দেশের দীর্ঘতম পঞ্চগড়-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু

ঠিকানা ডেস্ক : প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম চালু হলো পঞ্চগড়-ঢাকা সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস। উৎসবমুখর পরিবেশে গত ১০ নভেম্বর সকালে পঞ্চগড় স্টেশন থেকে দ্রুতযান আন্তঃনগর ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ। রাতে পঞ্চগড়-ঢাকা সরাসরি আন্তঃনগর একতা ট্রেন সার্ভিসটিও চালু হওয়ার কথা। দেশের দীর্ঘতম রেলপথে আন্তঃনগর ট্রেন দ্রুতযান ও একতা চলাচল শুরু করায় পঞ্চগড় এবং ঠাকুরগাঁও জেলাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত আন্তঃনগর ট্রেন দ্রুতযানের পরিচালক ৭টা ৪০ মিনিটে হুইসেল বাজালে ট্রেনটি পঞ্চগড় স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ সময় স্টেশনে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটসহ রেলওয়ে বিভাগ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, নাগরিক কমিটি, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উৎফুল্ল জনতা হাত নেড়ে ট্রেনটিকে বিদায় জানান। গত ৯ নভেম্বর রাতেই ট্রেনটি পঞ্চগড় স্টেশনে আসে। রেলপথ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনসহ পুরো ট্রেনটিকে ফুল দিয়ে সাজানো হয়। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেন যাত্রার এই শুভক্ষণটিকে উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করছে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওবাসী। এ উপলক্ষে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা, মিষ্টি বিতরণ, পঞ্চগড় স্টেশন প্রাঙ্গণে সন্ধ্যায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাত ৯টায় ছেড়ে যায় একতা এক্সপ্রেস। এখন থেকে প্রতিদিন দিবা-রাত্র ট্রেন দুটি ঢাকা-পঞ্চগড় যাতায়াত করবে।

দ্রুতযান ট্রেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, পঞ্চগড় রেলপথটি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে বলেও সরকার চিন্তাভাবনা করছে। ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের আওতায় পার্বতীপুর থেকে ঠাকুরগাঁও হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটারের এ রেললাইনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১০ সালে। ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেললাইনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে কাজের সূচনা করেন। রেললাইনের কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে। ২০১৭ সালের ১৭ জুন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক দিনাজপুর পর্যন্ত একটি শাটল ট্রেন উদ্বোধন করেন। পরে এই নিয়ে নাগরিক কমিটিসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আন্দোলন শুরু করে। তারা সরাসরি ঢাকা-পঞ্চগড় ট্রেন চলাচলের দাবি করেন। এ বছরের ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁওয়ের এক জনসভায় এ জাতীয় দাবি সংবলিত ব্যানার দেখতে পেয়ে তার বক্তব্যে বলেন, ব্যানার নামিয়ে ফেলুন পঞ্চগড় ট্রেন যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওবাসী পেল একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন। যা ইতিপূর্বে ঢাকা-দিনাজপুর চলাচল করত।