দুঃখ আসে পলকে যেতে নাহি চায়

এম.এস.হক : হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই কিয়ামত বা মহাপ্রলয় সংঘটিত হওয়ার ভবিষ্যত বাণী সম্পর্কে সুবিদিত। কিয়ামত সংঘটিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী-অপরিহার্য- অনিবার্য এবং অবধারিত হলেও এর দিন-ক্ষণ একমাত্র বিশ্বপ্রতিপালক ছাড়া কারও জানা নেই। তাই আত্মশুদ্ধির প্রচন্ড তাগিদ অনুভব করা সত্ত্বেও মনুষ্যত্ব বিবর্জিত এবং পাপাচার ও ভোগবিলাসিতায় নিমজ্জিত বিশ্ববাসী সহজে আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির পথে পা বাড়াচ্ছেন না। আর ৬০ লক্ষাধিক তরতাজা প্রাণ ছিনিয়ে নেয়ার পরও শতাব্দীর সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ আসমানী গযব করোনার মহামারির রুদ্ররোষ থামছেনা। বরং ওমিক্রনের সাবভ্যারিয়েন্ট কোভিড বিএ.ফাইভ এবং বিএ.ফোর সমগ্র বিশ্বে ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। অধিকন্তু মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মাঙ্কিপক্স (বানরের গুটিবসন্ত)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব ড. টেডরস এঢানম ঘেবরীসাস জেনেভায় এক ব্রীফিংয়ে মাঙ্কিপক্সকে পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সী অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন (সর্বসাধারণের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক জরুরি উদ্বেগ) ঘোষণা করেছেন। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৯-২০১০ সালে এইচওয়ান এনওয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জাকে; ২০১৪ থেকে ২০১৬ এবং ২০১৯ ও ২০২০ ইবোলাকে; ২০১৬ সালে জিকা ভাইরাসকে পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সী অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন ঘোষণা করেছিল। ব্রীফিংয়ে মহাসচিব ড. টেডরস এঢানম বলেন, ওমিক্রনের সর্বগ্রাসী সাব-ভ্যারিয়েন্ট বিএ.ফাইভ এবং বিএ.ফোর ছাড়াও মাঙ্কিপক্স সমগ্র বিশ্বে উল্কাবেগে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে নর্থ আমেরিকা, ইউরোপসহ সমগ্র বিশ্বের ৭৫টির বেশি দেশে ১৬ থেকে ২০ সহস্রাধিক মানুষ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে এটি দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিসংখ্যান অনুসারে আমেরিকার ৪০টি স্টেট, ওয়াশিং ডিসি ও পোর্টো রিকোতে ২,৮০০ থেকে ৩ হাজার মাঙ্কিপক্স সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের নিকটবর্তী ওক অগ্নি কবলিত মারিপোসা কাউন্টির ৬ থেকে ৮ সহস্রাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ২ সহস্রাধিক অগ্নিনির্বাপক কর্মীর প্রাণান্ত প্রচেষ্টাকে হার মানিয়ে দিয়ে ওক অগ্নি ইতোমধ্যে ১৯ সহস্রাধিক একর এলাকার বাড়ি-ঘর-বন-বাদাড় পুড়ে ছাইভস্মে পরিণত করেছে। এদিকে ইন্টারস্টেট ৯৫ করিডোর বরাবর ইস্ট কোস্টের ৫ কোটি ২০ লাখ বাসিন্দা ভয়াবহ থান্ডারস্টর্ম ঝুঁকিতে রয়েছে। বস্টন থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত- অরেগনের পোর্টল্যান্ড ও মেডফোর্ড; ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো; সান অ্যান্টিনো, হিউস্টন, ডালাস; ওকলাহোমার টালসা; আরকানসাসের লিটল রক; লুইজিয়ানার শ্রেভেপোর্ট; ন্যাশভিল, টেনেসির বাসিন্দার ১০২ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে ১০৮ ডিগ্রী ফারেন হাইট তাপমাত্রায় দগ্ধ হচ্ছেন। তাই আধুনিক বিশ্বের মর্ত্যপুরী আমেরিকার ভুক্তভোগী জনগণের কন্ঠে ধ্বনিত হচ্ছেঃ সুখ আসে চুপিসারে ত্বরা চলে যায় // দুঃখ আসে সমারোহে যেতে নাহি চায়।
শিশুদের ভ্যাক্সিন : যুক্তরাষ্ট্রে করোনার নতুন তান্ডব শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মাস বয়সী থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল ১৮ জুন। ২৬ জুলাই পর্যন্ত উক্ত ক্যাটাগরীর ১ কোটি ৯৫ লাখ শিশুর মধ্যে মাত্র ২.৮% বা ৫ লাখ ৪৪ হাজার শিশুকে প্রথম শট দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। আর ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু এখনও ভ্যাক্সিন নেয়া থেকে বাকি রয়ে গেছে এবং মোট অভিভাবকদের ৪৩% নিজ নিজ পোষ্যদের ভ্যাক্সিন না দেয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটন ডিসির ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ১৪.৪%; ভারমন্টের ১০.৩%; ম্যাসাসুসেটচের ৭.২% এবং মিশিশিশিপির ০.৪% ও আলাবামা এবং আরকানসাসের ০.৬% শিশু ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছে বলে সিডিসি জানিয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকগুলো কাউন্টি মাস্কের ব্যবহার পুনরায় চালু করেছে বলে সিডিসি জানিয়েছে।

