দারা আদম খেল: পাকিস্তানের মৃতপ্রায় অস্ত্রবাজার

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সফেদ কোহ পর্বতমালার পাদদেশে গত এক শতকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে উঠেছে বিশাল অস্ত্রের বাজার। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ১৪০ কিলোমিটার পূর্বের এই বাজারের নাম দারা আদম খেল। এই বাজারে আছে কমপক্ষে ২০টি অস্ত্র কারখানা, যেখানে চীনের পিস্তল থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত এম-১৬ অথবা অস্ট্রিয়ার গ্লোক পিস্তল তৈরি করা হয়।

কয়েক প্রজন্ম ধরে পারিবারিক পর্যায়ে অস্ত্র তৈরি করে যাচ্ছে এমন অনেককে পাওয়া যাবে এই বাজারে। তাদেরই একজন বানাত খান। তিনি বলেন, ‘এখানে ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অস্ত্র তৈরি করছি। আমার বাবা, তার বাবাও এই কাজ করেছেন।’

মাত্র ২১৪ ডলারের বিনিময়ে বানাতের দোকান থেকে এম-১৬ রাইফেল কেনা যাবে। যদিও তার দোকানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় একে-৪৭-এর কপি বন্দুক। ৭২ ডলার বা ১০ হাজার পাকিস্তানি রুপির বিনিময়ে কেনা যাবে একে-৪৭। আর কারও পকেটে মাত্র তিন হাজার পাকিস্তানি রুপি থাকলে সহজেই মিলবে একটি পিস্তল।

পাকিস্তানের মূল ভূমির আইন এই অঞ্চলে প্রযোজ্য না হওয়াকেই ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের বাজারের বিকাশের কারণ মনে করেন বিশ্লেষকরা। সোভিয়েত আমলে এবং তালেবানদের হাত ধরে এই অস্ত্রের বাজার ফুলেফেঁপে ওঠে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট একটি ঐতিহাসিক আইন পাস করে, যে আইনের বলে ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের শাসন চলবে। তবে এ ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ একজন ‘রাজনৈতিক এজেন্ট’ মারফত খায়বার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে এই শাসন করতে পারবে।

দারা আদম খেল শহরের কয়েক হাজার বাসিন্দাদের বাণিজ্যের জন্য কোনো লাইসেন্স লাগত না। কিন্তু নতুন আইনের ফলে প্রাদেশিক অথবা ফেডারেল সরকার থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। তবে পাকিস্তান সরকারের এই আইনে নাখোশ দারা আদম খেলের অধিকাংশ বাসিন্দা। তাদের কাছে, ‘অস্ত্র কেনা একজন মানুষের স্বাধীনতার ব্যাপার’, আইন করে এই স্বাধীনতা খর্ব করা উচিত নয় বলেও তারা মনে করে। স্থানীয়দের মতে, নতুন আইন এবং লাইসেন্সের ফলে শতবছরের পুরনো এই বাণিজ্যের প্রসার কমে যাবে।