাল্টা সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। শহরের প্রধান পত্রিকা বাল্টিমোর সান তাদের প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পকে ‘এক ঘৃণ্য ইঁদুরের’ সঙ্গে তুলনা করেছে। তারা বলেছে, ‘এ রকম একটি ইঁদুর হওয়ার চেয়ে নিজ শহরে অনেক ইঁদুর নিয়ে বাস করা অনেক ভালো।’
পত্রিকাটি ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিয়েছে, বাল্টিমোর আমেরিকার একটি শহর। আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে শহরের কল্যাণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাঁর। একজন কংগ্রেসম্যানের চেয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি অনেক বেশি ক্ষমতাবান।
ট্রাম্পকে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে অসৎ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে বাল্টিমোর সান বলেছে, ‘তিনি এমন একজন লোক, যিনি যুদ্ধ নায়কদের ঠাট্টা করতে ভালোবাসেন। সোল্লাসে নারীদেহ স্পর্শ করেন। একের পর এক ব্যবসায় ব্যর্থ হয়েছেন। পুতিনের নির্বোধ দোসর ও বর্ণবাদের সমর্থক। এমন একজন মানুষ প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ্য, এ কথা আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে না।’
তবে অনেকের মতে, কামিংসের ওপর ট্রাম্পের ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ শুধু অভিবাসননীতি বিষয়ে তাঁর সমালোচনা নয়। ওভার সাইট বা নজরদারি কমিটির প্রধান হিসেবে কামিংস ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেছেন। স¤প্রতি তিনি ট্রাম্পের আর্থিক লেনদেন ও আয়করের হিসাব চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনলাইন আক্রমণের জবাবে কামিংস অত্যন্ত শালীন ভাষায় বলেছেন, প্রতিদিন তিনি নিজ শহরের পক্ষে লড়াই করে চলছেন। একইভাবে তিনি নির্বাহী বিভাগের কার্যকলাপের ওপর নজরদারিও করছেন। এটি তাঁর শাসনতান্ত্রিক দায়িত্ব।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে চারজন অশ্বেতকায় নারী কংগ্রেস সদস্যকে ‘যাঁর যাঁর দেশে ফিরে যাও’ বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প বিভিন্ন মহলে তীব্রভাবে সমালোচিত হন। অনেকেই কামিংসের ওপর ট্রাম্পের আক্রমণকে একই রকম বর্ণবাদী ও কদর্য বলে অভিহিত করেছেন।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ‘এই ভাষায় কামিংসের ওপর আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেমক্র্যাট জো বাইডেন বলেছেন, ‘একজন প্রেসিডেন্টের কাজ তাঁর দেশের মানুষকে উদ্দীপ্ত করা, তাদের ছুঁড়ে ফেলা নয়।’ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ডেভিড এক্সেলরড বলেছেন, এই বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই ২০২০ সালে ট্রাম্প পরাজিত হবেন।