তীব্র হচ্ছে ইইউ-ব্রিটেনের দোষারোপের রাজনীতি

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিট চুক্তি না হলে এর দায় কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে পরস্পরের ওপর এখনই দোষ চাপাতে শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্রিটেন। দুই পক্ষের এ বিত-ার মধ্যে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আর মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে ব্রেক্সিট চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিসন জনসনকে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট করতে হবে অথবা ব্রেক্সিট পেছানোর জন্য ইইউর কাছে আবেদন করতে হবে।
জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে গত ৫ অক্টোবর ইইউর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যদিও সেদিন কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত ৭ অক্টোবর আবার দুই পক্ষের আলোচনায় বসার কথা। এক দিকে আলোচনা যেমন চলছে, তেমনি চলছে সংবাদমাধ্যমকে আশ্রয় করে উভয়পক্ষের বাগবিতণ্ডা।

ইইউর ব্রেক্সিট বিষয়ক সমঝোতা দলের প্রধান মাইকেল বার্নিয়ার গত ৫ অক্টোবর এক ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সমঝোতায় পৌঁছানো খুবই কঠিন হবে, তবে সেটা সম্ভব।’ চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট আমরা চাই না। তার পরও আমরা এর জন্য প্রস্তুত। ইইউ কখনোই চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের রাস্তা বেছে নেবে না। তার পরও যদি সে রকম কিছু ঘটে, তবে সেটা ঘটবে ব্রিটেনের ইচ্ছায়।’

এদিকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী জনসন গত ৬ অক্টোবর স্থানীয় দুটি সাপ্তাহিক সংবাদমাধ্যমে লেখা নিবন্ধে মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা ২৫ দিনের মধ্যে (ইইউ) ত্যাগ করছি। ইইউর সদিচ্ছা থাকলে আমরা চুক্তিসহ কাজটা করতে পারি।’ তার প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট চুক্তি অনুসারে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অংশ উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যবর্তী সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হবে না, এমন দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ইউরোপীয় বন্ধুদের বলছি, আমাদের নতুন প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে, তা লুফে নিন। আপস ও সহযোগিতার মনোবৃত্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসুন।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন ইইউর উদ্দেশে সমঝোতার বার্তা দিলেও আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সীমানা বিতর্ক এখনো অমীমাংসিত হয়ে আছে। এ দুই আইরিশ ভূখ-ের বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে দেয়াল তুলতে মোটেই রাজি নয়। অথচ ব্রেক্সিট কার্যকর হলে এ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এ বিতর্ক মেটাতে না পেরে জনসনের পূর্বসূরি তেরেসা মে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার দায় ঘাড়ে নিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। সীমানা বিতর্ক মেটাতে তার প্রস্তাবিত ‘ব্যাকস্টপ’ পরিকল্পনা তিনবারের চেষ্টা সত্ত্বেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করানো যায়নি। ওই প্রস্তাবে যুক্তরাজ্যকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইইউর একক বাজারভুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল।

জনসনের সংশোধিত ব্রেক্সিট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ড ইইউর একক বাজারভুক্ত থাকবে, তবে জোটের শুল্কব্যবস্থা ওই ভূখ-ের ওপর কার্যকর হবে না। জনসনের বিরোধী শিবির ওই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব ও অকার্যকর’ অ্যাখ্যা দিয়েছে। এ ছাড়া ইইউ এ প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে ওই প্রস্তাবে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ আনার জন্য জনসনকে চাপ দিচ্ছে।
জোটের কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, ইউরোপীয় কমিশনের আগামী ১৭-১৮ অক্টোবরের সম্মেলনে ব্রেক্সিট চুক্তি পেশ করতে হলে এ সপ্তাহের মধ্যেই ইইউ-ব্রিটেনকে চুক্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে। তা না হলে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করা সম্ভব না-ও হতে পারে।