দেশের প্রথম রেলস্টেশনের পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় দেশের প্রথম রেলস্টেশনটির পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত ৩০ জানুয়ারি কর্তৃপক্ষের চিঠি স্টেশনে পৌঁছেছে। এর পর থেকে টিকিট কাউন্টার বাদে অন্য সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

আলমডাঙ্গায় দায়িত্বরত স্টেশন মাস্টার শরিফুল ইসলাম মিন্টু জানান, চিঠিতে বলা হয়েছে, শুধু টিকিট কাউন্টারের কার্যক্রম চালু থাকবে। ট্রেন আসা-যাওয়ার তদারকিতে কেউ থাকবে না। পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্য স্টেশনে বদলি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এ স্টেশনে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি যাত্রীর টিকিট বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হয়। এখন পরিবহন কার্যক্রম বন্ধের কারণে বড় ধরনের সমস্যা হবে। ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় সিগনাল, ক্রসিং, রেলগেট বন্ধ এবং ট্রেনসংক্রান্ত খোঁজখবরের কাজ এখান থেকে হবে না। পাঁচজনের মধ্যে সহকারী স্টেশন মাস্টার একজন ও তিনজন ক্রসিংয়ের কাজে নিয়োজিত পয়েন্টম্যানকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। টিকিটসংক্রান্ত হিসাব-নিকাশের জন্য তাকে এখনো স্টেশনে রাখা হয়েছে।

তবে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন বলেন, স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, এটা ঠিক নয়। এ স্টেশনে কর্মরত চারজন একই সঙ্গে অবসরে চলে গেছেন। তারা এ অবস্থায় সেখানে কাজ চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন না। এ কারণে আপাতত জনবল না দেয়া পর্যন্ত আলমডাঙ্গা স্টেশনের পরিবহন বিভাগ কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে এটা দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে উচ্চতম রেলওয়ে স্টেশন। আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনটি মূলত নীলকর ইংরেজদের একটি কুঠি। ভবনের উপরে থাকতেন ইংরেজ সাহেব। নিচতলার কামরাগুলো ছিল গুপ্তঘর বা জেলখানা। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর ব্রিটিশরা বাংলাদেশের প্রথম রেলপথ চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়া জেলার জগতী পর্যন্ত চালু করে। সে সময়ই আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন বাংলাদেশের প্রথম রেলস্টেশন হিসেবে যাত্রা করে।