ঢাকায় রূপ পাচ্ছে দেশের প্রথম ডিজিটাল সড়ক

রাজধানী ডেস্ক : কুলকুল ধারায় কোথাও ঝরবে পাহাড়ি ঝরনা। পাথরের গা বেয়ে নিচে জমে থাকা স্বচ্ছ জলে জলকেলি করবে নানা রঙের মাছ। ফুটপাথে থাকবে ফুলের সৌরভ, সবুজ পাতার বাহার। বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীরা বসতে পারবে ছায়ায়, ডিজিটাল যাত্রীছাউনিগুলোতে; যেখানে সব সময় থাকবে ইন্টারনেট সেবা ‘ওয়াই-ফাই’। দরকার হলে টাকা তোলার জন্য এটিএম বুথও থাকবে হাতের নাগালে। কয়েন দিয়ে পণ্য কেনার ব্যবস্থা থাকবে ছোট ছোট দোকানে। কথা বলতে বলতে চার্জ শেষ হয়ে গেলে মোবাইল ফোন সেটটি রিচার্জ করা যাবে রিচার্জ সেন্টারে। বিনামূল্যে পাওয়া যাবে বিশুদ্ধ পানি।

এখানেই শেষ নয়। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য আলাদা জায়গাও থাকবে সড়কের পাশে। থাকবে ডিজিটাল পুলিশ বক্স। সেখান থেকে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা সড়কের পরিস্থিতি তদারক করতে পারবেন। ১২টি স্থানে থাকবে কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনা। নিকুঞ্জ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত থাকবে সাইকেল লেন।

চীনের সাংহাই কিংবা বেইজিং বা থাইল্যান্ডের ব্যাংকক অথবা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের মতো ঢাকার বিমানবন্দর সড়ক এভাবেই ডিজিটাল রূপ পাচ্ছে। বনানী লেভেলক্রসিং থেকে বিমানবন্দর মোড় পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কে ডিজিটাল সেবার সুবিধা রেখে অবকাঠামো স্থাপনের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ এগিয়েছে। গত সপ্তাহে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কাজ দ্রæত সময়ে শেষ করতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের প্রথম ডিজিটাল সড়কটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেনÑ এমনটি চায় ঢাকা সড়ক বিভাগ।

তবে সওজের ভ‚মি ইজারা নীতিমালা চ‚ড়ান্ত অনুমোদন না হওয়ায় কাজ পুরোপুরি শেষ করতে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে ঢাকা সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সওজ অধিদপ্তরের ঢাকা সড়ক বিভাগের অধীনে এই কাজে ব্যয় হবে ১০০ কোটি টাকা। পুরো অর্থই বিনিয়োগ করছে ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রæপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। চীনের ফুজহৌ রিয়েলি কম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এই ডিজিটাল সড়ক ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পাচ্ছে। এই প্রকল্পের নাম ‘বনানী ওভারপাস থেকে বিমানবন্দর মোড় সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প’।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, স্থানে স্থানে থাকবে ডিজিটাল ডাস্টবিন, ডিজিটাল ট্রাফিক সাইন, স্বয়ংক্রিয় ধুলা পরিষ্কারের যন্ত্র, এলইডি স্ট্রিট লাইট, এলইডি অর্নামেন্টাল গার্ডেন লাইট। এগুলো বসানোর কাজ বিভিন্ন অংশে এগোচ্ছে। নিকুঞ্জ অংশের পাশে থাকবে শিশুদের জন্য কিডস জোন।

ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রæপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদ মনসুর বলেন, ‘আমি বিশ্বের বিভিন্ন নগরী ঘুরেছি। ঢাকার সড়কের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে কষ্ট পেয়েছি। কষ্ট দূর করতেই আমি আদর্শ সড়কের এসব আবহ তৈরি করতে পরিকল্পনা করি। এখানে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। আমরা মূল কাজ করছি ৯০ কোটি টাকায়। এ ছাড়া প্রতি বছর পাঁচ কোটি টাকা করে ১০ বছর রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ অর্থ ব্যয় হবে।’