ড. ম্যাককুইস্টনের বিবৃতি : সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের হাই-কনসেকোয়েন্স প্যাথোজেনস অ্যান্ড প্যাথলজি বিভাগের উপপরিচালক ড. জেনিফার ম্যাককুইস্টন এক ব্রীফিংয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত গতিতে মাঙ্কিপক্স ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, চামড়ায় ফুসকুড়ি বা ফোস্কা, মাথা ব্যথা, জ্বর, নিস্তেজ অবস্থা, শরীরের অংশ বিশেষ ফুলে যাওয়া, মাংসপেশীর ব্যথা, পিঠে ব্যথা, শীত শীত অনুভূতি ইত্যাদি মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের লক্ষণ। তিনি বলেন, লক্ষণগুলো ২ থেকে ৪ সপ্তাহ স্থায়ী হয়।
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের বর্ণনানুসারে, মাঙ্কিপক্স মূলত স্মলপক্ষ ভাইরাস বা গুটি বসন্ত ভাইরাসের কাজিন বা খালাতো ভাই এবং একই ধরনের ক্রিয়া সংঘটিত করে। তবে মাঙ্কিপক্সের লক্ষণগুলো মাইল্ডার বা নমনীয় বলে জানিয়েছে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। এটি আক্রান্ত পশু কিংবা মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত পশু সুস্থ মানুষকে কামড়ালে কিংবা মানুষের শরীরে আঁচড় কাটলে তিনি মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আবার বাস মীট খেলেও মানুষ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এছাড়া মাঙ্কিপক্ষে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে কোলাকুলি করলে, দীর্ঘক্ষণ সান্নিধ্যে থাকলে কিংবা মুখোমুখি আলোচনা করলেও মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সিডিসি জানিয়েছে।
যাহোক, যুুক্তরাষ্ট্রে হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (এইচএইটএস) জানিয়েছে যে ১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ২৫ লাখ ডোজ জিনেওস মাঙ্কিপক্স ভ্যাক্সিনের জন্য আদেশ দিয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি আরও ২৫ লাখ ডোজ জিনেওস মাঙ্কিপক্ষ ভ্যাক্সিনের আদেশ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা যে আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ প্রথম দফা আদেশকৃত ২৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাক্সিন এসে যাবে। আবার অন্যদের বিশ্বাস যে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সর্বমোট ৭০ লাখ ডোজ ভ্যাক্সিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে যাবে।

হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঢল নেমেছে : উল্কাবেগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি স্টেট এবং টেরীটরীতে ছড়িয়ে পড়া ওমিক্রনের সাবভ্যারিয়েন্ট (মোস্ট ইমিউন ইভাসিভ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এড়াতে সর্বাধিক সক্ষম) কোভিড বিএ.ফাইভ এবং বিএ.ফোরে গুরুতর আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা এবং করোনায় মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন ডিপার্টমেন্টের পরিসংখ্যান অনুসারে, ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রতি লাখে বিএ.ফাইভ এবং বিএ. ফোরে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি লাখে ৩৭৬ এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রতি লাখে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭২.৮ অতিক্রম করেছে। চলতি সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক সিটিতে নতুন আক্রান্তের হার পূর্ববর্তী সপ্তাহের তুলনায় ১৭% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গড়ে প্রত্যহ প্রায় হাজার সিটিবাসী নতুনভাবে আক্রান্ত হচ্ছে।
হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন বিভাগ আরও জানিয়েছে যে পুরোপুরি ভ্যাক্সিনেটেড ও বুস্টেড এবং পুরোপুরি ভ্যাক্সিনেটেড ও আনবুস্টেড আমেরিকানদের তুলনায় আনভ্যাক্সিনেটেড আমেরিকানরা কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ গুণ অধিক হারে সংক্রমিত, গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এমনকি মারাও যাচ্ছে। আক্রান্তের পরিসংখ্যান ঃ সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুসারে, সমগ্র আমেরিকায় ভ্যাক্সিনেটেড এবং বুস্টেড প্রতি লাখে নতুনভাবে আক্রান্তের হার ১৭৮.৯৩; ভ্যাক্সিনেটেড ও আনবুস্টেড প্রতি লাখে আক্রান্তের হার ২১৬.৮৯ আর আনভ্যাক্সিনেটেড আমেরিকানদের আক্রান্তের হার প্রতি লাখে ৭৬৪.২৪। হাসপাতালে ভর্তির পরিসংখ্যান ঃ হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন বিভাগের অপর এক পরিসংখ্যান অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাক্সিনেটেড এবং বুস্টেড আমেরিকানদের করোনায় গুরতর অসুস্থ হয়ে প্রতি লাখে হাসপাতালে নতুনভাবে ভর্তি হওয়া রোগীর হার ৫.