দেশের সংগীত এক মহাচক্রবাকের নাগপাশে আবদ্ধ এখন

আসিফ আকবর : বাংলাদেশ ভালোবাসার জায়গায় খুব ইনোসেন্ট। প্রথমে ভুল সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় ভুলটাই সঠিক ছিল। আসলে একটা আবেগী জাতির এমনই হওয়া উচিত। অতিথি পরায়ণতার ব্যাপারে আমাদের বিকল্প নেই। আতিথ্যের সাথে আদর্শ গিলে খাওয়া আমাদের অবশ্যই স্পেশাল কোয়ালিটি। আমরা আক্রমণাত্মক আতিথেয়তায় পূর্বজনম থেকেই অভ্যস্ত। আমি এই বিষয়টা ইংরেজি ভার্সনে Attacking hospitality হিসেবেই মানি। মৃদু লাঠিচার্জ থেকে ক্রসফায়ারে উপনীত হওয়া জাতি কখনোই উন্নাসিক হতে পাওে না। আজকাল কমেন্ট বক্স ঘুরলেই দেখি মানুষের মানসিক বৈচিত্র্য। সরাসরি মারার অধিকার রাখার লোকটা রহস্যজনক কারণে ভার্চুয়্যাল আক্রমণে অভ্যস্ত হয়ে গেছে সাইবার আইন সম্বন্ধে না জেনেই। ডিজিটাল ইডিয়ট আমার মতো।
গান লিখেছেন ভালো, সুর করেছেন ভালো, প্রডিউস করছেন আরো ভালো। আমি গায়ক হিসেবে ধন্য আপনাদের সান্নিধ্য পেয়ে। খবরের পর খবর আসছে সঙ্গীতের জন্য। সুসংবাদ আসেনি এখনো। আলাদা আলাদা গোত্রভূক্তি চলছে আফগানিস্তান স্টাইলে। সাইবার আইনের অলৌকিক পরিচর্যায় রাতের আঁধারে জেল কোর্ট নতুন অভ্যাস হয়ে গেছে আমাদের। কপাল ভালো আমার কোনো গান কপিরাইট করা নেই। অধিকার পরে, লজ্জিত হওয়ার জায়গায় স্বস্তিতে আছি। আড়াই হাজার গানের গায়ক হয়েও কোনো গানের অস্তিত্বে আমার দেশের সিস্টেম আমাকে গ্রাহ্য করে না। আফসোস নেই, দৌড়ঝাঁপ দেখছি আন্দোলনে, কদিন পর বিভক্তির চূড়ান্ত মাত্রা সবার সামনে আসবে। এটাও একটা সংস্কৃতি আমাদের।
মহামতি কবীর সুমন বলেছেন, তুমি স্বাধীন দেশের নাগরিক। তোমার চিন্তা চেতনার স্বাতন্ত্রই তোমাকে উজ্জীবিত করবে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হয়ে আমার দেশের স্বাধীনতার উত্তাপ পেতে চাইছেন। তিনি এপার বাংলা-ওপার বাংলা বলেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, আমিও এই স্বার্বভৌমত্বের মন্ত্র ধারণ করি। আমার দেশের সংগীত এক মহাচক্রবাকের নাগপাশে আবদ্ধ এখন। যেখানে ক্রিয়েটরের স্বাধীনতার জায়গা থাকা উচিত, সেখানে জেল জুলুম হয়রানির নতুন সারগাম শুরু হয়েছে। এখন আমি সংযত। তাহাদের জয় হোক যাহারা জয় চায়। আমি আত্মসমর্পণ করলাম…। ভালবাসা অবিরাম…।
-বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী।