ত্যাগের মহিমা

চৌদ্দশ’ বছর আগের সেই কারবালা প্রান্তর-
আজো আছে, শুধু নেই তার প্রাণ।
হারানো স্মৃতিকে স্মরি আজো কাঁদে হায়
ফোরাত নদীর পানি ।
তৃষ্ণায় বুক ফাটে ইমাম হোসেন (রাঃ)এর
মা ফাতেমা(রাঃ)র স্নেহের দুলালের,
হোসেন শিবিরে শুধু হাহাকার,–
—পানি দাও, এক ফোঁটা পানি !
সন্তানের তৃষিত মুখে একফোঁটা মাতৃদুগ্ধ
দিতে পারেনা জননী ।
কুচক্রী পাষাণ এজিদ শয়তান,
চক্রজালে নিহত তীরবিদ্ধ তৃষ্ণার্ত
নিষ্পাপ সন্তান। সাহরে বানুর কোলে।
প্রণয় ব্যাকুল দু’টি হৃদয়ে বাজিল যবে একই সুর,
বিধির খেয়াল, বাসর শয়ান রইল অনেক দূর ।
কাশেম চলেন বীরের বেশে কারবালা প্রান্তর
প্রিয়তম লাগি বুক ফাটে আজ নব-বধূ সখিনার।
পলকে আজ রাঙিল ধরা পলকে হইল দূর,
আকাশেতে আজ দশমীর চাঁদ বিবর্ণ পান্ডুর !
এজিদের চর পাষাণ সীমার,
হোসেনের শির করিল সংহার ।
কাঁদে জায়া-জননী, কাঁদে মরু-প্রান্তর,
কাঁদে তরুলতা, আকাশ বাতাস, হাহাকার মাতম!
শহীদানের অমর রক্তে লিখা হলো এক ইতিহাস
ত্যাগ তিতীক্ষার, পাষাণ ও নৃশংসতার !
মহান আর পাষাণের অভূতপূর্ব এই সমাবেশে,
তৃষ্ণার্ত যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন শত্রুর সাথে যুঝে, মৃত্যু ই জীবনের শেষ পরিণতি নয়,–তাঁরা এই গেল বলে,
কারবালা ফোরাত আজো কাঁদে হায়,–মরুর মর্মতলে !
নিউ ইয়র্ক, বাফেলো।