তৈরি পোশাকের নতুন বাজার বড় হচ্ছে

ঢাকা : তৈরি পোশাকের প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে অনেক উদ্যোগ রয়েছে। অপ্রচলিত বা নতুন শ্রেণির ২৫ বাজারে রফতানি উৎসাহিত করতে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এখনও বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয় নতুন ওই দেশগুলোতে রফতানি বাড়াতে প্রায় প্রতি মাসেই যাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি মিশন। এর সুফল হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রফতানিতে বড় উল্লম্ফন হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে রেকর্ড ৩৬ শতাংশ।

এই বৃদ্ধি প্রচলিত ও অপ্রচলিত সব বাজারে মোট রফতানি বৃদ্ধির হারের দ্বিগুণেরও বেশি। এ সময় সব বাজারে গড় পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৬ শতাংশের মতো। নতুন বাজারে হঠাৎ রেকর্ড রফতানির কারণ সম্পর্কে উদ্যোক্তারা বলেছেন, বড় বিনিয়োগে কারখানার অবকাঠামো ও নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্কারের সুফল এখন সব বাজার থেকেই আসতে শুরু করেছে। উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন শুরু হওয়ার সুবাদে জাপানের মতো স্পর্শকাতর বাজার থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক রফতানিতে প্রতিযোগী হলেও চীন ও ভারতের বাজারে ক্রমে বাংলাদেশের দখল বাড়ছে। এর মধ্যে চীন তৈরি পোশাক থেকে প্রযুক্তি পণ্যে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে আগামীতে দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানি আরও বাড়বে। চীনের বাজার তিন হাজার কোটি ডলারের। বছরে দেশটি প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করে। এর ১ শতাংশ নিতে পারলেও বাংলাদেশের রফতানি বাড়বে কয়েকগুণ।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বিজিএমইএর তথ্যমতে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গেল ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন বাজারে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৩৬ দশমিক ২১ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের (২০১৬-১৭) একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

প্রচলিত বাজারের সঙ্গে নতুন বাজারের এ সময়ের তুলনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে ২৮ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পোশাকের রফতানি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। একক বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ১৯ শতাংশ। কানাডায় বেড়েছে ২০ শতাংশ। এই তিন বাজারকে প্রচলিত বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বাইরে গত এক দশক ২৫টি দেশকে অপ্রচলিত বা নতুন বাজার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১টি দেশকে নতুন বাজার শ্রেণির বড় বাজার হিসেবে গণ্য করা হয়। এসব বাজারের মধ্যে তুরস্ক ছাড়া সব দেশেই রফতানি বেড়েছে। আলোচ্য ছয় মাসে নতুন বাজারে ২৯০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। এ সময় প্রচলিত-অপ্রচলিত সব বাজারে তৈরি পোশাকের মোট রফতানির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭০৮ কোটি ডলার।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন বাজারে রফতানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব বাজারে রফতানি বাড়াতে যোগাযোগ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়ভাবে সব দেশে অফিস খুলতে হবে। পণ্য সম্পর্কে স্থানীয়দের ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিযোগী দেশগুলো কোন কৌশলে এসব বাজারে রফতানি বাড়াচ্ছে, সে বিষয়গুলোর ওপর চোখ রাখা দরকার। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ বাণিজ্য সম্পর্ক দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে এশিয়ার বড় বাজারগুলোকে টার্গেট করে ওই সব দেশের বিনিয়োগ আনার বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য ছয় মাসে সর্বোচ্চ রফতানি আয় এসেছে জাপান থেকে। ৫৫ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে দেশটিতে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি ৫.১ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানি ৩৬ কোটি ডলার এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। আগের একই সময়ের তুলনায় বেশি হয়েছে ১৮ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৭ কোটি ডলারের আয় এসেছে প্রতিবেশী ভারত থেকে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিবেশী দেশটিতে রফতানি বেড়েছে রেকর্ড ১৪.৩ শতাংশ। নতুন বাজার শ্রেণির আলোচিত বাজার চীনে রফতানি হয়েছে ২৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বৃদ্ধি প্রায় ৬.১ শতাংশ।