দোষী ফানুস, মানুষ নির্দোষ?

মোস্তফা কামাল : দোষটা কেবল এ প্রজন্মেরই? যুবা-বড়রা সহিশুদ্ধ? তাহলে তারাও কেন একচোখা-একচোখা স্রোতে ভাসছেন? তা বুঝতে কি খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দরকার? সাদা চোখে দেখা যায় না? ব্যক্তিভেদে হেরফের হলেও মোটাদাগে ছোট-বড় কে কম যাচ্ছে বেপরোয়াপনায়? কড়াকড়ির মধ্যেই এবারের থার্টি ফার্স্ট নাইটেও ফানুস উড়েছে। আতশবাজিও হয়েছে। ফানুস নিজে উড়েছে? পটকা ফুটেছে নিজে নিজেই?
বৈশ্বিক এবং স্থানিক বাস্তবতায় দেশে-দেশে গত কয়েক বছর ধরে নববর্ষে আনন্দ-উৎসব সীমিত রাখার চেষ্টা চলে। কড়া নির্দেশনা দেয় রাষ্ট্র। কিন্তু মানুষকে দমানো যায় না। সম্ভবত ভবিষ্যতেও দমানো যাবে না। এ এক কঠিন বাস্তবতা। তাই বলে বৈদ্যুতিক লাইনেও ফানুস ফেলতে হবে? তাও, মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক তারে? কিন্তু, আমরা বলি ফানুস পড়েছে। ফানুস কি আসলে পড়েছে, নাকি পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে? কে করেছে কাজটি? ভূতে?
বৈদ্যুতিক লাইনে ফেলা ফানুস আটকে থাকায় বছরের প্রথম দিনে মেট্রোরেল চলাচল থমকে গেছে দু’ঘণ্টা। দুর্ঘটনা রোধে মেট্রোরেল দু’ঘণ্টার আটকে রেখে ফানুস সরানো হয়েছে। এই তো আমরা! রুচি এবং মন-মননের কী সৌন্দর্য! বছরের প্রথমদিনে কী বার্তা মিললো? এ প্রজন্ম খারাপ হয়ে গেছে ধরনের গা-ছাড়া মন্তব্যই যথেষ্ট? পুলিশও খালাস?
পুলিশের পক্ষ থেকে তো কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিল আতশবাজি ও ফানুস নিয়ে। এছাড়া মেট্রোরেল ও লাইন পাহারার বিশেষ দায়িত্বও তাদের। কোথায় ছিল তারা? একেবারে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হোক, একটু মহড়া বা হাঁকডাকও দরকার ছিল না?
নতুন বছরের প্রথমদিনে আমাদের এ দৈন্যের সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকাকে দেখতে হয়েছে আমাদের। এমনিতেই বারবার এ তালিকায় উঠে আসছে ঢাকার নাম। বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় রবিবার (১ জানুয়ারি) সকালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দূষিত শহরের তালিকায় ৫ নম্বরে রাজধানী ঢাকা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে- একিউআই ঢাকার স্কোর ছিল ১৮৫। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের কি কোনো শত্রুতা আছে আমাদের সঙ্গে? ঢাকার বায়ুর এ দুর্দশায় আমরা দায়মুক্ত? আমরা বায়ু নষ্ট কম করছি? কিন্তু আয়ু চাই অনেক। অন্তত শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের কথাও কি একটু ভাবতে পারি না?
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন, ঢাকা।