৯৩; ভ্যাক্সিনেটেড ও আনবুস্টেড প্রতি লাখে ভর্তির হার ৬.৮২ আর আনভ্যাক্সিনেটেড আমেরিকানদের ভর্তির হার প্রতি লাখে ৩৬.৮৪। করোনায় মৃতের পরিসংখ্যানঃ হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন ডিপার্টমেন্টের বর্ণনানুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাক্সিনেটেড এবং বুস্টেড আমেরিকানদের করোনার জটিলতায় প্রতি লাখে মৃতের হার ০.৭৭% ; ভ্যাক্সিনেটেড ও আনবুস্টেড প্রতি লাখে মৃতের হার ০.৯৬% আর আনভ্যাক্সিনেটেড আমেরিকানদের মৃতের হার প্রতি লাখে ৫.২৭%।

রাষ্ট্রপতি বাইডেন পুরোপুরি সুস্থ : রাষ্ট্রপতি যো বাইডেনের হাঁচি-শুষ্ক কাশিসহ কোভিডের মৃদু লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারী কেরিনে জীয়ান- পীরে জানান যে ৭৯ বছর বয়স্ক প্রেসিডেন্ট বাইডেন বিএ.ফাইভে আক্রান্ত হওয়ার পর পাক্সলোভিড কোভিড-১৯ থেরাপি গ্রহণের পর আরোগ্য লাভ করেছেন। হোয়াইট হাউজ কোভিড-১৯ রেসপন্স কোঅর্ডিনেটর ড. আশিষ যা এবং প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক ড. কেভিন ওকনর জানান যে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি পুরোপুরি সুস্থ এবং নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
পাক্সলোভিড কোভিড-১৯ থেরাপি : পাক্সলোভিড মূলত পিফাইজার উদ্ভাবিত গৃহে ব্যবহারযোগ্য অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি। ১২ থেকে উর্ধ বয়সী শারীরিক জটিল সমস্যাগ্রস্ত আমেরিকানদের কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ সংক্রমণের কবল থেকে রক্ষাকল্পে ইউএসফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এর জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিল। বয়স্ক এবং আনভ্যাক্সিনেটেডদের এটি প্রয়োগ করা হয়।
নোভাভাক্স কোভিড শটের অনুমোদন : সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক ড. রচেলে ওয়েলেনস্কী জানিয়েছেন যে প্রাপ্ত বয়স্ক আমেরিকানদের জন্য সিডিসি নোভাভাক্সের কোভিড শটের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। ড. ওয়েলেনস্কী আরও জানান যে ২ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক আমেরিকান অদ্যাবধি ভ্যাক্সিনের কোন ডোজ গ্রহণ করেন নি। এখন তাদেরকে নোভাভাক্সের কোভিড শট প্রদান করা হবে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের উপদেষ্টা ড. অলিভার ব্রুকস বলেন, নোভাভাক্সের কোভিড শটটি হবে জাতীয় পর্যায়ে সর্বপ্রথম তথাকথিত কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে প্রোটিন ভ্যাক্সিন। আমেরিকাসহ সমগ্র বিশ্বে হেপাটাইটিস বি এবং শিনগেলসসহ অন্যান্য প্রাণঘাতি রোগ প্রতিরোধে প্রোটিন ভ্যাক্সিন বহু বছর থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ওয়াশিংটন ডিসির বিদ্যালয়ে ভ্যাক্সিনের বাধ্যবাধকতা আরোপ : জাতীয় পর্যায়ে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কোভিডে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াশিংটন ডিসি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ছাত্র-ছাত্রী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য ভ্যাক্সিনের চাহিদা পূরণকে বাধ্যতামূলক করেছে। ওয়াশিংটন ডিস্ট্রিক্টের স্টেট সুপারিনটেনডেন্ট ড. ক্রিস্টিনা গ্রান্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এবারের ফল বা শরতকালের ১২ থেকে উর্ধ বয়সী ছাত্র-ছাত্রীদের বেলায় ভ্যাক্সিন নেয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চলতি শরত কাল থেকে শুরু কওে ২০২২-২৩ স্কুল বর্ষের ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল ছাত্র-ছাত্রীকে ফেডারেলী ফুলী অ্যাপ্রুভড প্রাইমারী কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন সিরিজ গ্রহণ করতে হবে। কিংবা চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ভ্যাক্সিন নেয়ার কাজ শুরু করতে হবে। আর ১৬ থেকে উর্ধ বয়সীদের স্কুল বর্ষের শুরু থেকে ভ্যাক্সিন গ্রহণ নিতে হবে। ওয়াশিংটন ডিসি হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন ডিপার্টমেন্টের তথ্যানুযায়ী ইতোমধ্যে ডিসির ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী বাসিন্দাদের ৮১%; ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী বাসিন্দাদের ৭৭% এবং ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী বাসিন্দাদের ৫৩% প্রাইমারী সিরিজের পুরোপুরি ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছেন।