ঠিকানার কবিতাগুচ্ছ

বুকের ভেতরে বৃক্ষ

আহম্মদ হোসেন বাবু

আমাদের গাছগুলোতে এখন আর পাতা নাই
আমার মন পিঞ্জিরা আজ খুব শূন্য তাই।
দেখে মনে হয় মরে গেছে ওরা
হৃদয়ে আমার তাই আজ এতো খরা।
কনকনে শীতে বড়ো কষ্ট ওদের সবার
আরও বাড়ে যন্ত্রণা যখন পড়ে তুষার।
এতো কষ্ট তবু ওরা কত ভালোবাসে মানুষকে
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত মানুষ কেউ ভাবে না ওদেরকে।
মরা ডাল ভেবে আজ বসে না কোনো পাখি
সেই দুঃখ বলো কোথায় আমি রাখি ?
কদিন আগে কেঁদে কেঁদে হারিয়েছে ওরা সবুজ
জানি ওরা ফিরবে আবার তবু মন আমার আজ অবুঝ বুঝি।
অবুঝ মন নিয়ে আমি গুণি কাল – পক্ষ
নিজের পানে চেয়ে দেখি অন্তরে মোর বৃক্ষ !

রিক্সাওয়ালার মুখে ফোটে জ্ঞানের বাণী

ডক্টর ওয়াল্টার দিলু বিশ্বাস

বন্ধু,
বহু কাল পরে আমেরিকা থেকে সংক্ষিপ্ত কালের জন্যে
গিয়েছিলাম জন্ম স্থান বরিশালে। আমার কালের বরিশালে
রাস্তা ঘাটে ভিক্ষুক ছিল। এই ভেবে কিছু টাকা পকেটে নিলাম
ভিক্ষুকদের জন্যে। রিক্সাওয়ালাকে ডেকে বললাম “বরিশাল
শহরটি ঘুরে ফিরে দেখাতে। ” ঘন্টা খানেক চালানোর পরও আমি
কোন ভিক্ষুককে রাস্তায় না দেখতে পেয়ে রিক্সাওয়ালা ভাইকে
বললাম ,“যে রাস্তায় ভিক্ষুক আছে, সেই রাস্তায় যেতে।”
রিক্সাওয়ালা ভাই বললেন, “বাবু, হাসিনার আমলে ভিক্ষুক নাই বরিশালে।”
বিস্মিত হয়ে হাসিনার আমলে তার জীবনী শুনতে চাইলে
রিক্সা ভাই বলতে শুরু করলেন, “হাসিনার আমলে
বরিশাল ছাইয়া গেছে কাজে; আগাছার মত ঘর বাড়ি, দালান কোঠা
সোজাসুজি আকাশের দিকে উঠতাছে; কাজ আর কাজ…আজকাল
ভিক্ষা করার সময় নাই…আল্লা টপ কইরা টাকা ফেলেন না
ভিক্ষার থালে। ঐ বিশ্বাস মিথ্যা, কাজই সত্য…আজকাল
আমরা কাজ কইরা ভাত খাই প্যাট ভইরা। আমার
দুই পোলা, এক মাইয়া,। এগো মানুষ করার ভার আমার উপরে,
খোদার উপরে না। আমরা আল্লারে ভুল বুঝি; এই তিনডা
পোলা মাইয়ার জীবন দিছেন আল্লা। তাঁর কাম তিনি হরছেন,
এহন আমার কাম কাজ কইরা পোলাপান মানুষ হরা…
এই হইলো আসল কতা…তবে আল্লারে ভয় হরি …।”
অবশেষে একই রিক্সায় ঘরে ফিরে এসে রিক্সাওয়ালা ভাইকে
বিদায় দিলাম পকেট থেকে এক মুঠ ভাড়া দিয়ে।
এখন আমি ভুগছি দুক্ষানন্দে। আমি দুক্ষিত , কারণ
ভিক্ষুকদের জন্য পকেটের টাকা পকেটেই রইলো পড়ে;
আমি আনন্দিত, কারণ ভিক্ষাবৃত্তির নাকি অবসান ঘটেছে
বরিশাল শহরে বঙ্গ বন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা হাসিনার আমলে!

বিদায়

গিনি

বন বনান্তর ছাড়িয়ে
ব্যাকুলে দু হাত বাড়িয়ে
সকলে চিৎকারে, ” ওকে
বাঁধো, রুখো, দিওনা, দিওনা যেতে!
ও যে সব লয়ে যায়, ঝটিকা বায়।
দিওনা দিওনা যেতে।”
তবু তারে রুধা দায়,
চির চিরন্তন
এ কাল, সে কাল
অনন্ত কালের বিদায়!
সে অশরীরী সময়।
সময় যায় যায় রে!
তারে কেউ দেখে নাই,
তবুও তারে সকলে ধরিতে চায়।
ধরায়, অধরায় সে যায়,
লয় বিদায়,
সে যায় যায় রে।
কায়া হীন বলয়,
বলে, তোরা হল্লায়,
আমারে লয়ে তোলপাড়।
আমি শুরুতেও আছি,
শেষেও সকল কাছাকাছি।
শেষের পরও গতিময়,
মহাবিদায়!

মায়ের কাছে চিঠি

মমতাজ সবুর চৌধুরী

স্নেহময়ী মা আমার কতদিন দেখিনি তোমায়
তোমার ছবি ভাসে রাতদিন
কি যে করি মা পেয়েছে ডলারের নেশায়
ডলারের পেছনে ছুটি ডলারের আশায়
প্রবাসে থাকি মা নেই কোন বিশ্রাম
কত যে আরাম পেতাম যখন তোমার বুকে ঘুমাতাম
রাতদিন তোমার স্মৃতি শুধু ভাসে মনের আকাশে
এভাবে পনর বছর কেটে গেল মা পরবাসে
আশায় আছি সবুজ কার্ড কখান পাব তার আশে
যদি সবুজ কার্ড হাতে আসে
কথা দিলাম মা ফিরে যাব তোমার বুকে এবং নিশ্বাসে।
হিউস্টন।