দিনে দিনে বাড়ছে ছাত্রদের বকেয়া ঋণের পরিমাণ

ঠিকানা রিপোর্ট: অনাদায়ী ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীদের ঋণের সমাধানের লক্ষে ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর অ্যাক্টিভিস্টসহ হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে পড়েছিলেন। এর পর ৬ বছর কেটে গেলেও সমস্যার আদৌ সমাধান না হয়ে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি খারাপ থেকে অধিকতর খারাপ হয়েছে বলে ২৮ এপ্রিল জানা গেছে।
ডেমোস নামক বামঁঘেষা থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সিনিয়র পলিসি অ্যানালিস্ট মার্ক হুয়েলসম্যান বলেন, স্বেচ্ছাচারি নিয়মকানুনের ফলে ঋণগ্রস্তদের প্রাত্যহিক জীবন যাপন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। ফেডারেল রিজার্ভের হিসাব অনুযায়ী ২০১২ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ছাত্র-ছাত্রীদের বকেয়া দেনা ১ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। হুয়েলসম্যান বলেন, বিগত ২০ বছরে স্টুডেন্ট লোনের এই পাহাড় জমেছে। তার মতে, কিছু সংখ্যক প্রবণতার কারণে ঋণের বোঝা বেড়েছে। তিনি বলেন, সুন্দর জীবন যাপনের জন্য কলেজ শিক্ষা অপরিহার্য হলেও পাবলিক উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে স্টেটগুলো পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করায় একই সাথে কলেজ শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতার বাজারে পছন্দসই চাকরি পাওয়ায় আশায় কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও যথেষ্ট বেড়েছে। তারা নিজেদের শিক্ষার অপরিহার্য ব্যয় মিটানোর জন্য বাড়তি হারে ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে সামগ্রিকভাবে স্টুডেন্ট ঋণের পরিমাণ উত্তরোত্তর বাড়ছে। মজুরি প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং চাইল্ডকেয়ারসহ প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ব্যয় অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ অনেক পরিবারই সঞ্চয় করতে পারেনি। একবার কলেজ ছাড়লে, নিজেদের সীমিত আয়ের সাহায্যে ঋণের বোঝা কমানো ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে মোটেই সম্ভব হয়না। ফলে বকেয়া ঋণের বোঝা ক্রমশ বাড়তেই থাকে।
মার্ক হুয়েলসম্যান বলেন, অর্থনৈতিক আরও অনেকগুলো বিষয় ছাত্র ঋণের পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী প্রজন্মদের ক্রমবর্ধিষ্ণু চাহিদার প্রতি নজর রেখে ফেডারেল এবং স্টেটগুলো যে ধরনের বিনিয়োগ বাড়াত বর্তমানে তা করা হচ্ছেনা। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য ঋণের উপর অধিকতর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
ছাত্র ঋণের পরিমাণ উত্তরোত্তর বাড়তে থাকলে তা অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলে। নামি-দামি কলেজ থেকে গ্রেজুয়েশন করা ছাত্র-ছাত্রীসহ কিছু সংখ্যক ঋণগ্রহিতার ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট লোনকে তদের শিক্ষার্জনের জন্য সহনীয় বিনিয়োগ হিসেবে ধরা যায়। এতদসত্ত্বেও, ছাত্র-ছাত্রীদের ঋণের পরিমাণ উত্তরোত্তর বাড়ছে। যাহোক বরোয়ার (ঋণগ্রহিতা) এডভোকেটগণ জোর গলায় বলছেন যে স্টুডেন্ট লোন কোম্পানীগুলো ঋণগ্রহিতাদের স্বার্থে আদৌ ভূমিকা রাখছে না।