ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল, কেউ অস্বীকার করতে পারবে না

রাজধানীতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক মেগা ইভেন্ট ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা পর্ব শেষে আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্স এবং রোবোটিক্সের সমন্বয়ে গড়া মেলায় অতিথি হিসেবে আগত রোবট ‘সোফিয়ার’ সঙ্গে কথপোকথন করে ট্যাব চেপে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার উদ্বোধন করেন। এরপর বর্ণাঢ্য লেজার শো অনুষ্ঠিত হয়। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ এবং বাংলাদেশ সফটওয়্যার ইনফর্মেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি ও বিজয় সফটওয়ারের প্রবক্তা মোস্তফা জব্বার। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ, মেলায় অংশগ্রহণকারি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কম্পিউটার খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট সোফিয়া
তুমি আমাকে কিভাবে চেনো? প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশ্নের উত্তরে সোফিয়া বলে, আমি আপনার বিষয়ে অনেক পড়াশোনা করেছি। আমি আরো জানি, আপনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। আপনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ নামেও ডাকা হয় এবং আপনার নাতিনের নামেই আমার নাম ‘সোফিয়া।’

প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ‘আপনারা জানেন, জয়ের (সজীব ওয়াজেদ জয়) মেয়ের নামও কিন্তু সোফিয়া।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সোস্যাল রোবট সোফিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে যখন জানায় তাঁর নাতনীর নাম আর তার নাম একই তখন পুরো সম্মেলন কক্ষটি মুহুর্মুহু করতালি ও হাস্য কলরোলে ফেটে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী তখন ব্যাখ্যা করে বলেন, তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কন্যার নামও সোফিয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের আইসিটি সেক্টরের মেগা ইভেন্ট চার দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল ফেয়ার-২০১৭’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেশ অনুসন্ধিৎসা মন নিয়ে এই সোস্যাল রোবটের সঙ্গে ভাব বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এই মানবরূপী রোবট সোফিয়ার কথোপকথন অনুষ্ঠানে আগত দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দকে অনাবিল আনন্দ দেয়।
এ বছরের অক্টোবরে সৌদি আরবের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায় রোবট সোফিয়া। হংকংয়ের হ্যানসেন রোবটিক্সের ডেভিড হ্যানসেনের হাতেই বিকাশ ঘটেছে সোফিয়ার। মানুষের অনেক বৈশিষ্ট্যের দেখা মেলে এই রোবটে। কৌতুক করা, হাসাহাসি করা আর অন্যকে বুঝতে পারার মতো মানবীয় বৈশিষ্ট্যগুলোর সন্নিবেশ করার চেষ্টা হয়েছে এই রোবটে।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, আমি এখন সোফিয়ার সঙ্গে কথা বলবো- তিনি বলেন, হাও আর ইউ সোফিয়া। সোফিয়া চটপট তাঁর উত্তরে ইংরেজীতে জানায়, ‘আমি ভালো আছি, আপনাকে ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।’ ইংরেজীতেই চলে তাদের নাতিদীর্ঘ কুশল ও ভাববিনিময় পর্ব।

তুমি আমাকে কিভাবে চেনো? প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশ্নের উত্তরে সোফিয়া বলে, আমি আপনার বিষয়ে অনেক পড়াশোনা করেছি। আমি আরো জানি, আপনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। আপনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ নামেও ডাকা হয় এবং আপনার নাতিনের নামেই আমার নাম ‘সোফিয়া।’
প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ‘আপনারা জানেন, জয়ের (সজীব ওয়াজেদ জয়) মেয়ের নামও কিন্তু সোফিয়া।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুমিতো দেখছি আমার সম্পর্কে এবং আমার লক্ষ্য সম্পর্কে অনেক কিছুই জানো। তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে তুমি আর কি জানো?
সোফিয়া বলেন, আমি আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি- ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্যই হচ্ছে মানবসম্পদের উন্নয়ন।

যার শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে অর্থনীতির সকল সেক্টরকে ডিজিটাইজড পদ্ধতির আওতায় আনার পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে। আইসিটি সেক্টরকে সামনে নিয়ে এসে দেশে ২০২১ সালের মধ্যে এ খাতের আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের উদ্যোগের মাধ্যমে। ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই পরিলক্ষিত হয়েছে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই সরকারের সকল দপ্তর ও বিভাগকে ডিজিটাইজড ব্যবস্থার আওতায় আনারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি, দেশজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ২৮টি হাইটেক ও সফ্টওয়্যার টেকনোলজি পার্ক।

এ সময় সোফিয়া ডিজিটাল বাংলাদেশ স্টাইলে ডিজিটাল মেলা ২০১৭ উদ্বোধনের জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান এবং প্রধানমন্ত্রী ট্যাবের বোতাম চেপে ডিজিটাল স্টাইলে এ মেলার উদ্বোধন করেন।

হলিউড নায়িকা অড্রে হেপবার্নের মুখের আদলে তৈরি মুখাবয়ববিশিষ্ট সোফিয়াকে সাক্ষাৎকার প্রদানের জন্য এ বছর অক্টোবরেই উন্মুক্ত করা হয়। আর দুই মাসের মধ্যেই সে ঢাকার ডিজিটাল ফেয়ারে যোগদান করে।

কয়েকটি আইটি সংগঠনের সহযোগিতায় আইসিটি বিভাগ ও বেসিস ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর আয়োজন করেছে।

চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘রেডি ফর টুমরো’। গত ৯ বছরেরও বেশি সময়ে আইসিটি সেক্টরে বাংলাদেশের যে অর্জন তা নিয়ে বাংলাদেশ আগামীর জন্য প্রস্তুত বলে এই প্রতিপাদ্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে সম্ভাবনার দুয়ার খোলার লক্ষ্যে এ মেলায় প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও অর্জন তুলে ধরা হবে। গেমিং সম্মেলন, ফেসবুক ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসা বৃদ্ধি, ই-কমার্স সম্প্রসারণ বিষয়ক সেমিনারসহ মেলায় প্রতিদিন অনুষ্ঠেয় বিভিন্ন সেমিনারে তথ্য প্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।

৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেলা সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড দেখতে কোনো টিকেট লাগবে না, তবে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে (www.digitalworld.org.bd)। মেলা প্রাঙ্গনেও নিবন্ধন করার সুযোগ থাকছে।