দ্বিগুণ হবে ক্রীড়া বাজেট

স্পোর্টস রিপোর্ট : খেলাধুলার উন্নয়নে অর্থ সংকটের দিন শেষ হতে চলেছে। আগামী অর্থবছরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খেলাধুলার জন্য দ্বিগুণ বাজেট পেতে যাচ্ছে। নতুন অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা না হলেও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সরকারের উচ্চ মহল হতে আভাস পেয়েছে অর্থ বরাদ্দ বাড়বে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১২০ কোটি টাকার বাজেট চেয়েছে। যেখানে ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা আয়োজন এবং দেশ-বিদেশের খেলায় অংশগ্রহণ। এই তিনটি খাতের ওপর জোর দিয়ে বাজেট চাওয়া হয়। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খোঁজ নিয়ে জেনেছে তারা ১২০ কোটি টাকার বাজেট পাচ্ছে না। তবে প্রশিক্ষণ, খেলার আয়োজন এবং অংশগ্রহণের ওপর অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে। গত ২৮ এপ্রিল ক্রীড়া সচিব আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন ‘আমরা যে বাজেট চেয়েছিলাম সেটা পাচ্ছি না।’ কতো টাকা পাওয়া যাবে? এমন প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘ধরুন আমরা যদি অন্য সময় খেলাধুলার জন্য ২৫ কোটি টাকা পেয়ে থাকি এবার সেটা ৫০ কোটি টাকা হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয় যে বাজেট পেয়ে থাকে তার অর্ধেক চলে যায় যুব খাতে। বাকি অর্ধেক ক্রীড়া খাতে। প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণ আয়োজনের খাতে খরচ আছে। আমরা যদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলাম আর প্রশিক্ষণ দিলাম না তাতে কোনো লাভ হবে না। প্রশিক্ষণেরও একটা ব্যাপার আছে। আমাদের জাতীয় বাজেটের তুলনায় ক্রীড়া বাজেট খুবই কম। বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, বিওএর মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজাসহ অনেকেই ছিলেন বাজেট বিষয়ের সভায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি যা চেয়েছিলাম তার দ্বিগুণ অর্থ পাচ্ছি।’
তিন লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের তুলনায় ক্রীড়া বাজেট কিছুই না। এখন সরকারের ভান্ডার হতে ক্রীড়ার জন্য আলাদা করে বাজেট পেতে যাচ্ছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন মন্ত্রণালয় হতে ৪৯টি ফেডারেশনকে ৫ বছরের পরিকল্পনা তৈরি করে বাজেট চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৯টি ফেডারেশন সাড়া দিলেও ১০টি ফেডারেশন বাজেট পাঠায়নি। ক্রিকেট বোর্ডকে বলা হয়নি। কারণ তাদের সামর্থ্য আছে।
সরকারের কাছে এভাবে অর্থ চাওয়ার কথা আগে কখনো শোনা যায়নি। এবার মন্ত্রণালয় খেলাধুলাকে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে বাজেট পাঠিয়েছে।
ক্রীড়াবিদদের জন্য আরো একটি সুখবর আছে। একটি মাল্টি জিমনেশিয়াম স্থাপন করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘ দিনের একটি চাওয়া পূরণ করতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। সচিব আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন সব ফেডারেশনকে জিমনেশিয়াম করে দেওয়া সম্ভব না। আমরা একটি জিম করে দেব যেখানে ক্রীড়াবিদরা জিম করতে পারবে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জিমটি স্থাপন করা হবে। বিশ্বের আধুনিক সরঞ্জামও থাকবে। দেখভালের জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। তিনি জানান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ বিশ্বমানের একটি মাঠের আদলে তৈরি করা হবে।