ত্রিভুবন বিমান বন্দর ট্রাজেডি-০১

অধ্যাপক সিরাজুল হক

মুখ থুবড়ে আছে পড়ে হিমালয়ের পাদদেশে
আমার স্বজনেরা নিয়তির কঠিন পরিহাসে;
কে জানিত আগে এই মর্মান্তিক বেদনার কথা?
দুঃখের সাগর হলো যেন সৃষ্টি এই শোকাবহ দুর্ঘটনায়।

সমগ্র জাতি আজ হলো দিশেহারা হলো কাতর শোকে
সে শোকের হবে কি সমাপ্তি এই মর্ত্যলোকে কস্মিনকালেও?
গভীর রজনী শেষে হয় উদিত উজ্জ্বল সূর্য, করে আলোকিত
এই পৃথিবীর বুকে; গিয়েছে নিভে আজ যাদের জীবন প্রদীপ
আসিবে কি ফিরে কভু এই ধরণীর বুকে।

তারাতো গিয়েছে চলে আমাদের ছেড়ে এমন না ফেরার দেশে
কান্নায় দুনয়ন ভাসিয়ে দিলেও আর কি পাব কাছে।
কত যে কাকুতি-মিনতি আর্তচিৎকার বিমানের ধ্বংসস্তুপের মাঝে
করেছিল অসহায় এই মানুষেরা কে জানে শুধু অন্তর্যামী ছাড়া।

কঠিন ব্যথা বুকে বেধে আছে যারা বেঁচে
শোকে মাতম করছে তারা, করছে পার বিনিদ্র রজনী।
জানি দুর্লভ এ জীবনগুলোর শেষ পরিণতি দেখেছে যারা
স্বীয় নয়নে, হৃদয়ে তাদের বাজছে যেন
এক দুর্বিষহ মৃত্যুঘন্টা। এমনি করে আজ শোকে মুহ্যমান
সমগ্র নেপালবাসী নর-নারী এই কঠিন মুহূর্তে।
কে ভেবেছে আগে এ মায়ার পৃথিবীতে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবের
হবে এ পরিণতি।

এ যেন মুহূর্তের লীলা খেলা মুহূর্তেই হলো সাঙ্গ
প্রকৃতির লীলা ভূমির মাঝে।
উড়ন্ত পাখির মতো উড়ে গেল যাদের পবিত্র আত্মা
আজ করছে বিরাজ ঊর্ধ্বলোকে, কি হালে আছে আজ তারা
দয়াময় মহান স্রষ্টাই ভালো জানে।

অনাদি অনন্তকাল থাকবে তারা এমনি এক স্থানে
পাবেনা সাক্ষাৎ তাদের ইহলোকে যারা রয়েছে বেঁচে।
একটি যাত্রা না হতেই শেষ আরেকটি যাত্রা হলো
জানে না কেউ গন্তব্য সে যাত্রার পৃথিবীর মানুষ কেউ।

তাদের কথা যতই ভাবি চোখে আসে শুধু জল
কি করে কাটাই তাদের ছাড়া এই ধরণীতল?
জানাই সালাম-হাজার সালাম তোমাদের বিদেহী আত্মার প্রতি;
স্বর্গ সুখে থাক তোমরা এইটাই আমাদের কামনা আজি।

লেখক : জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য।
(ইউ এস বাংলা বিমান বিধ্বস্ত, ১২ মার্চ সোমবার ২০১৮,
কাঠমা- বিমান বন্দরে পাইলট, ক্রু ও যাত্রীসহ
৭১ জনের মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু।)