দেশে ঈদ করার পরিকল্পনা বাদ দিচ্ছেন অনেক প্রবাসী

টিকিটের দাম অস্বাভাবিক

ঠিকানা রিপোর্ট : আগামী ২৮ জুন নিউইয়র্কে এবং ২৯ জুন বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্্যাপিত হবে। ২৭ জুন থেকে নিউইয়র্র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোর সামারের ছুটি শুরু হবে। কলেজের সামারের ছুটি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সামারের ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদ্্যাপন করার লক্ষ্যে অনেকেই সন্তানদের নিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এবার করোনা না থাকা অনেকেই দেশে ঈদ করতে চাইছেন। ইতিমধ্যে অনেকেই দেশে যাওয়ার জন্য টিকিট কিনেছেন। তবে যারা এখনো টিকিট কেনেননি, তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। বর্তমানে টিকিটের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এখন প্রতিটি টিকিটের দাম পড়ছে কমপক্ষে দুই হাজার ডলার। চারজনের একটি পরিবারের টিকিট বাবদ খরচ হচ্ছে আট হাজার ডলার। কেবল যাওয়া-আসাতেই আট হাজার ডলার খরচ। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা এবং পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের জন্য উপহার নিয়ে যাওয়া-সব মিলিয়ে খরচ অনেক বেশি। এই বাড়তি খরচ সংকুলান করা অনেকের জন্যই কঠিন। এ অবস্থায় অনেকেই দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করছেন।
যারা আগেভাগে টিকিট কিনেছেন, তারা প্রতিটি টিকিট ১২০০-১২৫০ ডলারের মধ্যে কিনেছেন। কিন্তু বর্তমানে একই টিকিটের দাম ২০০০-২৪০০ ডলার। এয়ারলাইন্সে সাধারণ ইকোনমি ক্লাসের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম এখন ২৩৮৮ ডলার। আরেকটি এয়ারলাইন্স দেখাচ্ছে ২০৬৪ ডলার। বিজনেস ক্লাসের টিকিট এখন দেখাচ্ছে সাড়ে তিন হাজার ডলার। একজন যাত্রী আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশে গিয়ে ফিরতে চাইছেন ৩০ আগস্ট। এই দিনে বিজনেস ক্লাসের একটি রিটার্ন টিকিটের দাম ৮০৫৫ ডলার পর্যন্ত রয়েছে। তবে নিউইয়র্কে টিকিটের দাম কোথাও বেশি কোথাও কম। কোনো কোনো ট্রাভেল এজেন্সি তুলনামূলক কম দামে টিকিট দিচ্ছে আবার কেউ কেউ বেশি দাম নিচ্ছে।
এ বিষয়ে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আটাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং স্কাইলাইন ট্রাভেলসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসুদ মোর্শেদ বলেন, আমরা চাইলেও কাস্টমারকে কম দামে টিকিট দিতে পারছি না। এখন কোনো যাত্রী ২৬ জুনের পর বাংলাদেশে যেতে চাইলে এবং আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে ফিরতে চাইলে তার জন্য টিকিটের দাম পড়বে দুই হাজার ডলারের মতো। টিকিটের দাম বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলোর কম দামের সব টিকিট বুকড হয়ে গেছে। যেসব টিকিটের দাম তুলনামূলক বেশি, বর্তমানে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে। আবার ইকোনমি ক্লাসের টিকিটের দামও সব সময় এক থাকে না। একই টিকিট কেউ ১২০০ ডলার, কেউ ১২৫০ ডলার, কেউবা ১৩০০ ডলার বা এর চেয়ে বেশি দামেও কিনেছেন। কারণ এয়ারলাইন্সের টিকিটের দাম সব সময় ওঠানামা করে। এখন যে দামে পাওয়া যাবে, সেটি এক ঘণ্টা পর একই দামে না-ও পাওয়া যেতে পারে। টিকিট যত বেশি বিক্রি হয়, দাম তত বাড়ে। আমরাও চাই ক্রেতারা কম দামেই টিকিট কিনুক। আসলে আমরা টিকিট বিক্রি করে খুব বেশি কমিশন পাই না। আটাবের সদস্য যেসব ট্রাভেল এজেন্সি আছে, এদের বেশির ভাগই ভালো ব্যবসা করতে পারছে না। মুষ্টিমেয় কয়েকটি এজেন্সি ভালো ব্যবসা করছে। আগের বছরগুলোতে দেখা গেছে, একটি এয়ারলাইন্স সামারে টিকিটের দাম কমালে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে অন্য এয়ারলাইন্সগুলোও টিকিটের দাম কমাত। এবার তা হচ্ছে না। তাই যারা দেশে যেতে চান, তারা যত আগে টিকিট কিনে রাখবেন, ততই ভালো হবে।
তিনি বলেন, গত বছর সামারে টিকিটের দাম ১৫০০-১৬০০ ডলারের মধ্যে ছিল। এবার সেটা দুই হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
জ্যাম্বো ট্রাভেলসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলী এ চৌধুরী বলেন, একটি পরিবারের তিনজনের জন্য আগে স্বাভাবিক দামেই টিকিট কিনেছিলাম। আগামী ১২ জুলাই দেশে যাওয়া এবং ৩০ আগস্ট ফেরার টিকিট কিনতে গিয়ে বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি, সাড়ে তিন হাজার ডলারের নিচে কোনো টিকিট কেনাই যাচ্ছে না। টিকিটের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বেচাবিক্রিও কমে গেছে। কারণ এত দাম দিয়ে টিকিট কিনে মানুষ দেশে যেতে চাইছে না।