দাম্পত্যে ভালোবাসা

নারী ডেস্ক : বাঁশি কই আগের মতো বাজে না মন আমার তেমন কেন সাজে না। শিল্পীর গাওয়া এ গানের মতোই অনেকের হয়তো সংসার-সঙ্গীতের তাল কেটে গেছে। মানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অজানা-অচেনা এক কাচের দেয়ালের আবির্ভাব ঘটে। নিজেদের অজান্তেই, যা কারোরই কাম্য ছিল না। একটা সময়ে নিজেরা হাঁপিয়ে ওঠেন। বের হয়ে আসতে চান সেই কাচের দেয়াল ভেঙে। কিন্তু সবসময় কি কাচের দেয়াল ভাঙা সম্ভব? তাই চেষ্টা করতে হবে সম্পর্কে যাতে কোনো রকম কাচের দেয়াল না ওঠে। নিত্য স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার সম্পর্কটি যে শান্তির-স্বস্তিরই থাকে। ভালোবাসা দিবসে প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসার যখন রবরব অবস্থা, তখন স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা কেন মিইয়ে পড়বে? কেন তাল কেটে যাবে সম্পর্কের? কীভাবে সম্পর্কটাকে সুন্দর রাখা যায়- প্রশ্ন উঁকি দেয় অনেকের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারাহ দীবা সম্পর্ককে সুন্দর ও শান্তি করার জন্য বলেন, মানিয়ে চলা শুধু দাম্পত্য সম্পর্ক নয়, সব সম্পর্কই সহজ, সুন্দর করে। স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে বলব, মেনে নেওয়াটা যেন একতরফা না হয়। আজকের শিক্ষিত ও কর্মজীবী মেয়েদের জন্য দাম্পত্য জীবন একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এখানে তাকে একই সঙ্গে সুদক্ষ অফিসকর্মী, স্ত্রী-বন্ধু, সুচারু গৃহিণী, মা ইত্যাদি বিভিন্ন ভূমিকা পালন করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে সংসারের সব ঝক্কি-ঝামেলাও অনেক সময় এক হাতেই সামলাতে হয়। তাই ত্যাগের ক্ষেত্রে, মানিয়ে চলার ক্ষেত্রটা যেন একজনের ঘাড়ে না চেপে যায়, সেদিকটায় সচেতন হতে হবে।
আপনার সঙ্গীর শখগুলোর প্রতি আগ্রহ দেখান। এতে আপনার সঙ্গীও আপনার শখগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। আপনার সঙ্গীর কোনো শখ যদি আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে থাকে তাহলে সেটা তাকে বুঝতে দেবেন না। এতে সম্পর্কটা আরও সুন্দর হবে। সেই সঙ্গে কেটে যাবে সম্পর্কের একঘেয়েমি।
প্রেমের শুরুতে কিংবা বিয়ের পরপর হাত ধরেই হাঁটতেন দুজনে- কারণ এ যেন অন্য রকম এক রোমান্টিকতা। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পরই হাঁটতে শুরু করেছেন নিজেদের মতো করে। সেই পরস্পরকে ছুঁয়ে থাকার স্বভাবটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। আবারও ধরে ফেলুন সঙ্গীর হাতটি। কারণ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দম্পতি হাত ধরে হাঁটেন তাদের নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি হয়, যা সম্পর্ককে সুখের করে তোলে।
বেশির ভাগ দম্পতিই সঙ্গীর দোষ খুঁজে বেড়াতে পছন্দ করেন। ফলে সম্পর্ক ভালো হওয়ার বদলে উল্টো খারাপ হতে থাকে। তাই অহেতুক সঙ্গীর দোষ না খুঁজে চেষ্টা করুন গুণগুলো খুঁজে বের করার।
সম্পর্কটা যত দিনের পুরনোই হোক না কেন, প্রতিদিনই সঙ্গীকে একবার করে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিন। ভালোবাসার কথা প্রতিদিন জানিয়ে দিলে সম্পর্ক কখনোই পুরনো হয় না। সারা দিন দুজনেই ব্যস্ত সময় কাটান। দিন শেষে দেখা হয় দুজনের। এই সারা দিনের দেখা না হওয়ার দূরত্বটা নিমিষেই ঘুচে যাবে, যদি আপনি দিন শেষে দেখা হওয়া মাত্র আপনার সঙ্গীকে আলিঙ্গন করেন। প্রতিদিনের এই অভ্যাসটি আপনার সম্পর্কটাকে সুন্দর রাখবে।
ছোটখাটো কিংবা বড় সমস্যায় সমঝোতার মধ্য দিয়ে যদি দুজন সুন্দর মানিয়ে চলেন, তবে সম্পর্কটা অনেক সহজ এবং মধুর হবে দাম্পত্য জীবন।
যতই মনোমালিন্য হোক, রাগ করে জীবনসঙ্গীর থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবেন না। রোমান্স করুন, ভালোবাসা প্রকাশ করুন। তাকে জানতে দিন যে তার কতটা পরোয়া আপনি করেন।
আজকাল মোবাইল ফোন ছাড়া যেন আমাদের এক মুহূর্তও চলে না। তাই বলে নিজের একান্ত সময়ে ফোন বন্ধ রাখাই ভালো। মানে ফেসবুক হোক বা বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা, অফিসের কল হোক বা জরুরি কাজ দিনের কিছু সময় এই যন্ত্র দূরে রেখে জীবনসঙ্গীকে সময় দিন।
রাতে বাসায় এসে হাতের কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করুন। একই সময়ে রাতের খাবার শেষে চেষ্টা করুন শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও একইসঙ্গে বিছানায় যেতে। এতে দাম্পত্য মধুর থাকে সেটা পরীক্ষিত সত্য।
সকালে হোক বা সন্ধ্যায়, পাশাপাশি একসঙ্গে বসে চা-কফি পানের পর্ব সারুন। হয়তো বারান্দায় কিংবা বসার ঘরে আয়োজন করুন সুন্দর করে। ফাঁকে সেরে নিন সংসারের আলাপ। নিজেদের পুরনো ছবির অ্যালবাম, স্মৃতিবিজড়িত এটা-সেটা নিয়ে প্রায়ই আড্ডা জমান। সুন্দর সময়ের রোমন্থন করুন।
যৌনতাকে প্রশ্রয় দিন। সুন্দর যৌন সম্পর্ক অনেক সমস্যারই সমাধান করে। যৌন সম্পর্কে নতুন কিছু করুন, সঙ্গীকে খুশি রাখুন। যৌনতার বাইরেও ভালোবাসা আছে। আলিঙ্গন, হাতে হাত রাখা, সকালে একটা মিষ্টি চুমু ইত্যাদি সম্পর্ক থেকে কখনও যেন হারিয়ে না যায় খেয়াল রাখবেন।
রোজ রোজ সেই একঘেঁয়ে সংসারের প্যাঁচাল আর খিটমিট, সুন্দর সম্পর্কেও ফাটল ধরাতে পারে। নতুন কিছু বলুন, নতুন বিষয় নিয়ে কথোপকথন চালান। সম্পর্ক নতুন হয়ে উঠবে।
নিজের প্রিয় মানুষকে ধন্যবাদ দিন। তার সেই প্রতিটি কাজের জন্য যা তিনি করেন আপনার খাতিরে। আবার অনেক সময় বিরক্ত হয়েও করেন। সেসব ক্ষেত্রে আরও বেশি ধন্যবাদ দিন। দেখবেন ধন্যবাদ পেলে তার বিরক্তি অনেক কমে যাবে।