দশ বিশিষ্ট নাগরিককে নিয়ে জনমনে কৌতূহল

ঢাকা অফিস : ১০ বিশিষ্ট নাগরিককে নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে রাজধানীর ১০টি আসনে এসব বিশিষ্ট নাগরিকের অংশগ্রহণ দেখতে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন নেতা। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে কিছু আলাপ-আলোচনাও হয়েছে।
কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের নামও উঠে এসেছে সে আলোচনায়। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন- বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক তিন উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সুলতানা কামাল; সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যেও প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন (বর্তমানে কারাগারে), ড. শাহদীন মালিক, সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আসিফ নজরুলসহ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকদের নাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে কিছু বিশিষ্ট নাগরিককে রাজধানীর আসনগুলোর জনপ্রতিনিধি দেখতে চান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তারা বলছেন, রাজধানীতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক নেতারা সেসব পদক্ষেপ নিতে পারেন না। অথচ দিনদিন বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়া রাজধানী ঢাকাকে বাঁচিয়ে রাখতে ও বসবাস উপযোগী করে তুলতে পদক্ষেপগুলো নেয়ার বিকল্প নেই।
সূত্র জানায়, সবাই শুধু পরিবর্তন চায়। রাজনৈতিক দলগুলোতে দোষারোপ করে। কিন্তু নিজেরা পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে না। তাই রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতাদের দোষ ধরলে হবে না। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বিশিষ্ট কিছু নাগরিককে সামনে আসতে হবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, বিশিষ্ট নাগরিকরা নির্বাচনে এলে বিএনপি স্বাগত জানাবে। দলটি মনে করছে, এই ব্যক্তিরা নির্বাচনে এলে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের ওপর চাপ বাড়বে। এটা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত ও ফলাফলে তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর সুযোগকে জোরদার করবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আগে উনারা সামনে আসুক। তারপর পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। কিন্তু বিশিষ্ট নাগরিকরা সরাসরি ভোটের মাঠে আসবেন কিনা এ নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে যাদের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও বর্তমানে কারাবন্দি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন প্রথম থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের ডাকে সাড়া দিয়ে কয়েকদিন আগে তাদের একটি বৈঠকে অংশ নেন ড. শাহদীন মালিক। সেখানে তিনি তার আইনি পরামর্শে উল্লেখ করেনÑ সংসদ ভেঙে নির্বাচনের বিষয়টি সংবিধানেই রয়েছে।