দূষণের ক্ষতিকর দিকগুলো

ঠিকানা রিপোর্ট: বায়ু দূষণ শুধুমাত্র শিশু-কিশোর এবং বয়স্কদের ক্ষতি সাধন করেনা, গর্ভবতী মহিলাদের উপর বায়ু দূষণের ক্ষয়-ক্ষতি আরও ভয়াবহ। নতুন এক পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণে দেখা গেছে যে গর্ভবতী মহিলারা দূষিত বায়ু সেবন করলে তা ফুসফুসের মধ্যদিয়ে প্লাসেন্টাস (ডিম্বকবাহী গর্ভপত্রে) সঞ্চারিত এবং জঠরস্থ ভ্রুণের উপর ভয়ানক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষকগণ বলেন, কারের নির্গত বর্জ্যরে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণিকা, কলকারখানার ধোঁয়া এবং অন্যান্য ধরনের কণিকাগুলো স্বাস্থ্যের জন ক্ষতিকর। আর গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এ সকল ধূলিকণা অনাকাঙ্খিত গর্ভপাত, নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বে সন্তান প্রসব এবং নবজাতকের ওজন হ্রাসের কারণ হয়ে থাকে। ঘন জনবহুল এলাকার প্রসূতিদের ক্ষেত্রে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীদের ধারণা দূষিত কণিকাগুলো প্রসূতির ফুসফুসে অবস্থান করে এবং ক্ষতিকর প্রদাহ জন্ম দিয়ে থাকে।
বেলজিয়ামের বিজ্ঞানীগণ ন্যাশন কমিউনিকেশনসকে অবহিত করেন যে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও ব্যাপক হয়ে থাকে। অভিনব স্ক্যানিং টেকনিক ২৮ জন প্রথম দফা গর্ভবতী হওয়া মহিলার ডিম্বকবাহী গর্ভপত্রে সুটলাইক ব্ল্যাক (ভূসাধরনের কালো) কার্বনের কণিকা দূষণ চিহ্নিত করেছে। উল্লেখ্য, প্লাসেন্টা ( ডিম্বকবাহী গর্ভপত্র) ক্রমবর্ধিষ্ণু ভ্রুণকে পরিপুষ্ট করে এবং গর্ভবতীর রক্তস্রোতের ক্ষতিসাধনকারী পদার্থগুলোর পথ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে। হাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল দেখতে পান যে দূষিত কণিকাগুলো ভ্রুণের সর্বাপেক্ষা কাছের প্লাসেন্টা, যেখানে শিশুদের আমবিলিক্যাল কর্ড ( মায়ের জঠর এবং শিশুর নাভীর সাথে সংযুক্ত নাড়ী) গজায় সেই পাশে পুঞ্জীভূত হয়। ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিক্যাল সেন্টারের শীর্ষ প্লাসেন্টা বিশেষজ্ঞ ডঃ ইওলে সাডোভক্সি বলেন, মূলত দূষিত কণিকাগুলো প্লাসেন্টা অতিক্রম করে ভ্রুণে পৌঁছে বিধায় নানা ধরনের ব্যাধি জন্ম নেয়।