থ্যাংকস গিভিং ডে ও তার আয়োজন

খোন্দকার আনোয়ার হোসেন : ২২ নভেম্বর থ্যাংকস গিভিং ডে। ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে মার্কিনীরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকে। দিনটি ঞযধহশং মরারহম ফধু, নভেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার। ঞযধহশং মরারহম এর শাব্দিক অর্থ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রথা হাজার বছরের প্রাচীন প্রথা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ব্যক্তির প্রতি, দেবতার প্রতি। ধর্মীয় প্রথায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি বেঁচে থাকার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। মসজিদ-মন্দির-গীর্জা-ঝুহধমড়মঁব, ব্যক্তিগত পর্যায়ে গৃহে-গৃহে উদযাপিত হয়ে আসছে থ্যাংকস গিভিং। প্রাণী মাত্রই খেতে হয়, বেঁচে থাকার জন্যে। জন্মাবধি আমৃত্যু খাবার তাড়নায় ব্যস্ত থাকে। বসতিস্থলে মড়ক দেখা দিলে দিশেহারা অন্নক্লিষ্ট জনগোষ্ঠী উদরপূর্তি খাবারের সংস্থান পেলে অবচেতনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কৃতজ্ঞতাপাশে সমগ্র জনগোষ্ঠী নিয়ে আবদ্ধ করে অদৃশ্য শক্তি সৃষ্টিকর্তার প্রতি। দৃশ্যত মহাশক্তি সূর্য দেবতা। কেননা সূর্যের সাথে সম্পৃক্ত রবিশস্য বা ধান উৎপাদন। শস্য উৎপাদনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রথা হাজার বছর ধরে। মধ্যপ্রাচ্যে বা ইহুদি সম্প্রদায় ঝটককঙঞ উৎসব পালন করে সপ্তাহব্যাপী। অনেক বছর অনাবাদী থাকার পর ব্যাপক শস্য আবাদে কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ঝটককঙঞ উৎসব ধর্মীয় অনুশাসনে নবী মুসার আদেশে শুরু হয়। আজ অবধি তা চলছে।
পঞ্চাশের মন্বন্তর মানবসৃষ্ট। প্রাকৃতিক দুর্যোগ গৌন। মুখ্য ভূমিকা পালন করে ইংরেজ শাসক। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে জাপানের বার্মা দখল ও বঙ্গ দেশে বোমা বর্ষণে ইংরেজ সরকার উবহরধষ ঢ়ড়ষরপু তৈরি করে। উদ্দেশ্য-বঙ্গদেশে ওহভৎধ-ঝঃৎঁপঃঁৎব-ঊপড়হড়সরপং ধ্বংস করে দেয়া। এতে জাপানি জুজুকে প্রতিরোধ-প্রতিজ্ঞ (?) করা। জীবন ধারণে প্রধান উপকরণ ধান উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেয়া (বরিশাল-খুলনা-মেদিনীপুর)। পরিবহন ব্যবস্থায় ৪৬,০০০ পরিবহন (ঈঅজএঙ) নৌকা দখল বা ধ্বংস করে দেয়া হয়। নির্বাহী আদেশ হয় ১৯৪২ সালে। ফলশ্রুতি পরিবহন ব্যবস্থা ও কৃষি কাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত। মৎস্যচাষও বন্ধ হয়। এর সাথে যোগ হয় দূরারোগ্য রোগব্যাধি। সৃষ্টি হয় ১৯৪৩ এর মন্বন্তর। অনাহার ক্লিষ্ট বাঙালির মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় তিন লাখ। স্বাভাবিকভাবেই মন্বন্তর কাটিয়ে ব্যাপক শস্য উৎপাদনে বাঙালির নবান্ন উৎসব পালনে ধর্মের সাথে বিরোধ থাকার কথা নয়। পরন্ত শুকরিয়া আদায়ে (ঞযধহশং মরারহম) বছরে একটি মাসে নবান্ন উৎসবে আনন্দ উদযাপন অধিকতর যুক্তিগ্রাহ্য।
তেমনটি সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বছরের নতুন ফসল উৎপাদনে (ঐঅজঠঊঝঞওঘএ) ঞযধহশং মরারহম প্রথা উদযাপন হাজার বছর ধরে উদযাপিত। ইউরোপীয় সমাজেও বিভিন্ন ধর্মীয় উপসনালয়ে। ইউরোপের দ্বিতীয় অভিযাত্রী দল ইংল্যান্ডের চষুসড়ঁঃয থেকে পধঢ়ব পড়, গধংংধপযঁংবঃঃং এ আসে ১৬২০ সালে ২১ ডিসেম্বর। বসতিস্থলের নামকরণ করেন চষুসড়ঁঃয। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় ও নতুন দেশে শীতের প্রকোপে বেশ কিছু অভিযাত্রী প্রাণ হারান। অভিযাত্রী দলের প্রাক্কালে কয়েক বছর খরায় অনাবাদী থাকে চষুসড়ঁঃয. ১৬১৪ থেকে ১৬১৭ সাল নাগাদ ৯৫% ভাগ আদিবাসী নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ১৯২১ সালে ফসলের ব্যাপক ফলনে স্থানীয় আদিবাসী ও নতুন অভিযাত্রী-অভিবাসী আনন্দিত হয়। তারই ফলশ্রুতিতে সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ঞযধহশং মরারহম উধু উদযাপন। বলা হয়ে থাকে, এর প্রচলন ১৫৬৫ সালে ঋষড়ৎরফধ তে এবং ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৬১৯ সালে ভার্জিনিয়াতে।
কিন্তু সামগ্রিক উৎসবের মর্যাদায় চষুসড়ঁঃয এ ঞযধহশং মরারহম উধু উদযাপন। স্মর্তব্য, প্রথম ঞযধহশং মরারহম উধু উদযাপনে ৯০ জন আদিবাসী ও ৫৩ জন অভিবাসী ছিলেন। সরকারি মর্যাদা পায় এই উৎসব আব্রাহাম লিংকন দ্বারা (নভেম্বরের শেষ বৃহস্পতিবার)। পরবর্তীতে পরিপূর্ণ রূপ পায় ফ্রাংকলিন রুজভেল্টের আদেশক্রমে নভেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার উদযাপন।
ঞযধহশং মরারহম উধু উদযাপন মূল তিনটি উপকরণ আজ অবধি চলে আসছে: ক) মূল খাবারে ঞঁৎশবু, আলুুভর্তা (গধংং ঢ়ড়ঃধঃড়), পধহনবৎৎু ংধঁপব, ঢ়ঁসঢ়শরহ চরব, খ) স্বেচ্ছাশ্রম (ঠড়ষঁহঃঁৎরহম) গ) বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ। এর সাথে যোগ হয়েছে ১৯২০ সালে এরসনবষং প্রবর্তিত চধৎধফব। ও ১৯২৪ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে গধপু’ং ঞযধহশং মরারহম উধু চধৎধফব, যা আজ অবধি চলছে। পরিবর্তিতে প্রবর্তিত হয় ঘরে তৈরি পিঠা, ফিন্নি, সেমাই বা হালুয়া। এবং গোটা অনুষ্ঠান ড়হব ফরংশ ঢ়ধৎঃু তে পরিণত হয়। কোনো ধরনের খাদ্য প্রস্তুতিতে লক্ষ্য হওয়া উচিত- ১) সুস্বাদু ২) সহজ, ৩) মিশ্রিত উপাদানের যৌক্তিকতা ও ৪) রুচিসম্মত পরিবেশন। ঞঁৎশবু জড়ধংঃ করার পদ্ধতি শতাধিক উপায়ে অনুসৃত। আফ্রো আমেরিকান, হিসপাানিক সম্প্রদায় বা ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় করা। মনে রাখা দরকার-নিমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পরিবেশিত খাদ্য উপভোগ্য হয়ে উঠে।