ঢাকায় চালু হচ্ছে বিশেষ ইউটার্ন

রাজধানী ডেস্ক : যানজট নিরসনে রাজধানীতে শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে বিশেষ ইউটার্ন। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে একটি ইউটার্ন পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে যানজটের আশানুরূপ নিরসন হয়েছে। শিগগির আরও দুটি ইউটার্ন তৈরির কাজ শেষ হবে। একসঙ্গে তিনটি ইউটার্ন চালু হলে উত্তরা থেকে বনানী পর্যন্ত সড়কের যানজট অনেকটাই থাকবে না বলে মনে করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

উল্লেখ্য, কামরুল ইসলাম নামের একজন প্রকৌশলী রাজধানীর যানজট নিরসনে বিশেষ ইউটার্নের এই ধারণাপত্র তৈরি করেন। বিভিন্ন জার্নালে এ ব্যাপারে তার লেখাও প্রকাশ হয়। বিষয়টি নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে।

আনিসুল হক ডিএনসিসির মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে গাজীপুর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত সড়কের যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিতে বলেন। এ জন্য ইউটার্ন নির্মাণের কথা বলেন। পরে বিভিন্ন সেবা সংস্থা, মেট্রোরেল প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেয়রের দফায় দফায় বৈঠক হয়। প্রকৌশলী কামরুলকেও সেসব সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। একপর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত ১১টি পয়েন্টে ইউটার্ন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

তিনটি ইউটার্নের মধ্যে জসীম উদ্দীন এভিনিউ ক্রসিংয়ের ইউটার্নটি গত ১৫ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ওই পয়েন্টে কোনো যানজট হচ্ছে না। গাড়িগুলো ডানে বাঁক নেওয়ার সময় ইউটার্ন ব্যবহার করে সহজেই বেরিয়ে যাচ্ছে। মূল সড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক থাকছে। অথচ ওই ক্রসিংয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগে থাকত। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর দিন ইউটার্নটি আবার বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে ওই এলাকায় আবারও যানজট তৈরি হয়েছিল। ১৭ জানুয়ারি ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের অনুরোধে ইউটার্নটি আবার খুলে দেওয়া হয়। ফলে ওই পয়েন্টে এখন আর কোনো যানজট নেই। এ ছাড়া কাওলা এবং উত্তরা র‌্যাব-১ অফিসের সামনের সড়কের ইউটার্ন দুটির কাজও প্রায় শেষের দিকে।

ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. জামাল মোস্তফা বলেন, শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে ইউটার্ন তিনটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। অন্যগুলোর নির্মাণকাজ দ্রæত করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব পয়েন্টে ইউটার্নের কাজ করলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেলের কাজ ব্যাহত হবে। এ জন্য সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ের নিচের অংশের কাজ শেষ হলেই সেগুলোর কাজ শুরু হবে।

ইউটার্নের ধারণাপত্র প্রস্তুতকারী এবং বর্তমানে এ প্রকল্পের কনসালট্যান্ট কামরুল ইসলাম বলেন, দুটি ইউটার্নের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে অন্যগুলোর কাজ বন্ধ আছে। সবগুলো ইউটার্ন চালু হলে যানজটের আরো সমাধান হবে। পুরো ঢাকা শহরকেই এভাবে যানজটমুক্ত করা যায় বলেও মত দেন তিনি।এ প্রসঙ্গে ইউটার্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান সমকালকে বলেন, চেষ্টা করেছি দ্রæততম সময়ের মধ্যে ইউটার্নগুলোর কাজ শেষ করতে। কতটুকু ফল পাওয়া গেল সেটা আপনারা নিজ চোখে দেখবেন। মূল্যায়ন আপনাদের।

ইউটার্নের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এম কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী হাসিবুর রহমান শাহীন জানান, তিনি চেয়েছিলেন দ্রæততম সময়ের মধ্যে ইউটার্নগুলোর কাজ শেষ করতে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তারও ধারণা, সবগুলো ইউটার্নের কাজ শেষ হলে তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কের যানজট অনেকটাই কমবে।

সরেজমিন জসীম উদ্দীন এভিনিউয়ে গিয়ে দেখা যায়, ইউটার্ন ব্যবহার করে গাড়িগুলো ডানে বাঁক নিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে ক্রসিংয়ে আগে যেভাবে গাড়িগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, এখন আর সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। ইউটার্ন তৈরির কারণে ওই পয়েন্টে রাস্তার প্রশস্ততাও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। তবে ইউটার্নটি চালু হলেও আশপাশের রাস্তা সমতল না করায় গাড়িগুলো দ্রæত টার্ন নিতে পারছে না।

যেভাবে যানজট কমায় ইউটার্ন : ইউটার্ন নির্মাণের উদ্দেশ্য হলো, রাজধানীর সড়কগুলোর ক্রসিং পয়েন্টের যানজট কমানো। এই প্রক্রিয়ায় ক্রসিং পয়েন্টে রাস্তার দুপাশের কিছু জমি নিয়ে সেখানে ডানে টার্ন নেওয়ার জন্য একটি লেন করে দেওয়া হয়। যেটি ব্যবহার করে গাড়িগুলো ডানে টার্ন নিতে পারে। এতে যানবাহনগুলোকে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। ইউটার্ন বিদ্যমান রাস্তার ওপরেই তৈরি করা যায়। বিটুমিন দিয়ে তৈরি রাস্তার মতো যাতে দ্রæত ভেঙেচুরে না যায় সে জন্য ইউটার্নের লেনগুলো তৈরি করা হয় কংক্রিট দিয়ে। ওই পয়েন্টে লেনের বাইরের উন্মুক্ত স্থানটুকুতে করা হয় ফুলের বাগান। এতে যানজটের যেমন নিরসন হয়, তেমনি নগরীর সৌন্দর্যও বাড়ে।

আরও যে পয়েন্টগুলোতে ইউটার্ন তৈরি করা হবে, সেগুলো হলোÑ তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, কোহিনূর কেমিক্যাল মোড়, মহাখালী বাস টার্মিনাল, মহাখালী ফ্লাইওভার, বনানী চেয়ারম্যানবাড়ী, বনানী কবরস্থান, বনানী ওভারপাস ও শ্যাওড়া।