তবুও দমেনি হেলেনা

নারী ডেস্ক : দুই পা অচল। ডান হাত বাঁকা। তবুও দমেনি প্রতিবন্ধী মেধাবী ছাত্রী হেলেনা খাতুন। সে চলতি বছর গফরগাঁও উপজেলার খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী। দশম শ্রেণিতে তার রোল তিন ছিল।
সে ঘাগড়া গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিন ব্যাপারীর মেয়ে। শাহাবুদ্দিন ব্যাপারী ও ফজিলা খাতুন দম্পতির ছয় ছেলেমেয়ের সবার ছোট হেলেনা। বাকি এক ভাই ও চার বোন বেশি দূর পর্যন্ত পড়ালেখা না করতে পারলেও দু’চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার নিরন্তর সংগ্রামী মুখ শারীরিক প্রতিবন্ধী হেলেনা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে শিক্ষার আলোয় নিজেকে আলোকিত করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হেলেনার মা ফজিলা খাতুন জানান, শৈশব থেকেই পড়ালেখা করার প্রবল ইচ্ছার কারণে ঝড়, বৃষ্টি, রোদ, কাদা, পানি উপেক্ষা করে দুই হাতে ভর দিয়ে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরের স্কুলে সে নিয়মিত যেত। কোন দিন স্কুল কামাই করত না। খায়রুল্লাহ উচ্চ বালিকা পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব মফিজ আহম্মেদ জানান, হেলেনা ভালো পরীক্ষা দিচ্ছে। তার দুই পা অচল ও ডান হাত একেবারে বাকা। তবুও সে ডান হাতেই লেখে। পরীক্ষায় খাতায় লেখাও চমৎকার। ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সময় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নানা অসুবিধায় পড়তে হয়। অথচ মেধাবী হেলেনার পড়ালেখার প্রতি আগ্রহের কথা চিন্তা করে তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। পরীক্ষা শেষে হেলেনা জানায়, মার বিশেষ আগ্রহের কারণে সে পড়ালেখা করতে পারছে। তার ইচ্ছা একজন ডাক্তার হওয়া। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার ব্যাপারে সহযোগিতা করা।