দানবের চেয়েও দানবীয়

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান
একদিন হঠাৎ দেখা হয়ে যায় এক দানবের সাথে
আমি তখন যতটা না ভয়ে হয়েছিলাম সংকুচিত
তার চেয়েও বেশি তীব্র ভয়ে দানব হলো আতঙ্কিত
কোথায় সে যে পালাবে, যেন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য।

একটি বারের জন্য আমার দৃষ্টিতে তার দৃষ্টি পড়ে
সাথে সাথেই সে অসহায়ের মতো চোখ নামিয়ে নেয়
আমি দেখলাম তার দৃষ্টিজুড়ে ছিল প্রাণের ভয়
বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়।

আমার বিস্ময় যেন কাটে না, এটা কীভাবে সম্ভব!
মানুষ দেখে বুঝি দানবের এমন করুণ দশা হয়!
অবশেষে কৌতূহলে জিজ্ঞেস করলাম-হে দানব,
তুমি কেন অহেতুক আমায় দেখে পাচ্ছ এত ভয়?

দানব তখনো মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে,
পায়ের বুড়ো আঙুলে ক্রমাগত মাটি খুঁড়ে যাচ্ছে
বারবার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও মুখে কুলুপ এঁটেই আছে
ভয়ে-আতঙ্কে সমস্ত শরীর ঘেমে চুপচুপ হয়ে গেছে।

অধৈর্য ও বিরক্ত হয়ে দিলাম জোরে এক হুংকার
কী আশ্চর্য! দুহাত জোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইল
তরতর করে কেঁপে হাঁটু গেড়ে বসে গেল মাটিতে
এমন অদ্ভুত কাণ্ড দেখে মেতে উঠি অট্টহাসিতে।

হঠাৎ করেই দানব বলে ওঠে, জানি তুমি মানুষ
সারা বিশ্ব তোমার ওই ছোট্ট হাতের মুঠোয় বন্দি
এক তুড়িতে ধ্বংস করে দিতে পারো এই পৃথিবী
এমনকি এই মহাবিশ্বের গ্রহ-উপগ্রহ-নক্ষত্রপুঞ্জি।

আমরা দানব, করি না তোমাদের মতো হিংস্র তাণ্ডব
তোমরা দানবের চেয়েও দানবীয়, অসুরের পাণ্ডব
তোমরাই তো রচনা করেছ নাগাসাকি-হিরোশিমা
সারা বিশ্বজুড়ে বাজিয়েছ অসংখ্য যুদ্ধের দামামা।
-নিউইয়র্ক।