দেশের আয়তনে যুক্ত হচ্ছে ৫ হাজার হেক্টর চরভূমি

বরিশাল : ২০২১ সালের মধ্যে ৯ জেলার ৬৭টি উপকূলীয় উপজেলায় ২৫ হাজার হেক্টর চরভ‚মি যুক্ত হবে দেশের মূল আয়তনের সঙ্গে। জেগে ওঠা এই চরভ‚মিকে আনা হবে বনায়নের আওতায়। এতে করে তা আর পরিত্যক্ত ভূমি থাকবে না; যুক্ত হবে দেশের মূল আয়তনে। সম্ভাবনার এ সোনালি দিগন্তের দ্বার খুলে দেবে বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা নতুন চরসহ উপক‚লীয় এলাকায় বনায়ন প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পৃথকভাবে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে ২৫ লাখ মানুষের কাজের সুযোগ হবে। এর মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে ৯ জেলার উপকূলবর্তী ৬১ হাজার ৭৫০ একর এলাকায় গড়ে উঠবে সবুজ বেষ্টনী। এর ফলে বাড়বে সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণিবৈচিত্র্য। মৎস্য ও বন্যপ্রাণীর জন্য সৃষ্টি হবে অনুকূল পরিবেশ।

এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে বনায়ন শুরু হয়েছে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৯ জেলায়। জেলাগুলো হচ্ছে- চট্রগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর ও চট্টগ্রাম এবং বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ভোলা। এই ৯ জেলার ৬৭টি উপক‚লীয় উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন অধিদপ্তর।

এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে, নতুন চর জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত ও স্থায়ী করা। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন এবং এর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাসে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াস প্রতিরোধে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাসে কার্বন মজুদ এবং আবাসস্থল ও প্রজনন সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের জীববৈচিত্র্য বাড়ানো।

বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা যেসব নতুন চরে বনায়ন করা হবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ কক্সবাজারের হাঁসেরচর, লেলিয়ারছড়া, শাহপরীর দ্বীপ ও খুদিয়ার টেক; পিরোজপুরের মাঝেরচর, বরগুনার চরকæমিরমারা ও টেংরাগিরি, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরঅমিতাভ, চরআগস্তি, সোনারচর, চরতাপসী, চরতুফানিয়া, চরবেষ্টিন ও চরফাতেমা; ভোলার চরউড়িল, চরমোজাম্মেল, চরবৈকাল, পূর্ব ঢালচর ও চরপিয়াল; নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গারচর ও জালিয়ারচরও এর আওতায় পড়বে।

এ প্রকল্পের পরিচালক বরিশাল কোস্টাল সার্কেলের বন সংরক্ষক গোবিন্দ রায় জানান, শুধু বনায়ন নয়, এই ৯ জেলার উপক‚লবর্তী যেসব পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে, এমন প্রতিটি পরিবারকে বিনামূল্যে চারটি করে নারিকেল, তাল, সুপারি ও একটি করে খেজুর গাছের চারাসহ মোট ২০টি বনজ ও ফলের গাছের চারা দেওয়া হবে। প্রায় অর্ধলক্ষ পরিবার এ সুবিধা পাবে।

প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধের পাশে কড়ই, মেহগনি, আকাশমণি, কদম, অর্জুন, কাঁঠাল, কাঠবাদাম, তেঁতুল, হরিতকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ফলের গাছের চারা লাগানো হবে। এই ১ হাজার কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধের পাশে লাগানো গাছ দেখভাল ও পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতি এক কিলোমিটারে পাঁচজন স্থানীয় বাসিন্দা সুবিধাভোগী হবেন।

প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায় আরও জানান, প্রকল্প এলাকার মধ্যে যে ১ হাজার কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধে গাছ লাগানো হবে, ১০ বছর পর বিধি অনুযায়ী তা বিক্রি করা হবে। বিক্রির টাকার শতকরা ৫৫ ভাগ পাবেন সুবিধাভোগীরা। যার মাধ্যমে পাঁচ হাজার মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। এ ছাড়া বিক্রীত গাছের ১০ ভাগ মূল্য রাখা হবে আবার বৃক্ষরোপণের জন্য। ওই ৫ হাজার উপকারভোগীকে সামাজিক বনায়ন, বাগান সৃজন কৌশল, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও নিরসনের ওপর প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে।