ট্রাম্প মিথ্যার ওপর মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করছেন শ্বেতাঙ্গদের

কাজী ইবনে শাকুর : ইমিগ্রেশনকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইস্যু করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প যেসব মিথ্যা বলেছেন তা এতই স্থূল যে, যে কারো চোখে তা ধরা পড়লেও বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গদের চোখে বা বিশ্বাসে তা সত্যি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আসা এক মাইগ্রেন্ট ক্যারাভানকে সাবধান করে দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনেকটা অসত্য দাবির ওপর ভিত্তি করে দেয়া।
ট্রাম্প বলেছেন, আমরা তাদের আমাদের দেশে ঢুকতে দিচ্ছি না। এবং তারপর তারা আর দেখা দেবে না। এটা ৩ শতাংশের লেবেলের মতো। তারা কোনো সময় বিচারের সম্মুখীন হয় না। তাই যে সময় তাদের বিচারের সময় আসে, তখন তারা চলে যায়, কেউ জানে না তখন কোথায় তারা লুকিয়ে থাকে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কত মাইগ্রেন্ট কোর্টে উপস্থিত হয় তার পরিসংখ্যান দিতে গিয়ে বলেছেন, ধরা পড়লে কোর্টে হাজির হওয়ার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, ৯৭ শতাংশ কোর্টে হাজিরা দেয় না। কিন্তু বিচার বিভাগের তথ্যে দেখা যায় মাত্র ২৮ শতাংশ হাজিরা দিতে ব্যর্থ হয়। বাকিরা হাজিরা দেয়। যারা এসাইলাম চায় তাদের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ বিচার প্রসিডিংয়ের জন্য ফিরে আসে না। যেসব এসাইলাম প্রার্থী ডিটেনশনের পরিবর্তে কোনো পরীক্ষামূলক কর্মসূচিভুক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ আইনের চেক ইন ও এপয়েন্টমেন্টে হাজির হয়। তাদের মধ্যে শতভাগ কোর্টের শুনানিতে উপস্থিত থাকে।
গত জুন মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এই পাইলট কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত ডিটেশন চায়। কারণ ডিটেনশন দিলে ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণে করপোরেশনের লাভ হয়।
ট্রাম্প বলেন, এই অবস্থায় পরিবর্তনে কোনো ডেমক্রেট ভোট দেবে না। কিন্তু রিপাবলিকানরাই এই পরিবর্তন চায়। তারা কঠিন সীমান্ত নির্মাণ করতে চায়। আর তা নেহায়েত বিপথে চালিত করে। ইমিগ্রেশন আইনকে বেশ খারাপ বলে অভিহিত করে মি. ট্রাম্প অভিযোগ করেন ডেমক্রেটরা কংগ্রেসে ওভারহল আইন করতে চায়। কিন্তু তিনি বলেন না যে, রিপাবলিকান দলের মধ্যে অগোছালো মনোভাবের কারণে বিলসমূহ বাতিল হয়ে যায়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মি. ট্রাম্প ড্রিমারদের জন্য প্রটেকশন বাতিল করতে উদ্যোগ নেন। তারপর তিনবার উদ্যোগ নেয়া হলেও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট তা বাতিল করে। ১৫ জন রিপাবলিকান সিনেটর তার বিরুদ্ধে ভোট দেন। হোয়াইট হাউজ যে বিল সমর্থন করে তাও তারা বাতিল করেন। তা প্রেসিডেন্টের নিজস্ব দলও চায়নি। তিনটির কোনটিই না।
ইমিগ্রেশন নীতিতে জিরো টলারেন্সের পর মাইগ্রেশন শিশুদের যখন মায়ের কোল থেকে কেড়ে নেয়া হয়-তখন হোয়াইট হাউজ সমর্থিত কঠোর একটি ইমিগ্রেশন বিল হাউজ সমর্থন করেননি। ৪১ জন রিপাবলিকান তার বিরুদ্ধে ভোট দেন। ট্রাম্প আরো বলেন, প্রায় শতভাগ হেরোইন যুক্তরাষ্ট্র আসে দক্ষিণের সীমান্ত দিয়ে। ১০০ ভাগের মধ্যে ৯০ ভাগ কোকেন। তারমধ্যে অধিকাংশ মেথ ও বেশ কিছু অতি ফেন্টানিল যুব সম্প্রদায়কে হত্যা করে।
এই কথায় কোন কনটেন্ট নেই।
ট্রাম্প দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তের উপর যে দোষ দেয় তা ঠিক। আর অধিকাংশ ফেন্টানিল চীন থেকে আসে বা কানাডা দিয়ে চীন থেকে আসে। একথা জানা গেছে ন্যাশনাল ড্রীম এসেসমেন্ট রিপোর্ট থেকে। আর দক্ষিণ পশ্চিম দিয়ে যে কেন্টানিল আসে তা দামে কম। আবার তার প্যাকেজও আসে চীন থেকে। প্রেসিডেন্ট বলেন, চীনের কারণে তারা এই যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে বার বার। ড্রাগ এজেন্সি আমেরিকায় ড্রাগ আনে। লুকানো বগিতে করে ট্রাক্টের ট্রেইলারের মধ্যে, প্যাসেঞ্জার ট্রেনের মধ্যে এমনকি ড্রোন ও এয়ারক্রাফটে করে।
ট্রাম্প বলে থাকেন, ডেমক্রেট পার্টির ভিশন হচ্ছে তাদের মুক্ত স্বাস্থ্যসেবা, মুক্ত কল্যাণ ভাতা, ফ্রি শিক্ষা ও ভোটের অধিকার দেয়া।
আর তা মিস লিডিং। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় শিশুদের মা-বাবা থেকে পৃথক করা হলে তা নিয়ে কেউ কিছু বলে না। আর তাই হচ্ছে বিপথে চালিত করা।
ট্রাম্প বলেন, দেয়াল নির্মাণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত বছর ১.৬ বিলিয়ন, এবছর খরচ ১.৬ বিলিয়ন। কিন্তু বিলে কোনো বর্ডার ওয়ালের উপর কোনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি। এ এক ডাহা মিথ্যা।