দেড় যুগে সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ২৬৫ জনের প্রাণ গেছে : বাঘ মরেছে ১৫টি

খুলনা : সুন্দরবনে গত দেড় যুগে বাঘের আক্রমণে প্রাণ গেছে অন্তত ২৬৫ জন মানব সন্তানের। এ ছাড়া আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। অপর দিকে এ সময়ে পাশের গ্রামবাসীর হাতে বাঘ মারা গেছে ১৫টি। সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি সকালে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ সংলগ্ন মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী গ্রামে আড়াই বছর বয়সী একটি বাঘ শাবককে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী।
বাঘের আক্রমণে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগে ২৩৪ জন এবং পূর্ব বিভাগে ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের অধিকাংশই বনজীবী, যারা পাস নিয়ে বনজসম্পদ আহরণে গিয়ে বাঘের মুখে পড়েন। সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের সংরক্ষিত নথি থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসানের দেয়া তথ্য মতে, ২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত এই বিভাগে লোকালয়ে মোট ১৭টি বাঘ মারা পড়ে। এর মধ্যে বনসংলগ্ন মংলা ও শরণখোলা উপজেলার লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পাঁচটি বাঘকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে অন্তত চারটি বাঘের। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের সিডরের জলোচ্ছ্বাসে একটি বাঘ মারা যায়। বাকি আটটি বাঘ চোরা শিকারিদের হাতে নিহত হয়। এ সময়ে বাঘের আক্রমণে এক নারীসহ মোট ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডিএফও। নিহতদের মধ্যে ময়না নামে মংলা উপজেলার জয়মনিরগোল এলাকার এক বৃদ্ধ গ্রামবাসী ছাড়া বাকি সবাই বনজীবী। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার, ছয়জন মংলা উপজেলার, একজন রামপাল উপজেলার এবং অপর পাঁচজন খুলনা জেলার দাকোপ, পাইকগাছা ও বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। একই সময়ে চারটি পৃথক ঘটনায় বাঘের আক্রমণে একজন বনকর্মীসহ ৯ জন আহত হন।
অন্য দিকে গত ১৭ বছরে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে মোট ১৫টি বাঘমারা পড়েছে। এর মধ্যে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় আটটি বাঘ মানুষের পিটুনিতে মারা যায়। ২০০১ থেকে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সেখানে ২৩৪ জন নারী-পুরুষ বাঘের আক্রমণে মারা যান। তাদের অধিকাংশই বনজীবী ও সুন্দরবন সংলগ্ন নদী-খালে চিংড়ি রেণু আহরণকারী।
সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে সরকার ‘বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান ২০০৯-১৭’ বাস্তবায়ন করছে। ডিএফও মো. মদিনুল আহসান বলেন, এর অংশ হিসেবে বাঘ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি, বাঘের আক্রমণ থেকে বনসংলগ্ন লোকালয়ের জানমাল এবং মানুষের হাত থেকে লোকালয়ে চলে আসা বাঘ রক্ষায় ৮৯টি টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআর) গঠন করা হয়েছে। গত ১০ বছরে ৯টি বাঘ মানুষের হাতে মারা পড়ে। কিন্তু গত ২৩ জানুয়ারি গ্রামবাসীর হাতে মারা পড়া বাঘটি বাঁচানো যায়নি। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন দাবি করেন, বাঘটি রক্ষায় তারা প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর কারণে বাঘ শাবকটিকে বাঁচাতে পারেননি।