দক্ষিণাঞ্চলে হবে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

গ্রামবাংলা ডেস্ক : দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথম ধাপ হিসেবে প্রকল্প স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চায়। এ জন্য উপক‚লবর্তী জেলার চর ও দ্বীপগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। স্থান নির্বাচনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৩টি স্থান নির্বাচন করে সেগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও পরমাণু শক্তি কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, তারা সফলতার সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। সময়সূচির চেয়ে এই প্রকল্পের কাজ কয়েক মাস এগিয়ে রয়েছে। এই প্রকল্পটি সমাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের দেশি জনবলও প্রস্তুত হবে। তখন বাংলাদেশ নিজেই এই প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী আরেকটি পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

ইয়াফেস ওসমান বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ এক প্রকার মহাযজ্ঞ। রূপপুরের কাজ চলছে। পাশাপাশি আরেকটি প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করার মতো জনবল নেই। তাই তারা ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন। তবে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। প্রথমে স্থান নির্বাচন করতে হয়। সেই স্থানের যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা, পরিবেশ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করতে হয়। এসব শুরু হয়েছে।

পরমাণু শক্তি কমিশন সূত্র জানায়, প্রথমে দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী ৮টি স্থানে সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলো হলোÑ পটুয়াখালীর গলাচিপার পক্ষীয়ারচর, বরগুনার তালতলীর খোট্টারচর ও নিদ্রারচর, টেঙ্গারচর, আলিসার মোড়, খুলনার চরহালিয়া, নোয়াখালীর বয়রাচর এবং ফেনীর মুহুরীরচর। এর মধ্যে পক্ষীয়ারচর, খোট্টারচর ও নিদ্রারচর এই তিনটি স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু এই তিন স্থানের দুটিতে দুটি সরকারি সংস্থা নিজেদের প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছে। আরেকটিতে একটি বেসরকারি সংস্থাকে বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ জন্য আগের বাকি স্থানগুলোসহ নতুন আরও এলাকা যুক্ত করে মোট ১৩টি স্থান নিয়ে এবার কাজ শুরু করেছে পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, এর মধ্যে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে আটটি স্থান তাদের তালিকায় রয়েছে। বাকি স্থানগুলোর অবস্থান চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এর মধ্যে রয়েছে বাঁশখালী উপক‚ল, সোনদিয়া দ্বীপ ইত্যাদি।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এখন তারা এসব এলাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভূ-তাত্তি¡ক গঠন, যোগাযোগব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহ করছেন। এরপর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বিধিমালা অনুসারে সার্বিক জরিপ কাজ পরিচালনা করা হবে।

বিদ্যুৎ খাতের মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসবে পারমাণবিক ও নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তায় পাবনার রূপপুরে বাংলাদেশ তার প্রথম পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

সূত্র জানিয়েছে, দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পরিকল্পনা অনুসারে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি চুল্লি স্থাপনের জন্য অবকাঠামোর নির্মাণকাজ অনেকটাই এগিয়েছে। সব ঠিক থাকলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরেই প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে। এখানে দুই ইউনিটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, বাস্তবায়ন ব্যয় বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদি এবং গ্যাস, তেল ও কয়লার মতো জ্বালানি খরচ না থাকায় তুলনামূলক সস্তা হবে এই বিদ্যুৎ। এই প্রকল্পের লাইফ বা জীবনশক্তি হবে ৫০ বছর। আর তা সংস্কার করলে দাঁড়াবে ৮০ বছর।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য যেমন প্রচুর অর্থ প্রয়োজন তেমনি সময়ও লাগে অনেক। এখন সরকার দ্বিতীয় পারমাণবিক কেন্দ্রের দিকে নজর দিয়েছে। স্থান নির্বাচনের কাজ শুরু হয়েছে।

পাকশীর গাছে গাছে লাল ক্রসচিহ্ন