দেশ প্রেমিক ও দলকে হৃদয়ে লালন করা একজন মানুষ

ডা. ফেরদৌস খন্দকার

ঠিকানা রিপোর্ট: ডা. ফেরদৌস খন্দকার দীর্ঘ দিন ধরেই প্রবাসে রয়েছেন। পেশায় একজন ডাক্তার। বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটসেই তার অফিস। যেখানে তিনি রোগীদের প্রতি নিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যারা অর্থ সংকটে রয়েছেন বা চিকিৎসা বীমা কার্ড নেই, তাদেরও কখনো বিমুখ করেননি। তার সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে মানব এবং দেশ সেবা। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও তিনি দেশ প্রেমিক ও তার প্রিয় দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে হৃদয়ে লালন করা একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ। দেশ এবং মানুষকে ভালবাসেন বলেই মানুষের কল্যাণে এবং মানুষকে সেবা দানের লক্ষ্যে নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ক্লিনিকসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। সব প্রতিষ্ঠানই মানব সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। কখনো ঐ সব প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ উপার্জনের ইচ্ছা ছিলো না, এখনো নেই। আপাদমস্তক মানবসেবী ডা. ফেরদৌস খন্দকারের জন্ম ১৯৭১ সালে কুমিল্লার দেবীদ্বারে। বাবা ফয়েজ খন্দকার ছিলেন বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। পূর্ব পুরুষের কেউ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। ডা. ফেরদৌস দুই সন্তানের জনক। ১৯৯১ সালে রাজনীতিতে হাতেখড়ি এডভোকেট সাহারা খাতুনের পোলিং এজেন্ট হিসাবে। সেই সময় তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু বাসা ছিলো ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। নির্বাচনের সময় হলে চলে আসতেন এলাকায় এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতেন। এডভোকেট সাহারা খাতুন তার আত্মীয়। ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন ইভেন্ট অর্গানাইজ করতেন। ছিলেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথের মিছিল মিটিং এ। ছাত্রলীগের রাজনীতির কারণে মাসের পর মাস চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়েছে। যে কারণে ঠিকমত পরীক্ষাও দিতে পারেননি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে উচ্চা শিক্ষার লক্ষ্যে পরিবার নিয়ে আমেরিকায় চলে আসেন। কিন্তু দল ও দেশকে সব সময় হৃদয়ে লালন করেছেন। আমেরিকায় আসার পর থেকেই দেশকে কীভাবে সাহার্য্য করা যায়, দেশের উন্নয়ন করা যায়- সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে ৮টি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। যেখানে প্রায় ১২৫ জন ডাক্তারসহ অন্যান্য কর্মচারিরা কাজ করছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্র লীগের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে ডা. ফেরদৌস খন্দকার।

নিউইয়র্কের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ জনের মত কর্মচারি কাজ করছেন। বাংলাদেশের দেবীদ্বারে ফয়েজুন্নেসা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০/৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়। নিজ এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি দেশের উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। সেই সাথে বাংলাদেশের গরীব এবং মেধাবি ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানো দি অপটিমিস্ট-এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ১৪ শত ছাত্রছাত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। মানুষের সেবা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের কারণে তাকে প্রতি বছর তিন / চার বার দেশে যেতে হয়। বাংলাদেশে গিয়ে তিনি বিনামূল্যে রোগী দেখেন। প্রতি বছরই আমেরিকার ডাক্তারদের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি বাংলাদেশে যান গরীব রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ওষুধ প্রদান করা হয়। সামাজিক গণমাধ্যমে চিকিৎসা বিষয়ক তার একটি চ্যানেল রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে অবহিত করেন। বর্তমানে এই চ্যানেলের ফলোয়ার প্রায় ৫ লাখ। এ ছাড়াও প্রবাসে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে জাতিজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উপস্থাপনের জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করেছেন।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র লীগের মিছিলে ডা. ফেরদৌস খন্দকার।

দলকে ভালবাসেন বলেই আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এ ছাড়াও জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হবার আগে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে একবার ডেকে পাঠিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়াও দিয়েছিলেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেন তাঁর ধানমন্ডির বাসার দ্বিতীয় তলায়। প্রায় ৪৫ মিনিটের সেই আলোচনায় মুখ্য বিষয় ছিলো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার আহবান এবং নিজ এলাকার প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করার সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি বলেছিলেন, নিজ এলাকার মাঠ দখল করতে পারবেন তো? তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডা. খন্দকার বিনয়ের সাথে বলেছিলেন- আপা আমার এখনো সময় হয়নি। আমার দুটো ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। তাদের মানুষ করে রাজনীতিতে আসতে চাই। ঐ বৈঠকের সময় তার সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও সাবেক এমপি ফখরুল ইসলাম মুন্সী। ঠিকানার এক প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌস খন্দকার বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশ দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা, দারিদ্র্য মুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আমাদের অনেক দিয়েছে, আমাদের উচিত এখন দেশকে দেয়ার।