দেশের সাধারণ মানুষ যেটাকে গ্রহণ করবে সেটাই সঠিক

ঠিকানাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান

সাঈদ-উর রব/লাবলু আনসারঃ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গতানুগতিক ধারা ডিঙ্গিয়ে এক নবঅধ্যায় সংযোজনে কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব তারেক রহমান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে সম্পৃক্ত হবার পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ভিন্ন একটি আবহ সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষকে যেমনি উন্নয়ন কাজে উজ্জীবিত করছেন, তেমনি নেতৃত্বের নব ধারার কারিশমায় রাজনৈতিক বোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণেও সক্ষম হয়েছেন। । বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই ধারার খুবই অভাব রয়েছে। অনেকে মুখ দেখাদেখিও করতে চান না-ফুল দেয়াতো দূরের কথা। এছাড়া বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে অধিষ্ঠিত হয়েও এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে হিংসাত্মক কোন বক্তব্য রাখেননি। অন্যের সমালোচনা নিরবে হজমের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে কুসুমাস্তীর্ণ করতেও সচেষ্ট রয়েছেন তারেক রহমান। বয়সে তরুণ হওয়া সত্বেও রাজনৈতিক এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিপক্কতা সমালোচকদেরকেও মুগ্ধ করেছে। কথা কম-কাজ বেশী-এমন একটি প্রত্যয় তারেক রহমানকে তাঁর দলের প্রচলিত নেতৃত্ব থেকেও ব্যতিক্রমী মাত্রা দান করেছে। ১৪ মে তারেক রহমান ওয়াশিংটনে এসেছেন গুরুত্বপূর্ণ একটি মিশন নিয়ে। মিশনটি সফল হলে পাল্টে যাবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি। কিন্তু তা তিনি এই মিশনে সাফল্য লাভের পূর্বেই কিছু জানাতে চান না। এটাও তাঁর পরিপক্ক নেতৃত্বের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যদিও অন্য কোন মন্ত্রী বা আমলা এলে ওয়াশিংটনে পৌঁছার আগেই ঢাকঢোল পেটানো শুরু হত।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ইনফরমেশন টেকনোলজি সেক্টরকে আরো গতিশীল করার জন্যে সিয়াটলে মাইক্রোসফ্টের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। প্রতিবেশী ভারতের মত বাংলাদেশেও আইটি সেক্টরের উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর অভিপ্রায়ে তারেক রহমান ব্যক্তিগত এই উদ্যোগটি নিয়েছেন। এছাড়া মার্কিন ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করাও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে আরো বেশী মার্কিনী বিনিয়োগ হউক-এটা তিনি চান। বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত করার সুন্দর একটি পরিবেশও বিরাজ করছে বলে তারেক রহমান বুশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে ইতিমধ্যেই অবহিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এরই আলোকে তিনি ঠিকানাকে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তারেক রহমান ঠিকানাকে এ সাক্ষাৎকার প্রদানেও সম্মত ছিলেন না। মার্কিন বিনিয়োগকারী এবং শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিক-আমলাদের সাথে বৈঠকের পরে নিউইয়র্কে এসে দিতে চেয়েছিলেন এ সাক্ষাৎকারটি। কিন্তু প্রবাসীদের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকানাকে সাক্ষাৎকারটি দিতে তিনি সম্মত হন। ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়া স্টেটে আলেক্সান্দ্রিয়ায় কেনমোর এভিনিউতে অবস্থিত শেরাটন পেন্টাগণ সাউথ হোটেল লবিতে ১৫ মে সকালে ঠিকানাকে এ সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন তারেক রহমান। অন্যের কথা শোনবার যে আগ্রহ তাঁর মধ্যে রয়েছে-এর প্রমাণ এ সাক্ষাৎকারেও পাওয়া যায়। কেননা তিনি জবাব দিয়েছেন অত্যন্ত সংক্ষিপ্তাকারে। তবে জবাবটি অসম্পূর্ণ নয়। রাজনীতিকদের জন্যে এটা বিশেষ একটি গুণ।
সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো।
প্রশ্নঃ আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি যে আপনি একটা বড় মিশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। মার্কিন ব্যবসায়ীদেরকে বিনিয়োগের আহবান জানানোর জন্যে। এ বিষয়ে একটু খুলে বলবেন কি?
তারেক রহমানঃ আমি আমার মিশন সম্পর্কে কোন ইন্টারভিউ দিতে চাই না। আগে কাজ হউক-তারপরে বলতে চাই। আমি চাই বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে।
প্রশ্নঃ কিন্তু প্রবাসীরা ব্যাপারটি জানতে চায়? প্রবাসীরা জানলে তারাও উৎসাহী হবেন প্রিয় মাতৃভূমিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে। আপনার এ মিশন সম্পর্কে কতটা আশাবাদী?
তারেক রহমানঃ দেখা যাক কী হয়। নিশ্চয়ই প্রবাসীরা আগের মতই সার্বিক সহযোগিতা করবেন তাদের প্রিয় মাতৃভূমির কল্যাণে।
প্রশ্নঃ কতদিনের সফরে এসেছেন?
তারেক রহমানঃ সপ্তাহখানেকের।
প্রশ্নঃ নিউইয়র্কে অবস্থানকালে কি বিএনপির সাথে কোন বৈঠক হবে?
তারেক রহমানঃ হতে পারে।
প্রশ্নঃ নিউইয়র্কে বাংলাদেশীরা আশা করছেন যে আপনি একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখুন।
তারেক রহমানঃ এবার নয়-পরবর্তিতে এলে অবশ্যই কম্যুনিটির সাথে মিলিত হবো-তাঁদের কথা শুনবো।
প্রশ্নঃ এবারের সফরের সময় কি কোন সিনেটর-কংগ্রেসম্যান বা স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তার সাথে আপনার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে?
তারেক রহমানঃ দেখা যাক কী হয়। হলেই জানতে পারবেন
প্রশ্নঃ ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন ধারার সৃষ্টি করেছেন, সে ধারা সুদূর এই প্রবাসেও রাজনৈতিক সচেতন বাংলাদেশীদেরকে আন্দোলিত করেছে। সে ধারাকে ফলপ্রসূ করতে শীঘ্রই কি বিএনপির ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ে তারুণ্যে উদ্ভাসিত নেতৃত্ব আসছে? তারেক রহমানঃ না এটা তো পরিবর্তনের কোন ব্যাপার নয়। বিষয়টা হচ্ছে সাংগঠনিক কাজে সাংগঠনিক পরামর্শ নেয়ার জন্যে ইউনিয়ন সম্মেলন করেছি। সম্মেলনে অনেক সিনিয়র লিডাররাও ছিলেন। দেশটাকে গড়ার যে কর্মসূচী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করে গেছেন, বর্তমানে তা দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে-আমি সেই কর্মসূচীর সপক্ষে কেবলমাত্র মাঠ পর্যায়ে জাগরণ সৃষ্টির চেষ্টা করেছি। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে নিশ্চয়ই ইউনিয়ন সম্মেলনের প্রভাব পড়েছে।
প্রশ্নঃ চট্টগ্রাম সিটি মেয়র নির্বাচনে মীর নাসিরের পরাজিত হওয়ার জন্যে তার জনসংযোগহীনতা দায়ী, নাকি বিএনপির সাংগঠনিক অনৈক্য দায়ী?
তারেক রহমানঃ সবে মাত্র নির্বাচন শেষ হলো-তাই এক্ষুণি কিছু বলা সম্ভব হবে না। তবে নির্বাচনে আমরা কী করলে ভাল করতে পারতাম এবং ভবিষ্যতে কী করা উচিত-তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আমরা সকলে বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। কীজন্যে এমন হল, কেন এমন হল তা দেখছি আমরা। প্রশ্নঃ ক্রস ফায়ারের ব্যাপারে বহির্বিশ্বেও সমালোচনা হচ্ছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডকে মানবাধিকার লংঘনের সামিল বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
তারেক রহমানঃ এ বিষয়টাকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কীভাবে দেখছে বলুন।
প্রশ্নঃ আমরা আপনার কাছে জানতে চাই। সাধারণ মানুষ হয়তো গ্রহণ করছেন?
তারেক রহমান ঃ দেশের মানুষ যেটাকে গ্রহন করবে সেটাই তো হবে। কেননা আমরা তো বাংলাদেশের মানুষের জন্যে রাজনীতি করছি। এ কথা বলেই ঠিকানার মাধ্যমে সকল প্রবাসী এবং বাংলাদেশীকে অভিনন্দন জানান তারেক রহমান।