ট্রাম্পকে বাঁচাতে হোয়াইট হাউসের কুচক্রীরা সংবিধান ছুড়ে ফেলছে

মঈনুদ্দীন নাসের : যুক্তরাষ্ট্র এখন এক সাংবিধানিক সংকটে পড়েছে। বলতে গেলে সংবিধান রক্ষাকারী সর্বোচ্চ আসন প্রেসিডেন্সি বা হোয়াইট হাউস থেকে এই আক্রমণ শুরু হয়েছে সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার। এ যেন এমন এক আন্দোলন, যা আমেরিকার সিভিল ওয়ারের মধ্য দিয়ে অর্জিত মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করতে চায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প শ্বেত প্রাধান্যবাদীদের নেতৃত্বের আসনে বসে ‘মানি নাকো কোনো আইন’ মন্ত্র জপছে। আর তার মুখ দিয়ে ‘কলেরার’ মতো বর্ষিত হচ্ছে অসূয়া। এমন যে বীর সে, তার প্রেসিডেন্সি টিকিয়ে রাখার জন্য দ্বারস্থ হতে হয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এবং চীনের কাছে! যদি আমেরিকার কেউ অন্যায় করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন রয়েছে আমেরিকার মাটিতে বিচার করার জন্য। এমনকি অনেক সময় বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে ধরে এনেও আমেরিকায় বিচার করা হয়েছে। যেমন পানামার নরিয়েগা। কিন্তু আজ কর্তৃত্ববাদী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিচারের জন্য বিদেশের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তবে এ ধরনের প্রেসিডেন্টকে অভিসংশন করতে কোনো নিয়ম-নীতির প্রয়োজন নেই। কিন্তু সংবিধান তিনি না মানলেও আজ অভিসংশন বা ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সে প্রক্রিয়া আমেরিকায় এ নিয়ে চতুর্থবার চলছে। প্রেসিডেন্ট জ্যাকসন, প্রেসিডেন্ট নিক্সন, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন এবং সর্বশেষ সংযোজন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সব সময় হাউস তার নিয়ম-বিধি তৈরি করে। কোর্টের রুলিংয়ের উদাহরণ খুবই সীমিত পর্যায়ে প্রযোজ্য। তাই যখন আইনপ্রণেতারা সিদ্ধান্ত নেন যে এ ধরনের অভিসংশন প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তখন তারা নিজেরা বিধি তৈরি করে জনগণের আস্থা নিয়ে এবং সরকারের মধ্যে অবস্থিত লোকের পরামর্শক্রমে।
আর এ কারণে আজ কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদকে এ বিধি প্রবর্তনে কঠোর হাতে কাজ করতে হবে। আর এমনভাবে তা তৈরি করতে হবে, অভিসংশন প্রক্রিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার হোয়াইট হাউস যেভাবে অসত্য বলে এবং ক্যারিকেচার দেখিয়ে চলেছে, সেই প্রক্রিয়াকে ধরাশায়ী করতে হবে।
হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক চিঠিতে লিখেছে, প্রেসিডেন্ট তার পক্ষে বিদেশের কাছে যেকোনো হস্তক্ষেপ কামনা করতে পারেন, এমনকি তা তার নির্বাচনের জন্যও যদি হয়। তা এমনকি আত্মসাৎও হতে পারে। একই সাথে চিঠিতে এ ধরনের ব্যবহার করলে তার অনুসন্ধান করার জন্য কংগ্রেস সরকারের সমপর্যায়ের শাখা হয়েও প্রেসিডেন্ট কিংবা তার প্রশাসনের সদস্যদের এতৎসম্পর্কীয় আচরণের কোনো ধরনের অনুসন্ধান করলে তা অবৈধ বলে যুক্তি দেখানো হয়।
এ বিধি নির্বাহী ক্ষমতার আনুষ্ঠানিক মহড়া এবং এটা এক ধরনের দুর্নীতির লাইসেন্স নেওয়া, যা আমেরিকার ইতিহাসে বিরল। এক রিপাবলিকান এ নিয়ে বলেছেন, ‘এই চিঠি কলার কাঁধি’।
অর্থাৎ ট্রাম্প মনে করেন তার নিজের লাভের জন্য বিদেশি নেতাকে ভয় দেখানো কোনো দোষের নয়। গত ২৫ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভালোভারমির জেলেনস্কির কাছে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার সন্তানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য চাপ দিতে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্রের চালান বন্ধ রাখার আদেশ দিলেন, তা অনস্বীকার্য। ট্রাম্প বলেছেন, ‘ডু আস এ ফেবার’। আমাদের পক্ষে একটা কাজ করো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তা তিনি চাননি। তবে তার কথার তেমন গুরুত্ব নেই। কারণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলতে তার জুড়ি নেই।
এই জেলেনস্কির সাথে ফোনালাপ শুনেছেন এমন এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের ফোনালাপ পাগলামি ও ভীতিজনক। এ কথা জানিয়েছেন সিআইএর এক হুইসেল বেøায়ার বা ভেতর থেকে প্রাপ্ত খবরের জানান দেওয়া লোক। কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, প্রেসিডেন্টের আচরণ এক অপরাধীর আচরণ। তিনি জেলেনস্কিকে ফোন করে বাইডেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের আহ্বান যে করেছেন, তা পরিষ্কার অর্থে এক ক্রিমিনাল অ্যাক্ট।
হোয়াইট হাউস আইনজ্ঞরাও এ বিষয়টি যে অপরাধযোগ্য আচরণ, তার জবাব দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কিন্তু ট্রাম্প ও তার কিছু দলবাজ বিষয়টাকে জনগণের কাছে সংশয়াপন্ন করে তোলার চেষ্টা করছে।
আবার হোয়াইট হাউস পরামর্শক প্যাট সিপোলিয়ান এই ইমপিচমেন্টকে অবৈধ বলে বর্ণনা করে বলেছেন, তা ভিত্তিহীন, অসাংবিধানিক প্রয়াস, যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে চায়।
তিনি তিনটি প্রধান বিষয়ের অবতারণা করেন। বলেন, তা সম্পূর্ণ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদে ভোট দিয়ে সেদ্ধ করা হয়নি। ডেমোক্রেটিক নেতৃত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কোনো আইনি সুযোগ নেওয়ার অবকাশ দেয়নি। আর হাউস রিপাবলিকানদের নিজেদের সফিনা জারি করার অধিকার দেওয়া হয়নি। এসব চ্যালেঞ্জের প্রতিবাদ করা যথার্থ।
প্রথমত, হাউসে ভোট অথরাইজ করা কোনো ম্যাজিকাল বিষয় নয়। প্রশাসনের বিধি বলছে, এটা একটা প্রয়োজনীয় কর্তৃত্ব। কিন্তু তা নেহাত মিথ্যা। সংবিধান, ফেডারেল আইন বা প্রতিনিধি পরিষদের বিধিবিধান এতে প্রয়োজন নেই। হোয়াইট হাউস এ দাবি তুলেছে এই বলে যে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সময় এই পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া হয়। কিন্তু সেসব মামলায় ভোটের প্রয়োজন ছিল। কারণ তখন অতিরিক্ত অনুসন্ধানী কর্তৃত্বের প্রয়োজন ছিল। যেমন সংখ্যালঘুকে সফিনা জারির ক্ষমতা কিংবা পরবর্তীতে হাউস বা প্রতিনিধি পরিষদের বিধির পরিবর্তন, এ তদন্তকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলেছে।
ডেমোক্রেটদের মতে, পূর্ণ হাউসে ভোট না নেওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এমন একটি অবস্থা পাশ কাটাতে চান, যেখানে হোয়াইট হাউস লিডারশিপ তাদের ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সে সম্পর্কে কোনো প্রকার ডিকটেট করতে পারে। তারা বলতে পারে, কোন ধরনের প্রক্রিয়া বৈধ। একবার যদি হাউস এই কনসেশন দেয়, হোয়াইট হাউস আবার তার নাক বরাবর গোলপোস্ট সরিয়ে নিয়ে গোল দেওয়ার চেষ্টা করবে। তাতে কংগ্রেসের ইমপিচমেন্ট তদন্ত ম্যাসেজ করার কর্তৃত্ব সমেত এই শাখা যে সরকারের এক সম-অধিকার সংবলিত শাখা, তাকে হেয় প্রতীয়মান করবে।
নিউইয়র্ক টাইমস মন্তব্য করেছে, স্পিকার পেলোসি যেসব রক্ষণশীল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমক্রেটরা জিতে এসেছেন, তাদের রক্ষা করতে চান। যাতে তারা ২০২০ সালের নির্বাচনে কোনো সমস্যায় না পড়েন। তবে তা বড় কথা নয়, কারণ এসব সদস্যের শিগগিরই ইমপিচমেন্টের আর্টিকেলের ওপর ভোট দিতে ডাকা হবে।
চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে মিস পেলোসি জানান, ট্রাম্প ইমপিচমেন্ট তদন্তের সাথে যে সহযোগিতা করবে না তা অবধারিত। এমনকি ভোটের মাধ্যমে তা নির্ধারিত হলেও তিনি তা করবেন না। বরং তিনি পার্টি লাইনে ভোট করার জন্য কাজ করবেন। কিন্তু তার পরও কংগ্রেসের হাতকে জোরালো করার জন্য ইমপিচমেন্ট ইনকোয়ারির ওপর ভোট অনেক বিশেষজ্ঞের কাম্য।
কারণ গত ৯ অক্টোবর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, হাউস যদি ইমপিচমেন্ট ইনকোয়ারি অথরাইজ করার জন্য ভোট অনুসন্ধান করে, তাহলে তিনি কংগ্রেসের সাথে সহযোগিতা করবেন কি না? তিনি উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, তা শুনতে ঠিক মনে হয়। আমরা সহযোগিতা করব, যদি তারা আমাদের অধিকার দেয়।’ অবশ্য ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি শপথ নিয়ে বিশেষ কাউন্সিলর রবার্ট মুলারের সাথে কথা বলতে পারলে খুশি হবেন। তবে পরিশষে তিনি সে কথা রাখেননি। সময় দেয়নি। মুলারের লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
তার পরও ডেমক্রেটরা যদি হাউসের ম্যান্ডেট না নিয়ে সামনে এগোয়, অর্থাৎ আর্টিকেলের ওপর ভোট নিতে যায় ইনকোয়ারির ওপর ভোট নিয়ে, তাহলে তারা ভুল করবেন বলে মনে হয়। যেকোনো কারণে কংগ্রেসের হাত ইনকোয়ারির ওপর ভোটের মাধ্যমে শক্তিশালী হবে। কারণ তাতে যদি মামলা দায়েরের মতো কোনো তথ্য তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে, তা কংগ্রেসের ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে।
বেবিল হাওয়েল নামে এক ফেডারেল জাজকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে : পেলোসির জন্য এ ধরনের একটি ভোট নেওয়া, তার পদক্ষেপ নিতে হাউস দাবির ওপর ডকুমেন্ট বা টেস্টিমোনি তৈরিতে সহজ হবে।
দ্বিতীয়ত, এই ইনকোয়ারির সমর্থনে যদি কোনো প্রস্তাব পাস হয়, তাহলে তা সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ড রুলকে ভিত্তি দেবে। আর তা আমেরিকানদের মনে ইমপিচমেন্ট ইনকোয়ারির বিষয়টি আইনসিদ্ধ করবে।
তারপর এ কথা পরিষ্কার যে, যূথবদ্ধ গ্রাউন্ড রুল এই তদন্তের জন্য হোয়াইট হাউস যে অপর দুটি অভিযোগ করেছে, যেমন আইনগত প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত ও হাউসে মাইনরিটি দল রিপাবলিকানদের সফিনা জারির আইনগত ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না।
হোয়াইট হাউসের পরামর্শক সিপলোন শুরু করার জন্য সব প্রমাণ দেখা। প্রমাণাদি উত্থাপন করার সাক্ষীদের ডাকার, সব শুনানিতে পরামর্শকদের উপস্থিত থাকার, সাক্ষীদের ক্রস এক্সামিন করার, সাক্ষীদের বর্ণনায় আপত্তি জানানো অথবা প্রমাণ ও টেস্টিমোনি গ্রহণ এবং প্রমাণাদি ও টেস্টিমোনির প্রত্যুত্তর দেওয়ার দাবি করেছেন।
প্রথমত, এসব দাবি ট্রাম্পের সার্বিক দুর্ব্যবহার এবং দ্বিধা-বিভক্তির কল্পনা মিশিয়ে বর্ণনা দিয়ে তাকে ‘ক্যু’ দাতার শিকার হিসেবে তুলে ধরার মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ার পথ থেকে অনুসন্ধানকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার মহরত। এটা বিশ্বাস করা সমীচীন নয় যে, যদি কংগ্রেস হোয়াইট হাউসের প্রতিটি আপত্তি নিয়ে কথা বলে, তখন প্রেসিডেন্টের টিম এটা বৈধ ইনকোয়ারি বলে মেনে নেবে। এই প্রশাসন কংগ্রেসের ওভারসাইটের প্রতি যে আচরণ করেছে এবং সে জন্য নিন্দার সম্মুখীন হয়েছে, তাই এর প্রমাণ।
কিন্তু এ ধরনের ডিউ প্রসেস বা আইনগত প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক প্রয়োজন নেই। তা শুধু প্রয়োজন কোনো ক্রিমিনাল বিচার। যেখানে একজন আসামি দণ্ডিত হয় ও জেলে যায়। কিন্তু এখানে হাউস গ্র্যান্ডজুরি হিসেবে কাজ করবে, আর সিদ্ধান্ত নেবে বিষয়টা সিনেটে পাঠাবে কি না। সিনেট তখন বিচার শুরু করবে। গ্র্যান্ডজুরিকে আইনগত প্রক্রিয়া বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই।
তার পরও এ পর্যায়ে ট্রাম্পকে প্রক্রিয়াগতভাবে রক্ষা করার কারণ আছে।
সিপোলোন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নিক্সনকেও এভাবে কিছু সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট ইনকোয়ারির সময়। হাউস রিপাবলিকানরাও ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনকেও এ সুযোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তী তদন্তে হাউস রিপাবলিকানরা ডেমক্রেটদের সফিনা ইস্যু করার জন্য মাইনরিটি গ্রুপ হিসেবে ডেমক্রেটদেরও সুযোগ দিয়েছিল।
সর্বশেষ কথা হচ্ছে, ডেমক্রেটদের উচিত কিছু মৌলিক বিষয়কে সম্মান দেখানো। এবং একটি ব্যাপক অনুসন্ধান করা। কিন্তু তাদের দর-কষাকষি বিতর্ক ও ভোটে কড়াকড়ি নিয়ে সময় সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা দরকার। তাদের অবশ্য এমন এক শ্বেতপাথরের রাজপ্রাসাদের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে, যারা সংবিধানকে জ্বালিয়ে দিয়ে ট্রাম্পকে তার নিজস্ব দুর্ব্যবহার থেকে বাঁচাতে চায় তাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে এর থেকে বিষয়টা আরও অনেক দূর এগিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে অনেকে মনে করছে ষড়যন্ত্র রয়েছে। যেমন এখন তুরস্ক আক্রমণ করছে সিরিয়া, সর্বশেষ সিরিয়া রাশিয়ার সমর্থনে কুর্দিদের সাথে চুক্তি করে বাধা দিতে চলছে তুরস্ককে। আমেরিকা প্রত্যাহার করে রাশিয়াকে পথ করে দিয়েছে, আর আমেরিকা বনে গেছে বিশ্বাসঘাতক। বিষয়টা তদন্তের আওতায় আসবে, কি আসবে না-তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
আর তার পরই ধরা পড়েছে বমাল মেয়র জুলিয়ানির হাত-পা টেপা দুজন সহচর, একজন ইউক্রেনিয়ান-আমেরিকান ব্যবসায়ী লেব পারনাস, আরেকজন বেলারুশিয়ান-আমেরিকান ব্যবসায়ী ইগুও ফ্রু ম্যান। তারা এফবিআইর হাতে ধরা পড়ে। আর ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন শুরু হয় জুলিয়ানির বিরুদ্ধে। তদন্ত হবে জুলিয়ানি বিদেশে লবিং করতে দেশের লবিংয়ের আইন বা বিধিসমূহ লঙ্ঘন করেছেন কি না?
বিষয়টি তত সহজ নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তারা বেশ ক্যাম্পেইন ফিন্যান্স করেছে। দুই ব্যক্তিকে ক্যাম্পেইন ফিন্যান্সবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এই দুই ব্যক্তির ছবিও রয়েছে। এখন বিষয়টাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
আমেরিকার রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভয়ংকর নাম। তার মুখে কোনো কিছু আটকায় না। তার জিহ্বা যেমন শাণিত, তার যৌনতাও পয়সায় কেনা এক অনাচার। তার সময়ে চাকরিচ্যুত কিংবা পদত্যাগ করেছেন তার ২১ সহচর। ভয়ংকর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিছু করতে চাওয়া মানে সাপের লেজে পা দেওয়া। কিন্তু কংগ্রেসকে সেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে সামাল দিতে হবে সবকিছু। ন্যান্সি পেলোসিকে সে জন্য লক্ষ্য ফোকাসে রেখে কাজ করতে হবে।