ঢাকা সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা : ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে ইসলামী ঐক্যজোট

রাজনীতি ডেস্ক : আগামী জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে দলটি। গত ৭ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির জাতীয় মহাসমাবেশে এ ঘোষণা দেন দলের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী। সমাবেশে দলের ঘোষণাপত্র পাঠকালে তিনি বলেন, ইসলামী ঐক্যজোট আগামী নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট, মহাজোট বা অন্য কোনো জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না। নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ইসলামী ঐক্যজোট জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ‘মিনার’ প্রতীকে অংশ নেবে। প্রয়োজনে নিজস্ব বলয়ে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত ইসলামী সমমনা কয়েকটি দল নিয়ে জোট গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
দলের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ইসলামী ঐক্যজোট নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে চলবে, কোনো লেজুড়বৃত্তি করবে না। আমরা প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনের প্রার্থীর তালিকা করেছি। অচিরেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আসন্ন মেয়র উপনির্বাচনে দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী ইয়াকুবকে তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। তিনি আরও বলেন, যারা মানিলন্ডারিং করছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি বুঝি না, দেশের মানুষের টাকা যারাই পাচার করবেন, তাদের বিচার হতেই হবে। সৌদি আরবসহ যেসব দেশে টাকা পাচার হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সেসব দেশ থেকে টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান দলের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী। তিনি বলেন, স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু অবিলম্বে জাতীয় সংসদে আইন পাস করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যই ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করেছি। অনেকে বলেন, আমরা ২০ দলীয় জোট ছেড়ে ভুল করেছি। ২০ দলীয় জোট ছাড়ার পর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি সরেছে, পাঠ্যসূচি থেকে নাস্তিক্যবাদী লেখা সরেছে, কওমি সনদের স্বীকৃতি মিলেছে। মহাসমাবেশ থেকে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, রোহিঙ্গা মুসলমানদের আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ ও তাদের সম্মানের সঙ্গে স্বদেশে ফেরত নেওয়ার দাবি জানানো হয়। মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন ভাইস চেয়ারম্যান ও মধুপুরের পীর আবদুল হামিদ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, অধ্যাপক এহতেসাম সরোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল, মুফতি তৈয়্যব হোসাইন, মাওলানা লোকমান হোসাইন, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মাওলানা শহিদুল ইসলাম ইনসাফী প্রমুখ।